নির্বাচনে বড় উত্থান, নতুন সমীকরণে জামায়াত

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:১৩:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন জয়ের নতুন নজির গড়েছে জামায়াত। এর আগে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১৮টি আসনে জিতেছিলেন দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীরা। এ বার জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন।
দেশের দক্ষিণ লাগোয়া সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহের ‘পুরনো ঘাঁটি’র পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ লাগোয়া রংপুরেও ভাল ফল করেছে জামায়াত ইসলামী ও তার সহযোগীরা।
এ বারের ভোটের ফল মূলস্রোতের রাজনীতিতে প্রথম বার বড় শক্তি হিসাবে আত্মপ্রকাশের সুযোগ করে দিয়েছে তাদের।
ভোটে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলের জোটের অংশ ছিল ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের ছাত্রনেতাদের একাংশের গড়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মতো ইসলামপন্থী দলগুলি।
ভোটের পরে কেন্দ্রওয়াড়ি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, অন্তত তিন ডজন কেন্দ্রে জয়ী বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে কড়া টক্কর দিয়েছে এই জোট। আসনরফা নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে ‘বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইসলামপন্থী দল’ হিসাবে পরিচিত ‘ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ’-এর প্রধান সৈয়দ রেজাউল করিম (‘চরমোনাই পীর’ নামে পরিচিত ধর্মগুরু) আলাদাভাবে আড়াইশোর বেশি আসনে প্রার্থী না দিলে বিএনপি এ বার আরও চাপে পড়ত বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
অথচ মাত্র আট বছর আগে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই জামায়াত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল বিএনপির ‘ধানের শিষ’ প্রতীকে! সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সে দেশের নির্বাচন কমিশন যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত জামাতের ‘রাজনৈতিক দল’ হিসাবে স্বীকৃতি বাতিল করায় তৎকালীন বিএনপি প্রধান তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জ়িয়া ২২টি আসন ছেড়েছিলেন জামায়াতকে।
বস্তুত, এ বারের নির্বাচনেও মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্যবাহী প্রধান শক্তি আওয়ামী লীগের উপর জামাত ‘ভর’ করেছে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। ভোটের ফল দেখে অনেকে মনে করছেন, ‘নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের একাংশের ভোট জামাতের দিকে গেছে।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এ বার ছিল একেবারে ভিন্ন। ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ থেকে জন্ম নেওয়া হিংসাত্মক গণবিক্ষোভের জেরে ২০২৮ সালের ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
নতুন ভাবমূর্তি গড়ে তোলার চেষ্টায় সংখ্যালঘু, বিশেষত হিন্দুদের সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব এবং সৌভ্রাতৃত্বের কথাও ভোটের আগে বার বার বলেছেন জামায়াতের নেতারা। এমনকি, খুলনা-৩ আসনে কৃষ্ণ নন্দী নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকেও প্রার্থী করেছিলেন তারা।























