তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্প, প্রতিবছর উৎপাদন হবে হাজার কোটি টাকার ফসল
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৩২:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫ ১১৪ বার পড়া হয়েছে
দেশের বৃহতম তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্পের পানি প্রবাহের প্রধান খালের নীলফামারী’র জলঢাকা উপজেলার দুন্দিবাড়ী হইতে কিশোরগঞ্জ উপজেলার রাজিব পর্যন্ত উভয় ডাইক পূর্নবাসন ও শক্তিশালীকরণন কাজের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট ৫ শতাংশ কাজ শেষ হলে উভয় ডাইকের আকর্ষিক ভাঙ্গন প্রতিরোধে ও সেচ প্রদান কাজের সুফল ভোগীদের প্রয়োজনীয় পানির চাহিদা মেটানোর অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি প্রতিবছর অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন হবে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। আর জ্বালানী ও রাসয়ানিক সার সাশ্রয় হবে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান।
নীলফামারী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী অতিকুর রহমান জানান,তিস্তা সেচ প্রকল্পের কমান্ড এলাকার পুর্নবাসন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের প্রধান সেচ খালের নীলফামারী’র জলঢাকা উপজেলার দুন্দিবাড়ী নামকস্থান থেকে কিশোরগঞ্জ উপজেলার রাজিব পর্যন্ত ১৭ দশমিক ৯১০ কিলোমিটার উভয় ডাইক শক্তিশালীকরণ কাজে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮ কোটি ৮১ লাখ ৪৫ হাজার ৬শত টাকা।এ প্রকল্পের কার্যাদেশ প্রাপ্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের চুক্তি হয়েছে ৭ কোটি ৯৩ লাখ ৩১ হাজার টাকা।প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে আগামী ২০২৫ সালের ৩০ শে ডিসেম্বর। এ প্রকল্পের ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট ৫ শতাংশ কাজ শেষ হলে প্রতিবছর উভয় ডাইকের কমান্ড এলাকার ২৫ হেক্টর জমির সেচ সুবিধাভোগী কৃষকরা প্রতিবছর খরিপ-১ ও খরিপ-২ মওসুমে অতিরিক্ত ১ হাজার কোটি টাকার ফসল উৎপাদন করে ঘরে তুলবে। এ ছাড়াও ফসল উৎপাদনে জ্বালানী তেল ও রাসয়ানিক সার খরচে সাশ্রয় হবে ২শত কোটি টাকা।
এ প্রকল্পের তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জুলফিকার রহমান জানান,দেশের বৃহত্তম তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্পটি উত্তর জনপদের মানুষের বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের আশা-আকাঙ্খার প্রতীক। এই প্রকল্পটি সূচনালগ্ন থেকে খাদ্যাভাব ও অনাবৃষ্টি মেকাবেলায় কৃষি সেক্টরে সেচ সুবিধা প্রদান করে আসছে।কৃষি সেক্টরের উপকারভুগীরা স্বল্প খরচে বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করে অভাব-অনাটনের ধকল থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। এ ধারাবাহিকতায় তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্পের প্রধান খালের নীলফামারী’র জলঢাকা উপজেলার দুন্দিবাড়ী নামকস্থান হইতে কিশোরগঞ্জ উপজেলার রাজিব পর্যন্ত ১৭ দশমিক ৯১০ কিলোমিটার উভয় ডাইকটি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে সংস্কার-মেরামত না হওয়ায় পানি প্রবাহের প্রবল চাপ নিয়ন্ত্রণের ধারণ-ক্ষমতা হারিয়ে উভয় ডাইক নাজুক হয়ে পড়ে। এরফলে এ খালের বিভিন্নস্থানে লিকেজ হয়ে ডাইক বিধবস্ত হয়ে হাজার-হাজার হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে তালিয়ে নষ্ট হয়ে যেত। এ ছাড়াও সেচ নির্ভর ফসল উৎপাদনে কৃষকরা প্রয়োজনীয় পানি না পাওয়ায় পানির চাহিদা পূরণে বিকল্প হিসাবে বিদ্যুৎ ও ডিজেল চালিত পাম্প বসিয়ে ফসল উৎপাদন করে ঘরে তুলে বাজারজাত করে লোকসান গুনতো।
তিস্তা ব্যারেজ সেচ খালের ডাইক বিধবস্ত প্রতিরোধে শক্তিশালীকরণন,কৃষকদের পানি চাহিদা পূরণ ও অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহন করে প্রকল্পটি অুমোদনের জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ে পাঠায় নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ড।প্রকল্পটির কাজ শেষ হলে সেচ খালের ভাঙ্গন রোধ হবে, সুফলভোগীরা পর্যাপ্ত পানি পাবে,স্বল্প খরচে ফসল উৎপাদন করে লাভবান হবে।
প্রকল্প এলাকায় সরেজমিনে গেলে জলঢাকা উপজেলার বগুলাগাড়ী গ্রামের সুফলভোগী কৃষক আফজাল হোসেন ও অব্দুল গফুর জানান, তিস্তা সেচ খালের জলঢাকার দুন্দিবাড়ী থেকে রজিব পর্যন্ত উভয় ডাইক শক্তিশালীকরন মাটি ভরাট কাজ ভাল হয়েছে। চাষাবাদে পর্যাপ্ত পরিমান পানি পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা।
কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের কামাল হোসেন ও নজমুল হোসেন জানান,তিস্তা ব্যারেজের প্রধান খালে পর্যাপ্ত পরিমান পানি থাকার কথা থাকলে দীর্ঘদিন সংস্কার ও মেরামতের অভাবে খালের উভয় ডাইকের কোন-কোন জায়গায় ফাঁটল দিয়ে পানি যেতে-যেতে ভেঙ্গে হাজার-হাজার হেক্টর জমির ফসল পানির নিয়ে তলিয়ে নষ্ট হতো। চলমান কাজটি যেভাবে শক্তিশালী করা হচ্ছে তাতে ২০-৩০ বছরও উভয় ডাইক ভাঙ্গবে না। কিশোরগঞ্জ উপজেলার রাজিব এলাকার ওমর ফারুক জানান, সেচ খালের উভয় ডাইকে ঠিকাদাররা দুরদুরাস্ত এলাকা থেকে শত-শত টলি মাটি এনে আগের চেয়ে দ্বিগুন চওড়া করে মাটি ভরট করছে। এতে হালকা যানবাহন ও পথচারীদের যাতায়াত ব্যবস্থায় ভুমিকা রাখবে প্রকল্পটি বলে মন্তব্য করেন তিনি।





















