ঢাকা ০১:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

সুস্থ জীবনের বার্তা ছড়াচ্ছে ফুলবাড়ী কলেজ মাঠ

আজিজুল হক সরকার, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর)
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:২০:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬ ১৩৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রচলিত ধারণা হলো, গ্রামের মানুষ ভোরে ঘুম থেকে ওঠে এবং দিনের কাজ শুরু করে, আর শহরের মানুষ তুলনামূলকভাবে দেরিতে ঘুমায় ও দেরিতে জাগে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই ধারণা অনেক ক্ষেত্রেই বদলাচ্ছে। তারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ দেখা যাচ্ছে ফুলবাড়ী পৌর শহরে। এখানে একদল সচেতন, সুশিক্ষিত ও উদ্যমী তরুণ ভোরের আলো ফুটতেই সমবেত হচ্ছেন ফুলবাড়ী সরকারি কলেজ মাঠে। তাদের এই উদ্যোগ শুধু ব্যক্তিগত সুস্থতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি ধীরে ধীরে একটি ইতিবাচক সামাজিক সংস্কৃতিতে পরিণত হচ্ছে।

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সরকারি কলেজ মাঠে ফজরের নামাজের পরপরই শুরু হয় প্রাণচাঞ্চল্যের এক ভিন্ন দৃশ্য। কেউ ফুটবল নিয়ে অনুশীলনে ব্যস্ত, কেউ ক্রিকেট খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আবার কেউ শরীরচর্চা ও ব্যায়ামে মনোযোগ দিচ্ছেন। মাঠ একটিই হলেও সেখানে একসঙ্গে নানা ধরনের ক্রীড়া ও শারীরিক কার্যক্রম চলতে থাকে। ফলে পুরো মাঠজুড়ে সৃষ্টি হয় এক প্রাণবন্ত পরিবেশ। দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন বিকেলের ব্যস্ত সময়ে মাঠে খেলাধুলা চলছে। অথচ এটি ভোরবেলার দৃশ্য।

গত কয়েক মাস ধরে ফুলবাড়ী সরকারি কলেজ মাঠে এমন দৃশ্য নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন মানুষ এই কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে তরুণদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। অনেকে বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করতে আসেন, আবার কেউ কেউ স্বাস্থ্য সচেতনতার অংশ হিসেবে নিয়মিত হাঁটা, দৌড়ানো বা ব্যায়াম করেন। ফলে মাঠটি এখন শুধু খেলার স্থান নয়, বরং সুস্থ জীবনযাপনের এক উন্মুক্ত কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

অনেকেই বলছেন, এটি শহর জীবনের অত্যন্ত ইতিবাচক একটি পরিবর্তন। কিছুদিন আগেও অনেক মানুষ সকালবেলার মূল্যবান সময় ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিতেন। কর্মব্যস্ত জীবনের অজুহাতে শরীরচর্চা থেকে দূরে থাকতেন। ফলে শারীরিক স্থূলতা, অলসতা এবং নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যেত। কিন্তু এখন সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। তরুণদের এই উদ্যোগ অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করছে ভোরে ঘুম থেকে উঠে শরীরচর্চায় অংশ নিতে।

সাবেক পৌর প্যানেল মেয়র নুরুজ্জামান জামান এবং সাবেক মেয়র মাহমুদ আলম লিটনসহ মাঠে নিয়মিত অনুশীলনকারীরা বলেন, নিয়মিত খেলাধুলা ও ব্যায়ামের উপকারিতা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। এটি শরীরকে সুস্থ রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়। একই সঙ্গে খেলাধুলা দলগত চেতনা, শৃঙ্খলা, নেতৃত্বগুণ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতা গড়ে তোলে। যুবসমাজকে মাদক, অপরাধ ও অন্যান্য নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতেও খেলাধুলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো, এই উদ্যোগের ফলে শহরে ভোরে ঘুম থেকে ওঠার একটি ইতিবাচক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়েছে। একজনকে দেখে আরেকজন উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। ফলে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যসচেতন ও কর্মমুখী একটি সমাজ গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। ফুলবাড়ী সরকারি কলেজ মাঠের এই ভোরের প্রাণচাঞ্চল্য শুধু একটি খেলার দৃশ্য নয়; এটি সুস্থ, সচেতন ও ইতিবাচক জীবনধারার প্রতীক। সমাজের অন্যান্য শ্রেণি-পেশার মানুষও যদি এ ধরনের উদ্যোগে সম্পৃক্ত হন, তবে এটি নিঃসন্দেহে ফুলবাড়ীর সামাজিক ও মানবিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সুস্থ জীবনের বার্তা ছড়াচ্ছে ফুলবাড়ী কলেজ মাঠ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:২০:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

