ঢাকা ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নতুন দেশ গড়ার প্রত্যাশা

সুপন রায়
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩৭:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ৮৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের অবসানের পর দেশের মানুষ নতুন করে গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখছে। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে নতুন আশাবাদ জেগেছে। ২০২৪ ছিল স্বৈরশাসন থেকে মুক্তির বছর। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান। ‘৫ আগস্ট ২০২৪ তথা ৩৬ জুলাই’, বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব এক বিজয় অর্জিত হয়। ছাত্র-জনতার ৩৬ দিনের দেশ কাঁপানো আন্দোলনে অবশেষে পতন হলো সাবেক ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের। ওইদিন

শেখ হাসিনার ভারতে পলায়নের মধ্য দিয়ে তার টানা প্রায় ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটে। এই গণ-অভ্যুত্থানের নায়ক ছিল নতুন প্রজন্মের সাহসী ছাত্র-জনতা। দেশের ক্রান্তিলগ্নে সেনাবাহিনী তথা সশস্ত্র বাহি-নী অসাধারণ ভূমিকা পালন করে তখন দেশকে চরম বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছে। এই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম বাঁক বদলকারী ঘটনা বটে। জনআকাঙ্খার উল্টো যাত্রাও দেখা গেছে। রাজনৈতিক স্থিতিশলীতার অভাবে ধর্মীয় ও জাতিগত পরিচয়ের কারণে কিছু মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জোর-জবরদস্তি, ট্যাগিং, মব ভায়োলেন্স ও নারী বিদ্বেষী তৎপরতা দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন মাত্রায়। কিছু উগ্রপন্থার তৎপরতাও আছে। চাঁদাবাজিও চলছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এখনও রোধ করা যায়নি। এতে মানুষের হতাশা বাড়ছে। সরকার অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত- উভয় ধরনের হুমকির সম্মুখীন। সেই সাথে বৈষম্যহীন এবং পরিকল্পিত বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্খার অগ্রগতি এখনো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অর্থনৈতিক সূচকে বেশ কিছুটা সাফল্য আসলেও মানুষের যাপিত জীবনের সমস্যা সমাধানে সরকারের উদ্যোগ অনেকটাই সীমিত। আমলাতন্ত্রের যথাযথ সংস্কার ও জনবান্ধব করার উদ্যোগ স্তিমিত হয়ে গেছে। শাসন, শোষণ, বৈষম্য, বঞ্চনার গ্লানি এই জাতিকে এখনো বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দেশের সার্বিক প্রেক্ষাপটও বদলে গেছে।

নীতি-নৈতিকতাবিহীন রাজনীতির বিষবাষ্প আমাদের সামগ্রিক জীবনকে করছে কলুষিত। মানুষ ধরেই নিয়েছে, যারা রাজনীতিতে আসে, তারা তাদের আখের গোছাতে আসে। এসব কারণে দেশের মানুষ রাজনীতি তথা রাজনীতিবিদদের ওপর বীতশ্রদ্ধ, সেই সঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়েও হতাশাগ্রস্ত।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই পুলিশের গুলিতে নিহত হন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। তাঁকে হত্যা করার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে দেশের মানুষ। শুরু হয় এক দফা সরকার পতনের আন্দোলন। আন্দোলন দমাতে না পেরে ১৯ জুলাই রাত ১২টা থেকে দেশজুড়ে কারফিউ জারি করেছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। জনতার ওই আন্দোলনে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয় তৎকালীন শাসক দল।

একঝাঁক তরুণের স্পিরিট ও জনতার তীব্র প্রতিবাদে দেশ থেকে ফ্যাসিবাদের বিদায় ঘটে। লক্ষ্য বৈষম্যহীন, শঙ্কাহীন ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার। গত প্রায় দেড় বছরে আমাদের সেই চেষ্টাই ক্রমাগত হচ্ছে। ৫ আগস্টের পর ৮ আগস্ট গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার বিচার ও নির্বাচনকে সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে সংস্কারের অনেক কিছুই এগিয়েছে। বিচার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছরের প্রথমার্ধেই আমরা দেশে একটি নতুন গণতান্ত্রিক সরকার পাবো। তারপরও কোথাও যেন একটা অগোছালো ভাব, কোনো অজানা শঙ্কা কাজ করছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে একের পর এক ‘মব সন্ত্রাস’ জনজীবনে আরেক উপসর্গ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যেসব ঘটনার সময় অনেকে ক্ষেত্রেই সরকার কিংবা পুলিশ দেখেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে পরিস্থিতির ক্রমাবনতির জন্য ‘সরকারের সদিচ্ছা’

কতটা আছে, সেই প্রশ্নও উঠেছে বিভিন্ন মহলে। এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনের সময় এটা বড় ফ্যাক্টর। রাজনৈতিক দলগুলো উদ্দেশ্যহীনভাবে ছোটাছুটি করছে। আগামী নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থিতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে নেতাকর্মীরা নানা রকম সহিংসতায় জড়িয়ে যাচ্ছে। যদিও আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

