ঢাকা ০১:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত টাঙ্গাইলের কৃষকরা

মোঃ মশিউর রহমান, টাঙ্গাইল
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:১৬:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫ ৮২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টাঙ্গাইলে আগাম শীতকালীন সবজি চাষ ও ফসল পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। মৌসুমের শুরুতে আগাম জাতের শীতকালীন সবজি বাজারজাত করে অধিক লাভের আশা করছেন তারা। সাধারণত নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে শীতকালীন সবজি বাজারে আসে। সে সময় আমদানি বেশি থাকায় কৃষকেরা অধিক মূল্য পান না। কিন্তু বর্ষার শেষ দিকে বাজারে সবজির চাহিদা ও দাম দুটোই বেশি থাকে। এ বিষয়টি মাথায় রেখেই সবজি চাষিরা এ বছর সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকেই সবজি চাষযোগ্য উঁচু জমি প্রস্তুত করে সবজি চাষ শুরু করেছে।

সরেজমিনে জেলার মধুপুর,ঘাটাইল,সখিপুর,গোপলপুর,ভ‚য়াপুর,কালিহাতী,ট্ঙাাইল সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আগাম শীতকালীন সবজির চাষ শুরু হয়েছে। এসব জমিতে এখন শিম, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, করলা, লাউ, লালশাক,পালংশাকসহ বিভিন্ন জাতের সবজির চারা রোপণ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। মধুপুর উপজেলার ব্রা²নবাড়ী (মজিদ চালা) গ্রামের কৃষক বিল্লাল হোসেনের জমিতে সরেজমিনে গিয়ে ফুলকপি রোপনের পরামর্শ দিচ্ছেন উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা শহিদূল ইসলাম।

জানা যায়,শীতকালীন ফুলকপি চাষ করতে ভাদ্র-আশ্বিন মাসে (মধ্য আগস্ট থেকে মধ্য অক্টোবর) বীজ বপন করতে হয়। কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে (মধ্য নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর) ৩০-৩৫ দিন বয়সের চারা জমিতে রোপণ করতে হয়। সারিতে ৬০ সেমি দূরত্বে, প্রতি গাছে ৪০ সেমি দূরত্বে চারা রোপণ করতে হয়। জমিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জৈব সার ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হয় এবং নিয়মিত সেচ, আগাছা দমন ও পোকা-মাকড় নাশক বিষ প্রয়োগ করতে হয়। জমি প্রস্তুত করতে ফুলকপি চাষের জন্য উবর্বর, ভালো পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সম্পন্ন ও রোদযুক্ত জমি নির্বাচন করলে ফলন ভাল হয়।
জমি কয়েকবার চাষ ও মই দিয়ে ঝুরঝুরে করে নিতে হয়। চাষের শেষ সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে জৈব সার (যেমন: গোবর বা কম্পোস্ট) মাটিতে মেশাতে হয়। বীজ বপন ও চারা তৈরি করতে ভাদ্র-আশ্বিন মাসে (মধ্য আগস্ট থেকে মধ্য অক্টোবর) বীজ বপন করতে হয়। বীজতলায় বা পলিথিন ব্যাগে বীজ বপন করতে হয়। ৩০-৩৫ দিন পর চারা রোপণের উপযুক্ত হলে, জমি প্রস্তুুত করে চারা রোপণ করতে হয়। চারা রোপণ করতে মাটির প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে সারি থেকে সারির দূরত্ব ৬০ সেমি (২৪ ইঞ্চি) এবং প্রতি সারিতে গাছের দূরত্ব ৪০ সেমি (১৮ ইঞ্চি) রেখে চারা রোপণ করতে হয়। চাষের সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে জৈব সার ব্যবহার করতে হয়। জাত ভেদে হেক্টর প্রতি ২৫০-৩০০ কেজি ইউরিয়া সার প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়াও অন্যান্য রাসায়নিক সার যেমন টিএসপি, এমওপি, জিপসাম, বোরন ইত্যাদি পরিমাণমতো ব্যবহার করতে হয়। জমিতে পর্যাপ্ত রস বা পানি না থাকলে নিয়মিত সেচ দিতে হয়, বিশেষ করে ফুলকপির কুঁড়ি তৈরি হওয়ার সময় আগাছা পরিষ্কার করে জমি আগাছামুক্ত রাখতে হয়। সঠিক পরিচর্যা ও সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে শীতকালে ভালো ফলন পাওয়া যায়। সাধারণত ৬০-৭০ দিন পর ফুলকপি সংগ্রহের জন্য উপযুক্ত হয়।

মধুপুর উপজেলার ব্রা²নবাড়ী গ্রামের কৃষক বিল্লাল হোসেন জানান,এবছর দুই বিঘা জমিতে ৯ হাজার হাইব্রিড ফুলকপির চারা রোপন করেছেন। রোপন প্রায় শেষের দিকে । আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে অধিক লাভের আশা করছেন তিনি। ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়নের জোরদিঘী গ্রামের কৃষক আব্দুর জব্বার মিয়া জানান,এ বছর তিনি চার বিঘা জমিতে ১৬ হাজার ফুলকপি ও কিছু সিমের বীজ রোপন করেছেন। আবহাওয়ার বিপর্যয় না ঘটলে ভালো ফলনের আশা করেন তিনি।

টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আশিক পারভেজ জানান,চলতি মৌসুমে টাঙ্গাইল জেলায় শীতকালীন সবজি চাষে ১হাজার ১শত ৪৫ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে।এতে প্রায় ২৭ হাজার ৪৮০ মে.টন সবজি উৎপাদনের আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে অধিক লাভের আশায় অনেক কৃষকই এখন আগাম শীতকালীন সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত টাঙ্গাইলের কৃষকরা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:১৬:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫

