তারেক রহমানেই দলের ভরসা
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ৮১ বার পড়া হয়েছে
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতেও থেমে নেই বিএনপির নির্বাচনী কার্যক্রম। এ অবস্থায় ডা. জুবাইদা রহমানকে সামনে রেখে প্রচার-প্রচরণায় নামলে ভোটের মাঠে বিশেষ সুবিধা পাবে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বেই নির্বাচনী বৈতরণী পার করতে চায় বিএনপি।
জুবাইদা রহমানের মধ্যে অনেকেই খালেদা জিয়ার ছায়া দেখতে পাচ্ছেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা উঠেছে। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে যদি বিএনপি সরকার গঠন করে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হন, তবে ডা. জুবাইদা রহমান হবেন বাংলাদেশের ‘ফার্স্ট লেডি’। জুবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ ধোপে টেকেনি এবং তিনি সবসময় নিজেকে বিতর্কের ঊর্ধ্বে রেখেছেন।
ডা. জুবাইদা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী। এ মুহূর্তে তার পরিচয় কেবল পারিবারিক গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নেই। দেশের রাজনীতির মাঠে তিনি এখন অন্যতম আলোচিত ব্যক্তি। যদিও তিনি এবার দেশে এসেছেন শারীরিকভাবে অত্যন্ত সংকটাপন্ন শাশুড়ি খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। তবুররাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চলতি বছরের ৫ মে দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফিরেছিলেন ডা. জুবাইদা রহমান। একমাস পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ব্যস্ত সময় কাটিয়ে ৫ জুন তিনি ফের লন্ডনে ফিরে যান। গত ৫ ডিসেম্বর আবারও তিনি বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখেছেন।
জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ২৭২ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। প্রার্থীরাও নির্বাচন সামনে রেখে প্রচারে নেমে পড়েন। এরমধ্যে হঠাৎ দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ হওয়ায় প্রচারণায় কিছুটা স্থবিরতা ঘটায়। এদিকে, চলতি সপ্তাহে ভোটের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। তবে তারেক রহমানের দেশে আসা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা বিদেশে এমন প্রেক্ষাপটে জুবাইদা রহমানকে ঘিরে নির্বাচনি প্রচারণার কথা ভাবছে কিনা বিএনপি? প্রশ্ন ছিলো দলটির এ নীতি-নির্ধারকদের কাছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, তারেক সাহেবের অনুপস্থিতিতে উনাকে এনেছে এই সমীকরণ করাটা ঠিক হবে না। তিনি এসেছেন উনার শাশুড়ির প্রতি দায়িত্ব পালন করার জন্য। এখানে রাজনীতির কোনো সমীকরণ নেই।
তিনি আরও বলেন, তারেক সাহেব খুব দ্রুত আসছেন। নির্দিষ্ট করে বলতে পারি এ মাসেই উনি আসবেন। প্রচার টিম তারেক সাহেবে অধীনে কাজ করছে।
এখন দেখার বিষয় তফসিল ঘোষণার পর কবে নাগাদ দেশে ফিরে দলের হাল ধরেন তারেক রহমান। নাকি জুবাইদা রহমানই হবেন এবার বিএনপির নির্বাচনি প্রচারণায় জিয়া পরিবারের প্রধান মুখ।
ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় ২০০৭ সালের ৭ মার্চ তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরের বছর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি পেয়ে ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য সপরিবারে লন্ডন যান তিনি। তখন থেকেই লন্ডনে অবস্থান করছেন তারেক রহমান। লন্ডনে থাকাকালে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মা খালেদা জিয়া দুদকের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন ‘সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান’ তারেক রহমান। এরপর সেখান থেকেই দল পরিচালনা করছেন তিনি।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতে পাঁচ মামলায় তাকে সাজা দেওয়া হয়। দায়ের করা হয় প্রায় শতাধিক মামলা। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতের মাধ্যমে একে একে সাজাপ্রাপ্ত সব মামলায় খালাস পান তিনি। একই প্রক্রিয়ায় অন্য সব মামলা থেকেও মুক্ত হন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা নেই।

























