তিন সংকটে বিএনপি
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩৯:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ৭৮ বার পড়া হয়েছে
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচ অনুষ্ঠিত হবে। আর এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের কিছু আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে। প্রার্থীতা ঘোষণা করলেও দলটি তিনটি সংকটের মুখে পড়েছে।
দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারেক রহমানের দেশে ফেরার তারিখ এখনো ঠিক না হওয়া, খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ও দলীয় মনোনয়নকে ঘিরে বিরোধ-কোন্দল আকার ধারণ করেছে। আর এ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে দলের ভিতর।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের প্রায় ১৫ মাস পেরিয়ে গেলেও লন্ডনে থাকা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন কিংবা ফিরে আসতে বিলম্ব হচ্ছে কেন- তা নিয়ে আলোচনা আছে দলের ভেতরেই।
অন্যদিকে, উদ্বেগ দেখা দিয়েছে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়েও। দলের পক্ষ থেকে ‘উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কিছু হয়নি’ বলার হলেও তা দেশজুড়ে দলটির নেতাকর্মীদের কতটা আশ্বস্ত করতে পেরেছে তা নিয়ে সংশয় আছে।
এছাড়া নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়ন বঞ্ছিত প্রার্থীদের কারণে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বেড়েই চলেছে। যা সামাল দিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিরোধ তৈরি হচ্ছে সমমনা দলগুলোর আসন বন্টন নিয়েও।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্নের কথা জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় যেন কোনো ধরনের ঘাটতি না থাকে। প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে সরকার প্রস্তুত। এ জন্য তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এদিকে, গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দেশবাসীর আন্তরিকতা ও প্রার্থনার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তাঁর বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একইসঙ্গে বর্তমান সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহস্পর্শ পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়েছেন তিনি। তবে তারেক বলেছেন, দেশে ফেরার ক্ষেত্রে তাঁর একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ সীমিত।
শনিবার (৩০ নভেম্বর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তারেক রহমান লিখেছেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ ও সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন।
এমন সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্খা যেকোনো সন্তানের মত আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সকলের মত এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। স্পর্শকাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত। রাজনৈতিক বাস্তবতার এই পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়া মাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতিক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, খালেদা জিয়ার উপস্থিতিই বিএনপির জন্য বড় শক্তি এবং সে কারণেই তার স্বাস্থ্য নিয়ে কর্মী সমর্থকদের উদ্বিগ্ন হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু তারেক রহমান কেন এখনো ফিরছেন না সেটি বলা হচ্ছে না বলেই নানা ধরনের আলোচনা ডালপালা মেলছে।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম শীর্ষ নেতা ডঃ খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলছেন, মনোনয়ন সংক্রান্ত সমস্যা নিরসনে দলের ভেতরে কাজ চলছে। অন্যদিকে মিসেস জিয়া দ্রুতই সুস্থ হয়ে উঠবেন আর তারেক রহমানও দ্রুতই দেশে ফিরবেন বলে আশা করছেন তারা।
অক্টোবরেই বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিলো যে নভেম্বরেই লন্ডন থেকে দেশে ফিরবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে বাস্তবতা হলো নভেম্বর শেষ । তারেক রহমানের দেশে ফেরার তারিখ ঘোষণা করতে পারেনি দলটি। তারেক রহমান ফিরলেন না কেন সেই প্রশ্নের জবাবও কারও জানা নেই। যদিও তার বিরুদ্ধে থাকা সব মামলারও নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।
এরইমধ্যে ঢাকায় তার জন্য বাড়ি প্রস্তুত করা ও বুলেট প্রুফ গাড়ি কেনার তৎপরতা নিয়ে একাধিক খবর এসেছে সংবাদ মাধ্যমে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যেই দুটি বুলেট প্রুফ গাড়ি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এমন তথ্য বিএনপির দিক থেকে জানা গেছে।
কিন্তু তারপরেও তিনি আসছেন না কেন কিংবা তার আসার বিলম্বের ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো সমস্যা তৈরি হয়েছে কি-না নাকি দলীয় কোনো কৌশলের অংশ হিসেবেই তিনি আসতে বিলম্ব করছেন- এসব নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা হচ্ছে দলের ভেতরে বাইরে।
গত ৩ নভেম্বর বিএনপি ২৩৭ আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে। পরে একটি আসনে প্রার্থিতা স্থগিত করা হয়। সেখানে খালেদা জিয়াকে তিন আসনে প্রার্থী করার বিষয়টি অনেককেই বিস্মিত করলেও বিএনপির অভ্যন্তরে এটি কর্মী সমর্থকদের উদ্বুদ্ধ করেছিলো।
কিন্তু হঠাৎ বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত রোববার তাকে আবার হাসপাতালে ভর্তির পর দলের ভেতরে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, তার হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়েছে।
এর আগে, গত ৭ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। সেখানে ১১৭ দিন অবস্থান শেষে ৬ মে দেশে ফেরার পর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে যাচ্ছিলেন।

























