ঢাকা ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিএনপি নেতা আলমগীর খুন

১৫ লাখ টাকার চুক্তিতে হত্যা, মিশনে ছিলো ৭ জন

শহিদুল ইসলাম দইচ, যশোর
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৫৯:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ ৬৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যশোরের বহুলালোচিত বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যায় আটক শাহিন কাজী আদালতে স্বীকারোক্তি জবানবন্দি দিয়েছে। সে জানিয়েছে হত্যা মিশনে তারা তিন মোটরসাইকেলে ৭জন অংশ নেন। আলমগীরের জামাই পরশের পরিকল্পনায় ১৫ লাখ টাকা চুক্তিতে তারা এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। হত্যার আগে পেয়েছিল এক লাখ টাকা।

সোমবার রাতে যশোর শহরের লোন অফিসপাড়া থেকে আটক করা হয় শাহিন কাজীকে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে আদালতে সোপর্দ করা হলে সে জবানবন্দি দেয়। অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আটক শাহিন কাজী যশোর শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া তুলোতলা মোড় এলাকার কিসলু কাজীর ছেলে। তিনি শহরের লোন অফিসপাড়ার সদর ফাঁড়ির সামনে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

এর আগে আলমগীর হোসেন হত্যান্ডের পরিকল্পনাকারী জামাই পরশ ও তার সহযোগী সাগর ও শুটার মিশুককে আটক করে পুলিশ।

আটক শাহিন কাজীর দেয়া তথ্যে জানা গেছে, পরশ নিহত আলমগীর হোসেনের জামাই। শ্বশুর আলমগীরের অবর্তমানে তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিজের আয়ত্বে নিতে এ হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা করে পরশ। গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় পরশের সাথে শাহিন কাজীসহ হত্যা মিশনের সকলে একসাথে বসে মাদক সেবন করে। এসময় পরশ তার শ্বশুরকে হত্যা করতে বলে এবং তাদের সাথে ১৫ লাখ টাকার চুক্তি হয়। পরবর্তীতে পরশের দেয়া অস্ত্র ও এক লাখ টাকা নিয়ে তারা তিন মোটরসাইকেলে ৭জন বেড়িয়ে যায়।

জবানবন্দিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, আলমগীর হোসেন সন্ধ্যায় অফিস থেকে বেরিয়ে বাড়ির দিকে রওয়ান দিলে তাকে অনুসরণ করে তিন মোটরসাইকেল থাকা হত্যা মিশনের সদস্যরা। এরপর শংকরপুর বটতলা মোড় থেকে বাড়ির দিকের রাস্তায় এগিয়ে গেলে সামনে ফাঁকা জায়গায় আলমগীরের পিছনে আসা মোটরসাকেল থেকে মিশুক গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। এরপর পরের মোটরসইকেলে থাকা অপর দুইজন মিশুকের মোটরসাইকেল অনুসরণ করে চলে যায়। আলমগীর হোসেন মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যাওয়ার পর গুলি লেগেছে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে শাহিন কাজীসহ আরো তিনজন মোটরসাইকেলে ঘুরিয়ে আবার পিছনের দিকে চলে যায়। ঘটনার রাতে চুক্তি অনুযায়ী আরও ৪ লাখ টাকা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু পুলিশি তৎপরতার কারণে তারা এ টাকা নিতে পারেনি বলে জানিয়েছে শাহিন কাজী।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই অলক কুমার দে জানিয়েছেন, এ হত্যাকান্ডে জড়িত অন্যদের ধরতে এবং ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে।

উল্লেখ, গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রসাীরা। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শামীমা বেগম জামাই পরশ ও তার সহযোগী সাগরকে আসামি করে কোতয়ালি থানায় মামলা করেন। পুলিশ ঘটনার পরপর জামাই পরশ ও তার সহযোগী সাগরকে আটক করেছিল। পরবর্তীতে শুটার মিশুককে আটক করে পুলিশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বিএনপি নেতা আলমগীর খুন

১৫ লাখ টাকার চুক্তিতে হত্যা, মিশনে ছিলো ৭ জন

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৫৯:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

যশোরের বহুলালোচিত বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যায় আটক শাহিন কাজী আদালতে স্বীকারোক্তি জবানবন্দি দিয়েছে। সে জানিয়েছে হত্যা মিশনে তারা তিন মোটরসাইকেলে ৭জন অংশ নেন। আলমগীরের জামাই পরশের পরিকল্পনায় ১৫ লাখ টাকা চুক্তিতে তারা এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। হত্যার আগে পেয়েছিল এক লাখ টাকা।

সোমবার রাতে যশোর শহরের লোন অফিসপাড়া থেকে আটক করা হয় শাহিন কাজীকে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে আদালতে সোপর্দ করা হলে সে জবানবন্দি দেয়। অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আটক শাহিন কাজী যশোর শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া তুলোতলা মোড় এলাকার কিসলু কাজীর ছেলে। তিনি শহরের লোন অফিসপাড়ার সদর ফাঁড়ির সামনে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

এর আগে আলমগীর হোসেন হত্যান্ডের পরিকল্পনাকারী জামাই পরশ ও তার সহযোগী সাগর ও শুটার মিশুককে আটক করে পুলিশ।

আটক শাহিন কাজীর দেয়া তথ্যে জানা গেছে, পরশ নিহত আলমগীর হোসেনের জামাই। শ্বশুর আলমগীরের অবর্তমানে তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিজের আয়ত্বে নিতে এ হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা করে পরশ। গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় পরশের সাথে শাহিন কাজীসহ হত্যা মিশনের সকলে একসাথে বসে মাদক সেবন করে। এসময় পরশ তার শ্বশুরকে হত্যা করতে বলে এবং তাদের সাথে ১৫ লাখ টাকার চুক্তি হয়। পরবর্তীতে পরশের দেয়া অস্ত্র ও এক লাখ টাকা নিয়ে তারা তিন মোটরসাইকেলে ৭জন বেড়িয়ে যায়।

জবানবন্দিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, আলমগীর হোসেন সন্ধ্যায় অফিস থেকে বেরিয়ে বাড়ির দিকে রওয়ান দিলে তাকে অনুসরণ করে তিন মোটরসাইকেল থাকা হত্যা মিশনের সদস্যরা। এরপর শংকরপুর বটতলা মোড় থেকে বাড়ির দিকের রাস্তায় এগিয়ে গেলে সামনে ফাঁকা জায়গায় আলমগীরের পিছনে আসা মোটরসাকেল থেকে মিশুক গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। এরপর পরের মোটরসইকেলে থাকা অপর দুইজন মিশুকের মোটরসাইকেল অনুসরণ করে চলে যায়। আলমগীর হোসেন মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যাওয়ার পর গুলি লেগেছে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে শাহিন কাজীসহ আরো তিনজন মোটরসাইকেলে ঘুরিয়ে আবার পিছনের দিকে চলে যায়। ঘটনার রাতে চুক্তি অনুযায়ী আরও ৪ লাখ টাকা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু পুলিশি তৎপরতার কারণে তারা এ টাকা নিতে পারেনি বলে জানিয়েছে শাহিন কাজী।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই অলক কুমার দে জানিয়েছেন, এ হত্যাকান্ডে জড়িত অন্যদের ধরতে এবং ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে।

উল্লেখ, গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রসাীরা। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শামীমা বেগম জামাই পরশ ও তার সহযোগী সাগরকে আসামি করে কোতয়ালি থানায় মামলা করেন। পুলিশ ঘটনার পরপর জামাই পরশ ও তার সহযোগী সাগরকে আটক করেছিল। পরবর্তীতে শুটার মিশুককে আটক করে পুলিশ।