ঢাকা ০২:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জয়পুরহাটে জমজমাট পশুর হাট, অসন্তুষ্ট বিক্রেতারা

সুজন কুমার মন্ডল, জয়পুরহাট
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:০১:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জয়পুরহাটে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাটগুলো। এবার হাটে প্রচুর পরিমাণ দেশিয় গরু আমদানি হয়েছে। তবে আমদানির চেয়ে ক্রেতা তুলনামুলক কম। এদিকে দাম নিয়ে ক্রেতারা খুশি হলেও অসন্তুষ্ট বিক্রেতারা। তবে অনেকের মধ্যে দাম নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এসব হাটের গরু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।

জানা গেছে, জয়পুরহাট জেলায় প্রতিবছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে খামারে প্রচুর পরিমাণ পশু পালন করেন খামারিরা। জেলায় এবার ছোট-বড় প্রায় ২৪ হাজার খামারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৫৭৩ টি পশু। এর মধ্যে গরু ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৫৪, ছাগল ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৯১, ভেড়া ৫০ হাজার ৯০ ও মহিষ ২৩৮টি। এদিকে এবার জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ৫৫৩টি। আর চাহিদার অতিরিক্ত ১ লাখ ২৩ হাজার ২০টি পশু বিক্রি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।

জয়পুরহাটের বিভিন্ন হাটে ঘুরে জানা গেছে, ইতিমধ্যে জেলার হাটগুলোতে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশু। এবার হাটে প্রচুর পশু আমদানি হলেও বেচাকেনা কম। উত্তরবঙ্গেও বৃহৎ অন্যতম পশুরহাট হিসেবে পরিচিত জয়পুরহাট শহরের নতুনহাট পশুরহাট। এ হাটে প্রচুর দেশিয় জাতের গরু আমদানি হয়েছে। জয়পুরহাট জেলা ছাড়াও নওগাঁ, বগুড়া, দিনাজপুরের বিভিন্ন উপজেলা থেকে খামারিরা গরু নিয়ে এসেছেন এখানে। কিন্তু আমদানির তুলনায় নেই কাঙ্খিত ক্রেতা। এদিকে দাম নিয়ে বিক্রেতারা অসন্তুষ্ট হলেও খুশি ক্রেতারা। তবে অনেকের মধ্যে দাম নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

সদর উপজেলার চকবরতক গ্রামের রবিউল ইসলাম বলেন, ‌‘৪টি গরু নিয়ে এসেছি। দাম অনেক কম বলছে। এই দামে বিক্রি করলে গরু প্রতি ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা করে লোকশান হবে।’

জামালগঞ্জের নিয়ামত হোসেন বলেন, ‘তিনটি গরু নিয়ে এসেছি। একজন ক্রেতাও আমার গরুর দাম করেনি। দুই ঘণ্টা থেকে গরু নিয়ে দাড়িয়ে আছি। এখন দেখি শেষ পর্যন্ত কি হয়।’
দোগাছি গ্রামের জাহিদ হোসেন বলেন, ‘হাটে লাখের বেশি গরু আমদানি হয়েছে। এতো গরু, কিন্ত ক্রেতা নাই। দামও কম। একটা গরু নিয়ে এসেছিলাম ১ লাখ টাকায় বিক্রি করেছি। কিছু টাকা লাভ হয়েছে।’

পাঁচবিবির বড়মানিক এলাকার মোকলেছুর রহমান বলেন, ‘গরু কিনতে এসেছি, দেখতেছি। পছন্দ হলে কিনে নিয়ে যাব। তবে মাঝারি ও ছোট গরুর দাম বেশি চাচ্ছেন বিক্রেতারা। কম দামে গরু ছাড়তে চাচ্ছেনা। তারপরও কোরবানির জন্য দাম যাই হোক কিনতেই হবে।’

সদরের আমদই গ্রামের আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘জয়পুরহাট হাটে একটি গরু কিনলাম। আমদানি প্রচুর, দাম মোটামুটি স্বাভাবিক আছে। কোরবানি দিতে হবে এজন্য ৯৭ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছি।’

ফেনী থেকে আসা গরু ব্যবসায়ি লিটন আহমেদ বলেন, ‘৭টি বলদ গরু কিনেছি। দাম মোটামুটি ঠিক আছে, খুব একটা বেশি নয়। এখান থেকে গরু কিনে নিয়ে ফেনীর হাটে গিয়ে বিক্রি করবো।’

কুমিল্লার আরিফুর রহমান বলেন, ‘ছোট গরুর দাম বেশি চাচ্ছেন বিক্রেতারা। তবে বড় গরুর দাম কম। আমি ৮টা গরু কিনেছি, আরও কিনবো।’

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মহির উদ্দীন জানান, জেলার চাহিদার অতিরিক্ত ১ লাখ ২৩ হাজার ২০টি পশু সরবরাহ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। জয়পুরহাটে ২৭টি হাটে পশু ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। হাটে পশুর রোগ নির্ণয়ে আমাদের মেডিকেল টিম রয়েছে। কোন গরু অসুস্থ হলে তাৎক্ষনিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অনলাইনের মাধ্যমে পশু ক্রয় বিক্রয় হয়। আমাদের পেজ আছে, সেখানে যে কোন খামারির গরুর ছবি ও তথ্য দিয়ে পোষ্ট করা হয়। দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে গরু কিনতে পারবে এর মাধ্যমে। এছাড়াও হাটের সার্বিক নিরাপত্তা, জাল টাকা শনাক্তের জন্য ও হাটে আইশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করছে, মানুষ যেন নির্বিঘ্নে পশু কেনা-বেচা করতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

