ঢাকা ০৫:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আগাম মুকুলে রঙিন রাণীশংকৈল, বাম্পার ফলনের আশা

মোঃ বিপ্লব, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও)
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৫৪:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১২৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফাল্গুনের আগমনী বার্তায় রাণীশংকৈল উপজেলা সাজেছে নতুন রঙে ও প্রাণে। পলাশ ও শিমুলের লালচে আবেশের সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে আগাম আমের মুকুলের মিষ্টি সুবাস। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে সেই পরিচিত ঘ্রাণ, যা মধুমাসের আগমনের ইঙ্গিত দেয়।

উপজেলার বাচোর, নেকমরদ, ধর্মগড় ও কাশিপুর গ্রামের আমবাগানগুলোতে দেখা গেছে গাছে গাছে মুকুল ফুটতে শুরু করেছে। অনেক গাছে পাতার তুলনায় মুকুলের আধিক্য লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় চাষিরা জানিয়েছেন, আবহাওয়ার অনুকূলতা ও আমের জাতভেদের কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক মাস আগেই মুকুল ফোটতে শুরু করেছে। চলতি মাসের শেষ নাগাদ অধিকাংশ গাছে পূর্ণমাত্রায় মুকুল ফোটার আশা করা হচ্ছে।

চাষিরা ইতোমধ্যে গাছের পরিচর্যা শুরু করেছেন। নিয়মিত কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ, পরিমিত সেচ ও অন্যান্য যত্নের মাধ্যমে গাছগুলোকে সুস্থ রাখার চেষ্টা চলছে। বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এই বছর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশা প্রকাশ করছেন তারা।

স্থানীয় আমচাষি আব্দুল মালেক বলেন, “গত বছরের তুলনায় এবার মুকুল একটু আগে এসেছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলনও ভালো হবে বলে মনে করি। এখন সবচেয়ে প্রয়োজন অনুক‚ল আবহাওয়া ও ঝড়বৃষ্টি থেকে রক্ষা।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, রাণীশংকৈলের মাটি ও আবহাওয়া আম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা যদি অনুক‚ল থাকে এবং চাষিরা সঠিক পরিচর্যা করেন, তাহলে ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে সার্বিক পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

এক সময় সীমিত পরিসরে আম চাষ হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাণীশংকৈলে বাণিজ্যিকভাবে আম চাষের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। ধান ও অন্যান্য ফসলের তুলনায় লাভজনক হওয়ায় অনেক কৃষক নতুন আমবাগান গড়ে তুলছেন। নতুন ও উন্নত জাতের চারা রোপণেও ঝুঁকছেন অনেকে।

প্রকৃতির এই রূপান্তর শুধু চাষিদেরই নয়, সাধারণ মানুষকেও মুগ্ধ করছে। ভোরের আলোয় আমবাগানে হাঁটলে মুকুলের সুবাসে মন ভরে যায়, কোকিলের কুহুতান আর মুকুলের ঘ্রাণ মিলেমিশে জানান দিচ্ছে—মধুমাস আর বেশি দূরে নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আগাম মুকুলে রঙিন রাণীশংকৈল, বাম্পার ফলনের আশা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৫৪:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফাল্গুনের আগমনী বার্তায় রাণীশংকৈল উপজেলা সাজেছে নতুন রঙে ও প্রাণে। পলাশ ও শিমুলের লালচে আবেশের সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে আগাম আমের মুকুলের মিষ্টি সুবাস। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে সেই পরিচিত ঘ্রাণ, যা মধুমাসের আগমনের ইঙ্গিত দেয়।

উপজেলার বাচোর, নেকমরদ, ধর্মগড় ও কাশিপুর গ্রামের আমবাগানগুলোতে দেখা গেছে গাছে গাছে মুকুল ফুটতে শুরু করেছে। অনেক গাছে পাতার তুলনায় মুকুলের আধিক্য লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় চাষিরা জানিয়েছেন, আবহাওয়ার অনুকূলতা ও আমের জাতভেদের কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক মাস আগেই মুকুল ফোটতে শুরু করেছে। চলতি মাসের শেষ নাগাদ অধিকাংশ গাছে পূর্ণমাত্রায় মুকুল ফোটার আশা করা হচ্ছে।

চাষিরা ইতোমধ্যে গাছের পরিচর্যা শুরু করেছেন। নিয়মিত কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ, পরিমিত সেচ ও অন্যান্য যত্নের মাধ্যমে গাছগুলোকে সুস্থ রাখার চেষ্টা চলছে। বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এই বছর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশা প্রকাশ করছেন তারা।

স্থানীয় আমচাষি আব্দুল মালেক বলেন, “গত বছরের তুলনায় এবার মুকুল একটু আগে এসেছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলনও ভালো হবে বলে মনে করি। এখন সবচেয়ে প্রয়োজন অনুক‚ল আবহাওয়া ও ঝড়বৃষ্টি থেকে রক্ষা।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, রাণীশংকৈলের মাটি ও আবহাওয়া আম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা যদি অনুক‚ল থাকে এবং চাষিরা সঠিক পরিচর্যা করেন, তাহলে ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে সার্বিক পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

এক সময় সীমিত পরিসরে আম চাষ হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাণীশংকৈলে বাণিজ্যিকভাবে আম চাষের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। ধান ও অন্যান্য ফসলের তুলনায় লাভজনক হওয়ায় অনেক কৃষক নতুন আমবাগান গড়ে তুলছেন। নতুন ও উন্নত জাতের চারা রোপণেও ঝুঁকছেন অনেকে।

প্রকৃতির এই রূপান্তর শুধু চাষিদেরই নয়, সাধারণ মানুষকেও মুগ্ধ করছে। ভোরের আলোয় আমবাগানে হাঁটলে মুকুলের সুবাসে মন ভরে যায়, কোকিলের কুহুতান আর মুকুলের ঘ্রাণ মিলেমিশে জানান দিচ্ছে—মধুমাস আর বেশি দূরে নেই।