প্রচলিত ধারণা হলো, গ্রামের মানুষ ভোরে ঘুম থেকে ওঠে এবং দিনের কাজ শুরু করে, আর শহরের মানুষ তুলনামূলকভাবে দেরিতে ঘুমায় ও দেরিতে জাগে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই ধারণা অনেক ক্ষেত্রেই বদলাচ্ছে। তারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ দেখা যাচ্ছে ফুলবাড়ী পৌর শহরে। এখানে একদল সচেতন, সুশিক্ষিত ও উদ্যমী তরুণ ভোরের আলো ফুটতেই সমবেত হচ্ছেন ফুলবাড়ী সরকারি কলেজ মাঠে। তাদের এই উদ্যোগ শুধু ব্যক্তিগত সুস্থতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি ধীরে ধীরে একটি ইতিবাচক সামাজিক সংস্কৃতিতে পরিণত হচ্ছে।

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সরকারি কলেজ মাঠে ফজরের নামাজের পরপরই শুরু হয় প্রাণচাঞ্চল্যের এক ভিন্ন দৃশ্য। কেউ ফুটবল নিয়ে অনুশীলনে ব্যস্ত, কেউ ক্রিকেট খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আবার কেউ শরীরচর্চা ও ব্যায়ামে মনোযোগ দিচ্ছেন। মাঠ একটিই হলেও সেখানে একসঙ্গে নানা ধরনের ক্রীড়া ও শারীরিক কার্যক্রম চলতে থাকে। ফলে পুরো মাঠজুড়ে সৃষ্টি হয় এক প্রাণবন্ত পরিবেশ। দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন বিকেলের ব্যস্ত সময়ে মাঠে খেলাধুলা চলছে। অথচ এটি ভোরবেলার দৃশ্য।

গত কয়েক মাস ধরে ফুলবাড়ী সরকারি কলেজ মাঠে এমন দৃশ্য নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন মানুষ এই কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে তরুণদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। অনেকে বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করতে আসেন, আবার কেউ কেউ স্বাস্থ্য সচেতনতার অংশ হিসেবে নিয়মিত হাঁটা, দৌড়ানো বা ব্যায়াম করেন। ফলে মাঠটি এখন শুধু খেলার স্থান নয়, বরং সুস্থ জীবনযাপনের এক উন্মুক্ত কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

অনেকেই বলছেন, এটি শহর জীবনের অত্যন্ত ইতিবাচক একটি পরিবর্তন। কিছুদিন আগেও অনেক মানুষ সকালবেলার মূল্যবান সময় ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিতেন। কর্মব্যস্ত জীবনের অজুহাতে শরীরচর্চা থেকে দূরে থাকতেন। ফলে শারীরিক স্থূলতা, অলসতা এবং নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যেত। কিন্তু এখন সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। তরুণদের এই উদ্যোগ অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করছে ভোরে ঘুম থেকে উঠে শরীরচর্চায় অংশ নিতে।

সাবেক পৌর প্যানেল মেয়র নুরুজ্জামান জামান এবং সাবেক মেয়র মাহমুদ আলম লিটনসহ মাঠে নিয়মিত অনুশীলনকারীরা বলেন, নিয়মিত খেলাধুলা ও ব্যায়ামের উপকারিতা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। এটি শরীরকে সুস্থ রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়। একই সঙ্গে খেলাধুলা দলগত চেতনা, শৃঙ্খলা, নেতৃত্বগুণ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতা গড়ে তোলে। যুবসমাজকে মাদক, অপরাধ ও অন্যান্য নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতেও খেলাধুলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো, এই উদ্যোগের ফলে শহরে ভোরে ঘুম থেকে ওঠার একটি ইতিবাচক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়েছে। একজনকে দেখে আরেকজন উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। ফলে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যসচেতন ও কর্মমুখী একটি সমাজ গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। ফুলবাড়ী সরকারি কলেজ মাঠের এই ভোরের প্রাণচাঞ্চল্য শুধু একটি খেলার দৃশ্য নয়; এটি সুস্থ, সচেতন ও ইতিবাচক জীবনধারার প্রতীক। সমাজের অন্যান্য শ্রেণি-পেশার মানুষও যদি এ ধরনের উদ্যোগে সম্পৃক্ত হন, তবে এটি নিঃসন্দেহে ফুলবাড়ীর সামাজিক ও মানবিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।