২০২৪ সালের গণআন্দোলনকে অনেকে আরব বসন্তের আদলে ভাবার চেষ্টা করেন। যদিও পরিস্থিতি তেমনটা নয়। আমাদের দেশের মানুষ বেশ শান্তিপ্রিয়। দেশের মানুষ একটি সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে সৎ সরকারের অপেক্ষা করছে।

দীর্ঘ বঞ্চনা, শোষণ, অবহেলা ও বৈষম্য থেকে মুক্তি পেতে একটি স্কুঃলিঙ্গের অপেক্ষায় গোটা দেশ। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ছাত্ররা রাজনৈতিক দল গঠন করেছে। তাদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা আছে। কিন্তু ভাবিয়ে তুলছে তাদের কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনায়। তবে নতুন দল হিসেবে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে অঙ্গীকার তারা করেছে, সে লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়াই কাম্য। পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দেশের কল্যাণ ও সার্বিক অর্থনৈতিক মুক্তি আন্দোলনের প্রতি সাধারণ মানুষের এক ধরনের উন্নাসিকতা দেখা দিতে পারে।

এদিকে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে শহীদদের ঋণ পরিশোধের বার্তা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপি জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে চায়। একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। জনগণের সরাসরি ভোটে জবাবদিহিমূলক ইনসাফভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার এখনই সময়। প্রধান উপদেষ্টা গত ১৩ নভেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ঘোষণা দেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট এবং সংসদ নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একই দিনে হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন বলছেন, অনেক বিষয় এখনও ‘অমীমাংশিত’ রয়েছে। অনেক বিষয় এখনও ‘খোলাসা’ করা হয়নি। আইন-বিধি সংস্কারের পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের গণভোট অনন্য মাত্রা আনছে। আবার একটি বড় দল ভোটের বাইরে থাকায় বিরাজমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নির্বাচনেও নানা বাধা আসতে পারে। সরকারপ্রধান ঘোষিত নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজনে তফসিল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যে গণভোটের প্রস্তুতিও শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন।

গত ২৯ নভেম্বর ‘মক ভোটিং’ করে অভিজ্ঞতা নিয়ে ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়; পাশপাশি ভোটকক্ষে গোপন বুথের সংখ্যাও বাড়ায়। পৌনে ১৩ কোটি ভোটারের এই নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভোটে লড়বেন। এবার ৫৫টি দল নিবন্ধিত রয়েছে।

নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেই আসুক তাকে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করে নিজেদের সক্ষমতা ধরে রাখতে হবে। নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশায় মুখিয়ে আছে পুরো জাতি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নতুন দেশ গড়ার প্রত্যাশা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩৭:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের অবসানের পর দেশের মানুষ নতুন করে গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখছে। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে নতুন আশাবাদ জেগেছে। ২০২৪ ছিল স্বৈরশাসন থেকে মুক্তির বছর। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান। ‘৫ আগস্ট ২০২৪ তথা ৩৬ জুলাই’, বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব এক বিজয় অর্জিত হয়। ছাত্র-জনতার ৩৬ দিনের দেশ কাঁপানো আন্দোলনে অবশেষে পতন হলো সাবেক ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের। ওইদিন

শেখ হাসিনার ভারতে পলায়নের মধ্য দিয়ে তার টানা প্রায় ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটে। এই গণ-অভ্যুত্থানের নায়ক ছিল নতুন প্রজন্মের সাহসী ছাত্র-জনতা। দেশের ক্রান্তিলগ্নে সেনাবাহিনী তথা সশস্ত্র বাহি-নী অসাধারণ ভূমিকা পালন করে তখন দেশকে চরম বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছে। এই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম বাঁক বদলকারী ঘটনা বটে। জনআকাঙ্খার উল্টো যাত্রাও দেখা গেছে। রাজনৈতিক স্থিতিশলীতার অভাবে ধর্মীয় ও জাতিগত পরিচয়ের কারণে কিছু মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জোর-জবরদস্তি, ট্যাগিং, মব ভায়োলেন্স ও নারী বিদ্বেষী তৎপরতা দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন মাত্রায়। কিছু উগ্রপন্থার তৎপরতাও আছে। চাঁদাবাজিও চলছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এখনও রোধ করা যায়নি। এতে মানুষের হতাশা বাড়ছে। সরকার অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত- উভয় ধরনের হুমকির সম্মুখীন। সেই সাথে বৈষম্যহীন এবং পরিকল্পিত বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্খার অগ্রগতি এখনো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অর্থনৈতিক সূচকে বেশ কিছুটা সাফল্য আসলেও মানুষের যাপিত জীবনের সমস্যা সমাধানে সরকারের উদ্যোগ অনেকটাই সীমিত। আমলাতন্ত্রের যথাযথ সংস্কার ও জনবান্ধব করার উদ্যোগ স্তিমিত হয়ে গেছে। শাসন, শোষণ, বৈষম্য, বঞ্চনার গ্লানি এই জাতিকে এখনো বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দেশের সার্বিক প্রেক্ষাপটও বদলে গেছে।

