ঢাকা ০৫:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘লাল বাড়ি’তে উঠছেন জামায়াতের আমির

জয়নাল আবেদিন
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:১৫:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর মিন্টো রোডের ২৯ নম্বর। বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবন হিসেবে পরিচিত ‘লাল বাড়ি’তে অবশেষে প্রাণ ফিরছে। ডা. শফিকুর রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির, এই বাড়িতে উঠবেন। ইতোমধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় তার নামে বাসভবন বরাদ্দ দিয়েছে। বর্তমানে বাড়িটির মেরামত, সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কাজ চলছে।

ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যিক তথ্য

ব্রিটিশ আমলে প্রায় আড়াই একর জায়গায় নির্মিত এই দোতলা লাল ভবন বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে পরিচিত।

১৯৯১ সালে ৫ম জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা আওয়ামী লীগ সভাপতি Sheikh Hasina এই বাড়িতে উঠেছিলেন।

১৯৯৬-২০০১ সালের মধ্যে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন Khaleda Zia নিয়মিত এই বাসভবন ব্যবহার করেছেন।

২০০১ সালে ছেড়ে যাওয়ার পর ২৫ বছর ধরে বাসভবনে কোনো বিরোধীদলীয় নেতা বসবাস করেননি।

বরাদ্দ ও সংস্কার কাজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এই বাড়ি জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নামে বরাদ্দ করেছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন প্রকৌশলী জানিয়েছেন, বাসভবনের প্রায় নব্বই ভাগ কাজ শেষ। এখন রাস্তা ও রঙের কাজ চলছে। আসবাবপত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বসানোর কাজ মূলত ভবিষ্যতের বাসিন্দার চাহিদার ওপর নির্ভর করবে।

রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু

১৯৯৬-২০০১ সালে এই বাড়ি বিএনপি-জামায়াতসহ চারদলীয় জোটের আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু ছিল। জোটের শীর্ষ নেতারা এখানে অসংখ্য বৈঠক করেছেন। দীর্ঘদিন খালি থাকার পর এবার জামায়াতের আমির বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে এই ঐতিহাসিক বাসভবনে উঠবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে দলীয় বা আমিরের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। জামায়াতে ইসলামীর একজন শীর্ষ নেতা জানান, “আমির বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। শপথের পর এবং আগে তিনি ইতিবাচক রাজনীতি করার অঙ্গীকার করেছেন।”

সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সংসদ সচিবালয় নিয়ম অনুসারেই বাড়ি বরাদ্দ দিয়েছে। তবে তিনি উঠবেন কিনা বা কবে উঠবেন, তা এখনো ঠিক হয়নি। অধিবেশন শুরু হলে দলীয় ফোরামে বিষয়টি আলোচনা করা হবে।

দীর্ঘ অপেক্ষার ইতিহাস

পূর্বে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিভিন্ন বিরোধীদলীয় নেতা বাড়িটি বরাদ্দ চেয়েও পায়নি। সর্বশেষ ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা জিএম কাদের বরাদ্দ পেয়েছিলেন, তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের কারণে তিনি এখানে ওঠেননি।

বর্তমান পরিস্থিতি

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন খালি থাকার কারণে বাসভবন অনেকটাই জরাজীর্ণ। মিন্টো রোডের এই নিভৃত বাসভবনের আশেপাশে মন্ত্রিপাড়া খ্যাত অন্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও আধিকারিক বাসভবন রয়েছে—যেমন: মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার, ডিএমপি কমিশনার, একজন বিচারপতি, একজন নির্বাচন কমিশনার, পররাষ্ট্র সচিব, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর বাসভবন।

এই বাড়িতে ডা. শফিকুর রহমানের বসবাসের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর বিরোধীদলীয় নেতার উপস্থিতি রাজনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

‘লাল বাড়ি’তে উঠছেন জামায়াতের আমির

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:১৫:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর মিন্টো রোডের ২৯ নম্বর। বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবন হিসেবে পরিচিত ‘লাল বাড়ি’তে অবশেষে প্রাণ ফিরছে। ডা. শফিকুর রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির, এই বাড়িতে উঠবেন। ইতোমধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় তার নামে বাসভবন বরাদ্দ দিয়েছে। বর্তমানে বাড়িটির মেরামত, সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কাজ চলছে।

ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যিক তথ্য

ব্রিটিশ আমলে প্রায় আড়াই একর জায়গায় নির্মিত এই দোতলা লাল ভবন বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে পরিচিত।

১৯৯১ সালে ৫ম জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা আওয়ামী লীগ সভাপতি Sheikh Hasina এই বাড়িতে উঠেছিলেন।

১৯৯৬-২০০১ সালের মধ্যে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন Khaleda Zia নিয়মিত এই বাসভবন ব্যবহার করেছেন।

২০০১ সালে ছেড়ে যাওয়ার পর ২৫ বছর ধরে বাসভবনে কোনো বিরোধীদলীয় নেতা বসবাস করেননি।

বরাদ্দ ও সংস্কার কাজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এই বাড়ি জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নামে বরাদ্দ করেছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন প্রকৌশলী জানিয়েছেন, বাসভবনের প্রায় নব্বই ভাগ কাজ শেষ। এখন রাস্তা ও রঙের কাজ চলছে। আসবাবপত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বসানোর কাজ মূলত ভবিষ্যতের বাসিন্দার চাহিদার ওপর নির্ভর করবে।

রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু

১৯৯৬-২০০১ সালে এই বাড়ি বিএনপি-জামায়াতসহ চারদলীয় জোটের আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু ছিল। জোটের শীর্ষ নেতারা এখানে অসংখ্য বৈঠক করেছেন। দীর্ঘদিন খালি থাকার পর এবার জামায়াতের আমির বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে এই ঐতিহাসিক বাসভবনে উঠবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে দলীয় বা আমিরের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। জামায়াতে ইসলামীর একজন শীর্ষ নেতা জানান, “আমির বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। শপথের পর এবং আগে তিনি ইতিবাচক রাজনীতি করার অঙ্গীকার করেছেন।”

সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সংসদ সচিবালয় নিয়ম অনুসারেই বাড়ি বরাদ্দ দিয়েছে। তবে তিনি উঠবেন কিনা বা কবে উঠবেন, তা এখনো ঠিক হয়নি। অধিবেশন শুরু হলে দলীয় ফোরামে বিষয়টি আলোচনা করা হবে।

দীর্ঘ অপেক্ষার ইতিহাস

পূর্বে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিভিন্ন বিরোধীদলীয় নেতা বাড়িটি বরাদ্দ চেয়েও পায়নি। সর্বশেষ ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা জিএম কাদের বরাদ্দ পেয়েছিলেন, তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের কারণে তিনি এখানে ওঠেননি।

বর্তমান পরিস্থিতি

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন খালি থাকার কারণে বাসভবন অনেকটাই জরাজীর্ণ। মিন্টো রোডের এই নিভৃত বাসভবনের আশেপাশে মন্ত্রিপাড়া খ্যাত অন্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও আধিকারিক বাসভবন রয়েছে—যেমন: মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার, ডিএমপি কমিশনার, একজন বিচারপতি, একজন নির্বাচন কমিশনার, পররাষ্ট্র সচিব, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর বাসভবন।

এই বাড়িতে ডা. শফিকুর রহমানের বসবাসের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর বিরোধীদলীয় নেতার উপস্থিতি রাজনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে।