ঢাকা ০৫:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শীতজুড়ে প্রাণের উচ্ছ্বাস, গরমে ফাঁকা রামরায় দীঘি

মোঃ বিপ্লব, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও)
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৩৭:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রামরায় দীঘি শীত এলেই যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায়। কনকনে হাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চারপাশের নীরবতা ভেঙে মুখর হয়ে ওঠে হাজারো অতিথি পাখির কলতানে। দূর দেশ থেকে খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটে আসে নানা প্রজাতির পরিযায়ী পাখি। তবে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করলেই একে একে তারা ফিরে যায় নিজেদের দেশে।

উপজেলা সদর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ৪২ দশমিক ২০ একর আয়তনের এই প্রাচীন দীঘির মধ্যে প্রায় ২৩ দশমিক ৮২ একরজুড়ে জলরাশি এবং বাকি অংশ উঁচু পাড়ে ঘেরা। উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ৯০০ মিটার এবং পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় ৪০০ মিটার বিস্তৃত এ জলাশয়ের বয়স স্থানীয়দের মতে পাঁচশ থেকে এক হাজার বছরের মধ্যে। ২০০২ সালে এর নাম ‘রানী সাগর’ রাখা হলেও মানুষের মুখে এখনো ‘রামরায় দীঘি’ নামটিই বেশি প্রচলিত।

একসময় এলাকার মানুষের পানির প্রধান উৎস ছিল এই দীঘি। বর্তমানে এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। চারপাশে প্রায় ১,২০০ লিচুগাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির সবুজ বৃক্ষরাজি দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

প্রতি বছর ডিসেম্বরের শেষ থেকে জানুয়ারির শুরুতে উত্তর মেরু অঞ্চল, ইউরোপ, সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, তিব্বত ও হিমালয়ের পাদদেশ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি এখানে আসে। সাদা বক, পানকৌড়ি, সারস, গাংচিল, পাতিহাঁস, বুনোহাঁস, খঞ্জনা, ওয়ার্বলার ও কাদাখোঁচাসহ নানা প্রজাতির পাখির সমাগমে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে এক পাখির অভয়ারণ্য।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দীঘির আকাশজুড়ে থাকে পাখির ওড়াউড়ি ও কলরব। সন্ধ্যা হলে তারা আশ্রয় নেয় দীঘির পাড়ের লিচুবাগানে। এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকরা।

দর্শনার্থী মিলা চৌধুরীর মতে, রামরায় দীঘি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি পর্যটনকেন্দ্র। তবে অতিথি পাখিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

দীঘির কেয়ারটেকার এনামুল জানান, শীতকালেই পাখির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি থাকে। মার্চের শেষ দিকে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করলে তারা নিজ নিজ দেশে ফিরে যায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাজিদা বেগম বলেন, দীঘির উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। পাড়ে সিসি রাস্তা নির্মাণের পাশাপাশি বসার ছাউনি, মাচা, নৌকা, কাঠের সেতু, মুক্তমঞ্চ ও রাত্রিযাপনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। অতিথি পাখি সংরক্ষণে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে এবং পাখি শিকার করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্য এবং জীববৈচিত্র্যের অনন্য সমন্বয়ে রামরায় দীঘি এখন উত্তরাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য। শীতের শেষভাগে পাখিদের বিদায়ের আগে এই মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীদের ভিড়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

শীতজুড়ে প্রাণের উচ্ছ্বাস, গরমে ফাঁকা রামরায় দীঘি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৩৭:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রামরায় দীঘি শীত এলেই যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায়। কনকনে হাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চারপাশের নীরবতা ভেঙে মুখর হয়ে ওঠে হাজারো অতিথি পাখির কলতানে। দূর দেশ থেকে খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটে আসে নানা প্রজাতির পরিযায়ী পাখি। তবে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করলেই একে একে তারা ফিরে যায় নিজেদের দেশে।

উপজেলা সদর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ৪২ দশমিক ২০ একর আয়তনের এই প্রাচীন দীঘির মধ্যে প্রায় ২৩ দশমিক ৮২ একরজুড়ে জলরাশি এবং বাকি অংশ উঁচু পাড়ে ঘেরা। উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ৯০০ মিটার এবং পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় ৪০০ মিটার বিস্তৃত এ জলাশয়ের বয়স স্থানীয়দের মতে পাঁচশ থেকে এক হাজার বছরের মধ্যে। ২০০২ সালে এর নাম ‘রানী সাগর’ রাখা হলেও মানুষের মুখে এখনো ‘রামরায় দীঘি’ নামটিই বেশি প্রচলিত।

একসময় এলাকার মানুষের পানির প্রধান উৎস ছিল এই দীঘি। বর্তমানে এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। চারপাশে প্রায় ১,২০০ লিচুগাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির সবুজ বৃক্ষরাজি দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

প্রতি বছর ডিসেম্বরের শেষ থেকে জানুয়ারির শুরুতে উত্তর মেরু অঞ্চল, ইউরোপ, সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, তিব্বত ও হিমালয়ের পাদদেশ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি এখানে আসে। সাদা বক, পানকৌড়ি, সারস, গাংচিল, পাতিহাঁস, বুনোহাঁস, খঞ্জনা, ওয়ার্বলার ও কাদাখোঁচাসহ নানা প্রজাতির পাখির সমাগমে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে এক পাখির অভয়ারণ্য।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দীঘির আকাশজুড়ে থাকে পাখির ওড়াউড়ি ও কলরব। সন্ধ্যা হলে তারা আশ্রয় নেয় দীঘির পাড়ের লিচুবাগানে। এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকরা।

দর্শনার্থী মিলা চৌধুরীর মতে, রামরায় দীঘি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি পর্যটনকেন্দ্র। তবে অতিথি পাখিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

দীঘির কেয়ারটেকার এনামুল জানান, শীতকালেই পাখির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি থাকে। মার্চের শেষ দিকে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করলে তারা নিজ নিজ দেশে ফিরে যায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাজিদা বেগম বলেন, দীঘির উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। পাড়ে সিসি রাস্তা নির্মাণের পাশাপাশি বসার ছাউনি, মাচা, নৌকা, কাঠের সেতু, মুক্তমঞ্চ ও রাত্রিযাপনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। অতিথি পাখি সংরক্ষণে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে এবং পাখি শিকার করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্য এবং জীববৈচিত্র্যের অনন্য সমন্বয়ে রামরায় দীঘি এখন উত্তরাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য। শীতের শেষভাগে পাখিদের বিদায়ের আগে এই মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীদের ভিড়।