নদীভাঙনের চরে আশার ফসল—গোল বেগুনেই হাসছে ইসলামপুর
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৩০:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
কাঁসা, বেগুন আর গুড়—এই তিনে পরিচিত ইসলামপুর উপজেলা। এর মধ্যে গোল বেগুন এখন শুধু পরিচয়ের অনুষঙ্গ নয়, বরং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার প্রধান হাতিয়ার। ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর তীরবর্তী উর্বর বেলে দোঁআশ মাটিতে বেগুন চাষ করে উপজেলার প্রায় অর্ধলক্ষাধিক কৃষক সচ্ছল জীবনযাপন করছেন।
ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্বতীর ঘেঁষা চিনাডুলী, চরগোয়ালিনী, চরপুঁটিমারী, গাইবান্ধা, পলবান্ধা ও গোয়ালেরচর ইউনিয়নের কৃষকরা বেগুন চাষের ওপরই বেশি নির্ভরশীল। এ অঞ্চলের গোল বেগুন দেশজুড়ে পরিচিত ও চাহিদাসম্পন্ন।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদের চরাঞ্চলে ৮৫ হাজার মেট্রিক টন বেগুন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এ লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ১ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের বেগুন চাষ করা হলেও বাস্তবে উৎপাদন হয়েছে লক্ষ্যের দ্বিগুণেরও বেশি। ফলে চরাঞ্চলের কৃষকরা সকাল-বিকাল ক্ষেতেই পাচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। এজন্য তারা বেগুন ক্ষেতকে ‘টাকার গাছ’ বলেই আখ্যা দিচ্ছেন।
চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের কান্দারচর গ্রামের কৃষক আজগর আলী জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও তিনি সাত বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করে দ্বিগুণ লাভ করেছেন। তার ভাষায়, “বেগুনই এখন সবচেয়ে বড় অর্থকরী ফসল। এই চাষ থেকেই পরিবারের ভাত-কাপড় ও সারা বছরের খরচ চলে।”
চরপুঁটিমারী ইউনিয়নের আকন্দপাড়া গ্রামের শহিজল আলী বলেন, এক বিঘা জমিতে বেগুন চাষে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। চারা রোপণের দুই মাসের মধ্যেই সেই খরচ উঠে এসেছে। একই ইউনিয়নের ডিগ্রীরচর গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হক জানান, জমির বেগুন গাছ প্রায় শেষ পর্যায়ে হলেও প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ফলন পেয়েছেন।
ডিগ্রীরচর গ্রামের আরেক কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, “এ বছর এক বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করেছি।” একইভাবে গাইবান্ধা ইউনিয়নের তেঘুরিয়া গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন, মুছা সর্দার, ফজলুল হক, মজনু মিয়া, দানেছ আলী, ইন্তাজ আলী ও মোশারফ মন্ডলসহ উপজেলার নয় শতাধিক কৃষক বেগুন চাষে স্বাবলম্বী হয়েছেন।
ইসলামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল বাংলা টাইমসকে জানান, নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে অধিকাংশ বেগুন চাষিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। শীতকালীন বেগুন চাষে নিয়মিত মাঠপর্যায়ে খোঁজখবর ও পরামর্শ দেওয়ার ফলে উৎপাদন বেড়েছে এবং কৃষকরা লাভবান হয়েছেন।



