নীতি-নৈতিকতাবিহীন রাজনীতির বিষবাষ্প আমাদের সামগ্রিক জীবনকে করছে কলুষিত। মানুষ ধরেই নিয়েছে, যারা রাজনীতিতে আসে, তারা তাদের আখের গোছাতে আসে। এসব কারণে দেশের মানুষ রাজনীতি তথা রাজনীতিবিদদের ওপর বীতশ্রদ্ধ, সেই সঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়েও হতাশাগ্রস্ত।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই পুলিশের গুলিতে নিহত হন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। তাঁকে হত্যা করার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে দেশের মানুষ। শুরু হয় এক দফা সরকার পতনের আন্দোলন। আন্দোলন দমাতে না পেরে ১৯ জুলাই রাত ১২টা থেকে দেশজুড়ে কারফিউ জারি করেছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। জনতার ওই আন্দোলনে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয় তৎকালীন শাসক দল।

একঝাঁক তরুণের স্পিরিট ও জনতার তীব্র প্রতিবাদে দেশ থেকে ফ্যাসিবাদের বিদায় ঘটে। লক্ষ্য বৈষম্যহীন, শঙ্কাহীন ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার। গত প্রায় দেড় বছরে আমাদের সেই চেষ্টাই ক্রমাগত হচ্ছে। ৫ আগস্টের পর ৮ আগস্ট গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার বিচার ও নির্বাচনকে সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে সংস্কারের অনেক কিছুই এগিয়েছে। বিচার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছরের প্রথমার্ধেই আমরা দেশে একটি নতুন গণতান্ত্রিক সরকার পাবো। তারপরও কোথাও যেন একটা অগোছালো ভাব, কোনো অজানা শঙ্কা কাজ করছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে একের পর এক ‘মব সন্ত্রাস’ জনজীবনে আরেক উপসর্গ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যেসব ঘটনার সময় অনেকে ক্ষেত্রেই সরকার কিংবা পুলিশ দেখেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে পরিস্থিতির ক্রমাবনতির জন্য ‘সরকারের সদিচ্ছা’

কতটা আছে, সেই প্রশ্নও উঠেছে বিভিন্ন মহলে। এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনের সময় এটা বড় ফ্যাক্টর। রাজনৈতিক দলগুলো উদ্দেশ্যহীনভাবে ছোটাছুটি করছে। আগামী নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থিতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে নেতাকর্মীরা নানা রকম সহিংসতায় জড়িয়ে যাচ্ছে। যদিও আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

২০২৪ সালের গণআন্দোলনকে অনেকে আরব বসন্তের আদলে ভাবার চেষ্টা করেন। যদিও পরিস্থিতি তেমনটা নয়। আমাদের দেশের মানুষ বেশ শান্তিপ্রিয়। দেশের মানুষ একটি সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে সৎ সরকারের অপেক্ষা করছে।

দীর্ঘ বঞ্চনা, শোষণ, অবহেলা ও বৈষম্য থেকে মুক্তি পেতে একটি স্কুঃলিঙ্গের অপেক্ষায় গোটা দেশ। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ছাত্ররা রাজনৈতিক দল গঠন করেছে। তাদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা আছে। কিন্তু ভাবিয়ে তুলছে তাদের কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনায়। তবে নতুন দল হিসেবে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে অঙ্গীকার তারা করেছে, সে লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়াই কাম্য। পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দেশের কল্যাণ ও সার্বিক অর্থনৈতিক মুক্তি আন্দোলনের প্রতি সাধারণ মানুষের এক ধরনের উন্নাসিকতা দেখা দিতে পারে।

এদিকে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে শহীদদের ঋণ পরিশোধের বার্তা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপি জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে চায়। একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। জনগণের সরাসরি ভোটে জবাবদিহিমূলক ইনসাফভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার এখনই সময়। প্রধান উপদেষ্টা গত ১৩ নভেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ঘোষণা দেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট এবং সংসদ নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একই দিনে হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন বলছেন, অনেক বিষয় এখনও ‘অমীমাংশিত’ রয়েছে। অনেক বিষয় এখনও ‘খোলাসা’ করা হয়নি। আইন-বিধি সংস্কারের পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের গণভোট অনন্য মাত্রা আনছে। আবার একটি বড় দল ভোটের বাইরে থাকায় বিরাজমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নির্বাচনেও নানা বাধা আসতে পারে। সরকারপ্রধান ঘোষিত নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজনে তফসিল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যে গণভোটের প্রস্তুতিও শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন।

গত ২৯ নভেম্বর ‘মক ভোটিং’ করে অভিজ্ঞতা নিয়ে ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়; পাশপাশি ভোটকক্ষে গোপন বুথের সংখ্যাও বাড়ায়। পৌনে ১৩ কোটি ভোটারের এই নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভোটে লড়বেন। এবার ৫৫টি দল নিবন্ধিত রয়েছে।

নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেই আসুক তাকে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করে নিজেদের সক্ষমতা ধরে রাখতে হবে। নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশায় মুখিয়ে আছে পুরো জাতি।