জয়পুরহাটে জমজমাট পশুর হাট, অসন্তুষ্ট বিক্রেতারা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:০১:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

জয়পুরহাটে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাটগুলো। এবার হাটে প্রচুর পরিমাণ দেশিয় গরু আমদানি হয়েছে। তবে আমদানির চেয়ে ক্রেতা তুলনামুলক কম। এদিকে দাম নিয়ে ক্রেতারা খুশি হলেও অসন্তুষ্ট বিক্রেতারা। তবে অনেকের মধ্যে দাম নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এসব হাটের গরু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।

জানা গেছে, জয়পুরহাট জেলায় প্রতিবছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে খামারে প্রচুর পরিমাণ পশু পালন করেন খামারিরা। জেলায় এবার ছোট-বড় প্রায় ২৪ হাজার খামারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৫৭৩ টি পশু। এর মধ্যে গরু ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৫৪, ছাগল ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৯১, ভেড়া ৫০ হাজার ৯০ ও মহিষ ২৩৮টি। এদিকে এবার জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ৫৫৩টি। আর চাহিদার অতিরিক্ত ১ লাখ ২৩ হাজার ২০টি পশু বিক্রি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।

জয়পুরহাটের বিভিন্ন হাটে ঘুরে জানা গেছে, ইতিমধ্যে জেলার হাটগুলোতে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশু। এবার হাটে প্রচুর পশু আমদানি হলেও বেচাকেনা কম। উত্তরবঙ্গেও বৃহৎ অন্যতম পশুরহাট হিসেবে পরিচিত জয়পুরহাট শহরের নতুনহাট পশুরহাট। এ হাটে প্রচুর দেশিয় জাতের গরু আমদানি হয়েছে। জয়পুরহাট জেলা ছাড়াও নওগাঁ, বগুড়া, দিনাজপুরের বিভিন্ন উপজেলা থেকে খামারিরা গরু নিয়ে এসেছেন এখানে। কিন্তু আমদানির তুলনায় নেই কাঙ্খিত ক্রেতা। এদিকে দাম নিয়ে বিক্রেতারা অসন্তুষ্ট হলেও খুশি ক্রেতারা। তবে অনেকের মধ্যে দাম নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

সদর উপজেলার চকবরতক গ্রামের রবিউল ইসলাম বলেন, ‌‘৪টি গরু নিয়ে এসেছি। দাম অনেক কম বলছে। এই দামে বিক্রি করলে গরু প্রতি ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা করে লোকশান হবে।’

জামালগঞ্জের নিয়ামত হোসেন বলেন, ‘তিনটি গরু নিয়ে এসেছি। একজন ক্রেতাও আমার গরুর দাম করেনি। দুই ঘণ্টা থেকে গরু নিয়ে দাড়িয়ে আছি। এখন দেখি শেষ পর্যন্ত কি হয়।’
দোগাছি গ্রামের জাহিদ হোসেন বলেন, ‘হাটে লাখের বেশি গরু আমদানি হয়েছে। এতো গরু, কিন্ত ক্রেতা নাই। দামও কম। একটা গরু নিয়ে এসেছিলাম ১ লাখ টাকায় বিক্রি করেছি। কিছু টাকা লাভ হয়েছে।’

পাঁচবিবির বড়মানিক এলাকার মোকলেছুর রহমান বলেন, ‘গরু কিনতে এসেছি, দেখতেছি। পছন্দ হলে কিনে নিয়ে যাব। তবে মাঝারি ও ছোট গরুর দাম বেশি চাচ্ছেন বিক্রেতারা। কম দামে গরু ছাড়তে চাচ্ছেনা। তারপরও কোরবানির জন্য দাম যাই হোক কিনতেই হবে।’

সদরের আমদই গ্রামের আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘জয়পুরহাট হাটে একটি গরু কিনলাম। আমদানি প্রচুর, দাম মোটামুটি স্বাভাবিক আছে। কোরবানি দিতে হবে এজন্য ৯৭ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছি।’

ফেনী থেকে আসা গরু ব্যবসায়ি লিটন আহমেদ বলেন, ‘৭টি বলদ গরু কিনেছি। দাম মোটামুটি ঠিক আছে, খুব একটা বেশি নয়। এখান থেকে গরু কিনে নিয়ে ফেনীর হাটে গিয়ে বিক্রি করবো।’

কুমিল্লার আরিফুর রহমান বলেন, ‘ছোট গরুর দাম বেশি চাচ্ছেন বিক্রেতারা। তবে বড় গরুর দাম কম। আমি ৮টা গরু কিনেছি, আরও কিনবো।’

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মহির উদ্দীন জানান, জেলার চাহিদার অতিরিক্ত ১ লাখ ২৩ হাজার ২০টি পশু সরবরাহ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। জয়পুরহাটে ২৭টি হাটে পশু ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। হাটে পশুর রোগ নির্ণয়ে আমাদের মেডিকেল টিম রয়েছে। কোন গরু অসুস্থ হলে তাৎক্ষনিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অনলাইনের মাধ্যমে পশু ক্রয় বিক্রয় হয়। আমাদের পেজ আছে, সেখানে যে কোন খামারির গরুর ছবি ও তথ্য দিয়ে পোষ্ট করা হয়। দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে গরু কিনতে পারবে এর মাধ্যমে। এছাড়াও হাটের সার্বিক নিরাপত্তা, জাল টাকা শনাক্তের জন্য ও হাটে আইশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করছে, মানুষ যেন নির্বিঘ্নে পশু কেনা-বেচা করতে পারে।