জুবিন গর্গের মৃত্যু নিয়ে নতুন তথ্য, সিঙ্গাপুরে আলোড়ন
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৩২:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬ ৮৬ বার পড়া হয়েছে
অসমের জনপ্রিয় গায়ক, গীতিকার ও সুরকার জুবিন গর্গের রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে সিঙ্গাপুরে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সিঙ্গাপুরে ইয়ট দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। বুধবার এই ঘটনা নিয়ে সিঙ্গাপুরের করোনার কোর্টে শুনানির সময় তদন্তকারী কর্মকর্তারা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করেন, যা মৃত্যু ঘিরে বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।
আদালতে জানানো হয়, ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর একটি ইয়ট পার্টিতে অংশ নিয়েছিলেন ৫২ বছর বয়সী জুবিন গর্গ। পরদিন তাঁর ‘নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যাল’-এ পারফর্ম করার কথা ছিল। কিন্তু আগের দিনই সমুদ্রে সাঁতারের সময় ডুবে মৃত্যু হয় তাঁর।
তদন্ত কর্মকর্তার দাবি—জুবিন প্রথমে লাইফ জ্যাকেট পরলেও সাঁতার কাটার সময় সেটি খুলে ফেলেন। পরে দ্বিতীয় একটি ছোট লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হলেও তিনি তা পরতে অস্বীকার করেন।
Channel News Asia–র প্রতিবেদনে বলা হয়, এরপর তিনি একাই লাজারাস আইল্যান্ডের দিকে সাঁতার কাটতে শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি দুর্বল হয়ে পড়েন, পরে নিস্তেজ অবস্থায় পানি ভেসে থাকেন। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে ইয়টে তুলে সিপিআর দেওয়া হলেও সেদিনই তাঁর মৃত্যু ঘোষণা করা হয়।
আদালতে আরও তুলে ধরা হয়— তাঁর আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ ও মৃগীরোগ (এপিলেপসি) ছিল, ২০২৪ সালে তাঁর শেষ এপিলেপটিক অ্যাটাক হয়েছিল, মৃত্যুর দিন ওষুধ নিয়মিত নিয়েছিলেন কি না, নিশ্চিত নয়, রক্তে এপিলেপসি ও উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ পাওয়া গেছে, অন্য কোনও মাদক পাওয়া যায়নি। তবে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ।
ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল— ৩৩৩ মিলিগ্রাম/১০০ মিলিলিটার, যা অত্যন্ত উচ্চ মাত্রার নেশা স্তর।ইয়টে থাকা একাধিক সাক্ষী জানান—জুবিন জিন, হুইস্কি, মদ ও গিনেস স্টাউট পান করেছিলেন।
ইয়টের ক্যাপ্টেন ‘ক্রেজি মাঙ্কি’ আদালতে বলেন—“সে তখন ঠিকমতো হাঁটতেও পারছিল না। আমি তার বন্ধুদের বলেছিলাম—লাইফ জ্যাকেট ছাড়া জলে নামা বিপজ্জনক।”
ফরেনসিক মত: ‘ডুবে মৃত্যু’
পোস্টমর্টেম রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ স্পষ্টভাবে ডুবে মৃত্যু বলা হয়েছে। শরীরে পাওয়া চিহ্নগুলো উদ্ধার ও সিপিআরের সময় হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এপিলেপসির কারণে জিহ্বায় কামড়ের মতো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
সিঙ্গাপুর পুলিশ জানায়—
এই ঘটনায় অপরাধমূলক কোনও দিক তারা দেখছে না। ভারতে ভিন্ন চিত্র—৬০টিরও বেশি এফআইআর। কিন্তু ভারতে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। অসমে জুবিনের মৃত্যু ঘিরে এখনো বড় পরিসরে তদন্ত চলছে। সেখানে—
✔ ৬০টির বেশি এফআইআর
✔ সিআইডির বিশেষ তদন্ত দল
✔ ৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন—
ফেস্টিভ্যাল আয়োজক
জুবিনের সচিব
দুই ব্যান্ড সদস্য
তাঁর এক আত্মীয় (সাসপেন্ডেড পুলিশ অফিসার)
ভারতের অভিযোগগুলো মূলত—
খুন
অপরাধমূলক অবহেলা
সাজানো দুর্ঘটনা
দুই দেশের তদন্তেই দ্বন্দ্ব
একদিকে সিঙ্গাপুরে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু, অন্যদিকে অসমে অপরাধমূলক মৃত্যু—এই দ্বৈরথ জুবিনের মৃত্যু রহস্যকে আরও জটিল করেছে।
অসম ও উত্তর-পূর্ব ভারতের লাখো ভক্তের কাছে জনপ্রিয় এই শিল্পীর অকালপ্রয়াণ এখনো অনেক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে—তার উত্তর মিলছে না সহজে।





















