মাদকবিরোধী সমাবেশের জেরে ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৩৬:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় মাদকবিরোধী সমাবেশ আয়োজনকে কেন্দ্র করে এক ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এক যুবদল নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। তাদের দাবি, অভিযুক্তরা মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত।
সোমবার (৮ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের অলিপুর গ্রামের বড় বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ফখরুল ইসলাম (৩২) সদর উপজেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি এবং অশ্বদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি।
ছাত্রদল নেতা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, গত শনিবার উপজেলার ডাক্তারহাট ও বেল্লা কোটরা এলাকায় তার নেতৃত্বে একটি মাদকবিরোধী মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তিনি মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে তাদের সংশোধনের আহ্বান জানান। অন্যথায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে স্থানীয় মাদক কারবারিরা।
তিনি আরও জানান, সোমবার বিকেলে তার দুবাই প্রবাসী মামা মো. ইয়াসিন সোহেল ডাক্তারহাট বাজার এলাকা থেকে মাটি কিনে বাড়ি ভরাটের কাজ করছিলেন। এ সময় মাদকবিরোধী সমাবেশের জেরে কয়েকজন সেখানে বাধা দেয়। বিষয়টি জানতে গিয়ে তিনি হামলার শিকার হন বলে দাবি করেন। তার ভাষ্য, মাদক কারবারি শরীফ উল্যাহ সুমনের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি করে।
ফখরুল অভিযোগ করে আরও বলেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে শরীফ উল্যাহ সুমনের নেতৃত্বে রবিউল হোসেন রুবেল (৩৩), মো. জুয়েল (৩৫), মো. কালা (৩২), দুলাল ও মো. নাছিরসহ কয়েকজন তার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তার বৃদ্ধ মা-বাবাকে মারধর করা হয়। বসতঘরের জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর করা হয় এবং ঘরের বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
ফখরুল ইসলামের মা মমতাজ বেগম অভিযোগ করে বলেন, হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে তাকে ও তার স্বামীকে মারধর করে এবং ঘরের জানালার সব থাই গ্লাস ভেঙে ফেলে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার ছেলে রাজনীতি করা কি অপরাধ হয়ে গেছে? আওয়ামী লীগের আমলেও নির্যাতিত হয়েছি, এখন বিএনপির আমলেও নির্যাতনের শিকার হচ্ছি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অশ্বদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি শরীফ উল্যাহ সুমন। তিনি বলেন, ফখরুল ও রুবেলের সঙ্গে আমি যৌথভাবে মাটির ব্যবসা করি। ফখরুল আমাদের না জানিয়ে তার মামার কাছে মাটি বিক্রি করে। এ নিয়ে বাধা দিলে আমার সাথে তার মারামারি হয়। পরে ফখরুল লোকজন নিয়ে প্রথমে আমার প্রজেক্টে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। রাতে আমি তার বাড়িতে গেলে সঙ্গে থাকা কয়েকজন ছোট ছেলে ইট ছুড়ে জানালার থাই গ্লাস ভেঙে দেয়। তবে তার মা-বাবাকে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, হামলার বিষয়টি শুনেছি। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






















