ঢাকা ০৫:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিশেষ প্রতিবেদন/ ২১ বছর ধরে তালপাতায় শিক্ষার আলো

আবু হানিফ, বাগেরহাট
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:১২:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার দক্ষিণ ডুমুরিয়া গ্রামে অবস্থিত ‘শিশু শিক্ষা নিকেতন’ পাঠশালায় গত ২১ বছর ধরে শিশুদের শিক্ষার হাতেখড়ি চলছে তালপাতায়। ডিজিটাল যুগে অদ্ভুত মনে হলেও এখানে দোয়াতে ভরা কয়লার কালি, বাঁশের কঞ্চির কলম ও তালপাতার মাধ্যমে অক্ষর চর্চা করানো হয়।

বর্তমানে পাঠশালায় প্রায় ৫০ জন শিশু নিয়মিত পড়াশোনা করছে। আশপাশের অন্তত পাঁচটি গ্রাম থেকে শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপস্থিত থাকে। ৮০ বছর বয়সী একমাত্র শিক্ষক পন্ডিত কালিপদ বিশ্বাস নিজ হাতে শিশুদের তালপাতায় অক্ষর লেখার কৌশল শেখান।

Bagerhat Pic 2 23. 02. 2026

পন্ডিত কালিপদ বিশ্বাস বাংলা টাইমসকে জানিয়েছেন, ২০০৫ সালে স্থানীয়রা তাদের শিশুদের সুন্দর হাতের লেখা ও গ্রামীণ ঐতিহ্য রক্ষার জন্য পাঠশালাটি প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে কয়েকজন শিশু নিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও বর্তমানে অর্ধশতাধিক শিশু এখানে লেখাপড়া করছে।

শিশুরা প্রথমে স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ শিখে, পরে বানান, যুক্তাক্ষর, শতকিয়া, নামতা এবং ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা অর্জন করে। দুই বছর ধরে তালপাতায় শিক্ষার পর শিশুদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি উপযোগী করে তোলা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা সুকুমার মন্ডল বলেন, “ডিজিটাল যুগে শিশুরা স্মার্টফোন ও ট্যাবের মাধ্যমে শিক্ষা নিচ্ছে, কিন্তু আমাদের এই ছোট্ট গ্রামে তালপাতার মাধ্যমে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন প্রবীণ শিক্ষক। এটি শুধু শিক্ষারই নয়, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার দৃষ্টান্তও।”

Bagerhat Pic 5 23. 02. 2026

অভিভাবক সিতা রানী জানান, কালিপদ স্যার শিশুদের অক্ষর শেখান পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা ও শৃঙ্খলাও দেন। প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মাসে মাত্র ১৫০ টাকা নেওয়া হয়, যা দিয়ে তালপাতা, দোয়াতের কালি ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ করা হয়।

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বাংলা টাইমসকে বলেছেন, “এই পাঠশালাটি আমাদের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা ব্যবস্থার একটি জীবন্ত নিদর্শন। তালপাতায় শিক্ষার মাধ্যমে বর্তমান প্রজন্ম আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির কথা স্মরণ করবে। পাঠশালার অবকাঠামোগত উন্নয়নে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

এই পাঠশালা গ্রামীণ বাংলার শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বিশেষ প্রতিবেদন/ ২১ বছর ধরে তালপাতায় শিক্ষার আলো

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:১২:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার দক্ষিণ ডুমুরিয়া গ্রামে অবস্থিত ‘শিশু শিক্ষা নিকেতন’ পাঠশালায় গত ২১ বছর ধরে শিশুদের শিক্ষার হাতেখড়ি চলছে তালপাতায়। ডিজিটাল যুগে অদ্ভুত মনে হলেও এখানে দোয়াতে ভরা কয়লার কালি, বাঁশের কঞ্চির কলম ও তালপাতার মাধ্যমে অক্ষর চর্চা করানো হয়।

বর্তমানে পাঠশালায় প্রায় ৫০ জন শিশু নিয়মিত পড়াশোনা করছে। আশপাশের অন্তত পাঁচটি গ্রাম থেকে শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপস্থিত থাকে। ৮০ বছর বয়সী একমাত্র শিক্ষক পন্ডিত কালিপদ বিশ্বাস নিজ হাতে শিশুদের তালপাতায় অক্ষর লেখার কৌশল শেখান।

Bagerhat Pic 2 23. 02. 2026

পন্ডিত কালিপদ বিশ্বাস বাংলা টাইমসকে জানিয়েছেন, ২০০৫ সালে স্থানীয়রা তাদের শিশুদের সুন্দর হাতের লেখা ও গ্রামীণ ঐতিহ্য রক্ষার জন্য পাঠশালাটি প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে কয়েকজন শিশু নিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও বর্তমানে অর্ধশতাধিক শিশু এখানে লেখাপড়া করছে।

শিশুরা প্রথমে স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ শিখে, পরে বানান, যুক্তাক্ষর, শতকিয়া, নামতা এবং ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা অর্জন করে। দুই বছর ধরে তালপাতায় শিক্ষার পর শিশুদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি উপযোগী করে তোলা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা সুকুমার মন্ডল বলেন, “ডিজিটাল যুগে শিশুরা স্মার্টফোন ও ট্যাবের মাধ্যমে শিক্ষা নিচ্ছে, কিন্তু আমাদের এই ছোট্ট গ্রামে তালপাতার মাধ্যমে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন প্রবীণ শিক্ষক। এটি শুধু শিক্ষারই নয়, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার দৃষ্টান্তও।”

Bagerhat Pic 5 23. 02. 2026

অভিভাবক সিতা রানী জানান, কালিপদ স্যার শিশুদের অক্ষর শেখান পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা ও শৃঙ্খলাও দেন। প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মাসে মাত্র ১৫০ টাকা নেওয়া হয়, যা দিয়ে তালপাতা, দোয়াতের কালি ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ করা হয়।

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বাংলা টাইমসকে বলেছেন, “এই পাঠশালাটি আমাদের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা ব্যবস্থার একটি জীবন্ত নিদর্শন। তালপাতায় শিক্ষার মাধ্যমে বর্তমান প্রজন্ম আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির কথা স্মরণ করবে। পাঠশালার অবকাঠামোগত উন্নয়নে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

এই পাঠশালা গ্রামীণ বাংলার শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে আছে।