টাঙ্গাইলে আগাম শীতকালীন সবজি চাষ ও ফসল পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। মৌসুমের শুরুতে আগাম জাতের শীতকালীন সবজি বাজারজাত করে অধিক লাভের আশা করছেন তারা। সাধারণত নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে শীতকালীন সবজি বাজারে আসে। সে সময় আমদানি বেশি থাকায় কৃষকেরা অধিক মূল্য পান না। কিন্তু বর্ষার শেষ দিকে বাজারে সবজির চাহিদা ও দাম দুটোই বেশি থাকে। এ বিষয়টি মাথায় রেখেই সবজি চাষিরা এ বছর সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকেই সবজি চাষযোগ্য উঁচু জমি প্রস্তুত করে সবজি চাষ শুরু করেছে।

সরেজমিনে জেলার মধুপুর,ঘাটাইল,সখিপুর,গোপলপুর,ভ‚য়াপুর,কালিহাতী,ট্ঙাাইল সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আগাম শীতকালীন সবজির চাষ শুরু হয়েছে। এসব জমিতে এখন শিম, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, করলা, লাউ, লালশাক,পালংশাকসহ বিভিন্ন জাতের সবজির চারা রোপণ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। মধুপুর উপজেলার ব্রা²নবাড়ী (মজিদ চালা) গ্রামের কৃষক বিল্লাল হোসেনের জমিতে সরেজমিনে গিয়ে ফুলকপি রোপনের পরামর্শ দিচ্ছেন উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা শহিদূল ইসলাম।

জানা যায়,শীতকালীন ফুলকপি চাষ করতে ভাদ্র-আশ্বিন মাসে (মধ্য আগস্ট থেকে মধ্য অক্টোবর) বীজ বপন করতে হয়। কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে (মধ্য নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর) ৩০-৩৫ দিন বয়সের চারা জমিতে রোপণ করতে হয়। সারিতে ৬০ সেমি দূরত্বে, প্রতি গাছে ৪০ সেমি দূরত্বে চারা রোপণ করতে হয়। জমিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জৈব সার ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হয় এবং নিয়মিত সেচ, আগাছা দমন ও পোকা-মাকড় নাশক বিষ প্রয়োগ করতে হয়। জমি প্রস্তুত করতে ফুলকপি চাষের জন্য উবর্বর, ভালো পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সম্পন্ন ও রোদযুক্ত জমি নির্বাচন করলে ফলন ভাল হয়।
জমি কয়েকবার চাষ ও মই দিয়ে ঝুরঝুরে করে নিতে হয়। চাষের শেষ সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে জৈব সার (যেমন: গোবর বা কম্পোস্ট) মাটিতে মেশাতে হয়। বীজ বপন ও চারা তৈরি করতে ভাদ্র-আশ্বিন মাসে (মধ্য আগস্ট থেকে মধ্য অক্টোবর) বীজ বপন করতে হয়। বীজতলায় বা পলিথিন ব্যাগে বীজ বপন করতে হয়। ৩০-৩৫ দিন পর চারা রোপণের উপযুক্ত হলে, জমি প্রস্তুুত করে চারা রোপণ করতে হয়। চারা রোপণ করতে মাটির প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে সারি থেকে সারির দূরত্ব ৬০ সেমি (২৪ ইঞ্চি) এবং প্রতি সারিতে গাছের দূরত্ব ৪০ সেমি (১৮ ইঞ্চি) রেখে চারা রোপণ করতে হয়। চাষের সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে জৈব সার ব্যবহার করতে হয়। জাত ভেদে হেক্টর প্রতি ২৫০-৩০০ কেজি ইউরিয়া সার প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়াও অন্যান্য রাসায়নিক সার যেমন টিএসপি, এমওপি, জিপসাম, বোরন ইত্যাদি পরিমাণমতো ব্যবহার করতে হয়। জমিতে পর্যাপ্ত রস বা পানি না থাকলে নিয়মিত সেচ দিতে হয়, বিশেষ করে ফুলকপির কুঁড়ি তৈরি হওয়ার সময় আগাছা পরিষ্কার করে জমি আগাছামুক্ত রাখতে হয়। সঠিক পরিচর্যা ও সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে শীতকালে ভালো ফলন পাওয়া যায়। সাধারণত ৬০-৭০ দিন পর ফুলকপি সংগ্রহের জন্য উপযুক্ত হয়।

মধুপুর উপজেলার ব্রা²নবাড়ী গ্রামের কৃষক বিল্লাল হোসেন জানান,এবছর দুই বিঘা জমিতে ৯ হাজার হাইব্রিড ফুলকপির চারা রোপন করেছেন। রোপন প্রায় শেষের দিকে । আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে অধিক লাভের আশা করছেন তিনি। ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়নের জোরদিঘী গ্রামের কৃষক আব্দুর জব্বার মিয়া জানান,এ বছর তিনি চার বিঘা জমিতে ১৬ হাজার ফুলকপি ও কিছু সিমের বীজ রোপন করেছেন। আবহাওয়ার বিপর্যয় না ঘটলে ভালো ফলনের আশা করেন তিনি।

টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আশিক পারভেজ জানান,চলতি মৌসুমে টাঙ্গাইল জেলায় শীতকালীন সবজি চাষে ১হাজার ১শত ৪৫ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে।এতে প্রায় ২৭ হাজার ৪৮০ মে.টন সবজি উৎপাদনের আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে অধিক লাভের আশায় অনেক কৃষকই এখন আগাম শীতকালীন সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছে।