ঢাকা ১২:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য নয়, সবার অধিকার সমান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মৃত্যুদণ্ডের আগে ঢাকাকে জানায়নি সৌদি আরব, জবাব চেয়ে চিঠি সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার সব ধর্মের মূল শিক্ষা: প্রধানমন্ত্রী সীমান্তের ১৩ পূজামণ্ডপে বিজিবির কড়া নিরাপত্তা, প্রস্তুত আরও দুই প্লাটুন রাস্তায় মাদকাসক্ত অবস্থায় ‘রাজকুমারী’, ৩ মাসের রিহ্যাব ও জরিমানা শিক্ষাকে বাণিজ্যে পরিণত করেছিল ফ্যাসিস্ট সরকার’: প্রতিমন্ত্রী টুকু টাঙ্গাইলে ২ হাজার ৮০০ হিন্দুধর্মাবলম্বীকে প্রতিমন্ত্রীর উপহার ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১১৮১ যুব উন্নয়নে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, সরকারি কর্মকর্তাসহ গ্রেপ্তার ৭ হাসিনার সরকারের দেখানো পথেই হাঁটছে বর্তমান সরকার

জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ

ঐক্য, সহাবস্থান, সুস্থ রাজনীতিতে জোর ছাত্রনেতাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৪১:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ৯৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে পবিত্র গীতা, ত্রিপিটক ও বাইবেল থেকে পাঠ করা হয়৷ ধর্মগ্রন্থ পাঠের পর জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মাহিন সরকার বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি মনে করে সব শহীদের স্বপ্ন এবং আহতদের স্পিরিট ধারণ করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য পারস্পরিক সহবস্থান জরুরি। এক্ষেত্রে আমাদের পার্টি সামনে থেকে ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রামাণ্য চিত্র শেষে পর্দায় ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ লেখাটি ভেসে ওঠে।

এরপর এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও সিনিয়র নেতারা মঞ্চে ওঠেন। তাদের মধ্যে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ আরও ছিলেন সামান্তা শারমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, আখতার হোসেন, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, আবদুল হান্নান মাসউদ, ডা. তাসনিম জারা, নাহিদা সারোয়ার নিবা এবং সালেহ উদ্দিন সিফাত।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব আরিফ সোহেল বলেন, ‘এক ঐতিহাসিক সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে ৫ আগস্ট উৎখাত করা হয়েছে। ১৮৫৭, ১৯৪৭, ‘৯০-এ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমাদের জাতিসত্তার বিকাশ ঘটেছে। এই বাংলায় হাজারো চিন্তার, মতের সম্মিলন ঘটেছে। ঐতিহাসিক সমৃদ্ধশালী পূর্ব বাংলা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে, বৈদেশিক দালালদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। এসবের ধারাবাহিকতায় আজকের ২৪ এসেছে। আগস্টে বৈদেশিক দালালের মহাদানবকে তাড়িয়ে দিয়েছে জনগণ।’

সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুম বলেন, ‘আমাদের দল হবে শুধুই বাংলাদেশপন্থী, যারা শুধু বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবে। আগামীর বাংলাদেশ হবে সুস্থ রাজনীতির বাংলাদেশ। সংকটের সময়ে সবার একটাই প্রাধান্য থাকবে বাংলাদেশ। আমরা এজন্য দায়বদ্ধ থাকব।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘দেড় দশক আওয়ামী জাহেলিয়াতে ছিল বিচারহীনতার সংস্কৃতি। স্পষ্ট বিডিআর হত্যাকাণ্ডকে বিডিআর বিদ্রোহ বলা হয়েছে। শাপলা চত্বরে গণহত্যা চালানো হয়েছে। দিনের ভোট রাতে চালুর সংস্কৃতি শুরু হয়, ডামি ভোট হয়। বিদেশে আমাদের বন্ধু থাকবে, কোনো প্রেসক্রিপশনের খবরদারি থাকবে না বলেও উল্লেখ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, গত ১৫ বছরে আমরা গণতন্ত্রের কথা বললেই গুম, খুন ও দেশছাড়া করা হয়েছে। এরপরেও ১৯৪৭ এর লড়াই থেকে শুরু করে হাসিনা পতনের লড়াই করে রক্তিম স্বাধীনতা এনেছে ছাত্র-জনতা। তারা এই পার্লামেন্টের সামনে থেকে শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের পালাতে বাধ্য করেছিলেন। এখান থেকেই আমরা নতুন দলের ঘোষণা দেওয়া হবে।’

জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন বলেন, ‘বাংলাদেশকে রাষ্ট্র হিসেবে পুনর্গঠন করতে হবে। কারণ, এই রাষ্ট্রকে ঠিকভাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ হয়নি। এখন সেই দায়িত্ব আমরা নেব। বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের কথা বলার কোনো দল না থাকায় একটি নতুন রাজনৈতিক দল দরকার। বাংলাদেশ রাষ্ট্র তার নায্য হিস্যা আদায় করতে এবং জনগণ দুর্নীতিবিরোধী, চাঁদাবাজবিরোধী, খেটে-খাওয়া মানুষের কথা বলার জন্য একটি নতুন দল দরকার। আজকের এই দলটি হবে সেই অধিকার আদায়ের দল।’

এর আগে স্লোগানে স্লোগানে মিছিল নিয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জড়ো হন বিপুলসংখ্যক ছাত্র-জনতা। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছেন তারা। কেউ এসেছেন রংপুর থেকে, কেউ এসেছেন খুলনা থেকে।

নতুন এ রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ইতোমধ্যে উপস্থিত হয়েছেন ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ জাবির ইব্রাহিমের (৬) বাবা।

অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ও লেবার পার্টির সেক্রেটারি মিরাজুল ইসলাম।

পাকিস্তান হাইকমিশনের পলিটিক্যাল কাউন্সেলর কামরান দাঙ্গাল, ভ্যাটিকান সিটির রাষ্ট্রদূতও উপস্থিত হয়েছেন।

এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির নেতারা, হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর আহমদ আলী কাসেমী, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন রাজী, সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন এবং জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুলও মঞ্চে যোগ দিয়েছেন।

নতুন দলটির আহ্বায়ক হিসেবে থাকছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। সদস্যসচিব হচ্ছেন আরেক সমন্বয়ক আখতার হোসেন।

এছাড়া, নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীকে প্রধান সমন্বয়কারী, হাসনাত আবদুল্লাহকে দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সারজিস আলমকে উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক পদে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এছাড়াও উপ-সমন্বয়ক হিসেবে আব্দুল হান্নান মাসুদ, দপ্তর সম্পাদক হিসেবে সালেহ উদ্দীন সিফাত ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন সামান্তা শারমীন। সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে আলোচনায় আছেন তাসনিম জারা, মনিরা শারমিন ও নাহিদা সারোয়ার।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ

ঐক্য, সহাবস্থান, সুস্থ রাজনীতিতে জোর ছাত্রনেতাদের

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৪১:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে পবিত্র গীতা, ত্রিপিটক ও বাইবেল থেকে পাঠ করা হয়৷ ধর্মগ্রন্থ পাঠের পর জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মাহিন সরকার বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি মনে করে সব শহীদের স্বপ্ন এবং আহতদের স্পিরিট ধারণ করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য পারস্পরিক সহবস্থান জরুরি। এক্ষেত্রে আমাদের পার্টি সামনে থেকে ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রামাণ্য চিত্র শেষে পর্দায় ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ লেখাটি ভেসে ওঠে।

এরপর এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব ও সিনিয়র নেতারা মঞ্চে ওঠেন। তাদের মধ্যে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ আরও ছিলেন সামান্তা শারমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, আখতার হোসেন, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, আবদুল হান্নান মাসউদ, ডা. তাসনিম জারা, নাহিদা সারোয়ার নিবা এবং সালেহ উদ্দিন সিফাত।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব আরিফ সোহেল বলেন, ‘এক ঐতিহাসিক সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে ৫ আগস্ট উৎখাত করা হয়েছে। ১৮৫৭, ১৯৪৭, ‘৯০-এ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমাদের জাতিসত্তার বিকাশ ঘটেছে। এই বাংলায় হাজারো চিন্তার, মতের সম্মিলন ঘটেছে। ঐতিহাসিক সমৃদ্ধশালী পূর্ব বাংলা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে, বৈদেশিক দালালদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। এসবের ধারাবাহিকতায় আজকের ২৪ এসেছে। আগস্টে বৈদেশিক দালালের মহাদানবকে তাড়িয়ে দিয়েছে জনগণ।’

সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুম বলেন, ‘আমাদের দল হবে শুধুই বাংলাদেশপন্থী, যারা শুধু বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবে। আগামীর বাংলাদেশ হবে সুস্থ রাজনীতির বাংলাদেশ। সংকটের সময়ে সবার একটাই প্রাধান্য থাকবে বাংলাদেশ। আমরা এজন্য দায়বদ্ধ থাকব।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘দেড় দশক আওয়ামী জাহেলিয়াতে ছিল বিচারহীনতার সংস্কৃতি। স্পষ্ট বিডিআর হত্যাকাণ্ডকে বিডিআর বিদ্রোহ বলা হয়েছে। শাপলা চত্বরে গণহত্যা চালানো হয়েছে। দিনের ভোট রাতে চালুর সংস্কৃতি শুরু হয়, ডামি ভোট হয়। বিদেশে আমাদের বন্ধু থাকবে, কোনো প্রেসক্রিপশনের খবরদারি থাকবে না বলেও উল্লেখ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, গত ১৫ বছরে আমরা গণতন্ত্রের কথা বললেই গুম, খুন ও দেশছাড়া করা হয়েছে। এরপরেও ১৯৪৭ এর লড়াই থেকে শুরু করে হাসিনা পতনের লড়াই করে রক্তিম স্বাধীনতা এনেছে ছাত্র-জনতা। তারা এই পার্লামেন্টের সামনে থেকে শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের পালাতে বাধ্য করেছিলেন। এখান থেকেই আমরা নতুন দলের ঘোষণা দেওয়া হবে।’

জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন বলেন, ‘বাংলাদেশকে রাষ্ট্র হিসেবে পুনর্গঠন করতে হবে। কারণ, এই রাষ্ট্রকে ঠিকভাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ হয়নি। এখন সেই দায়িত্ব আমরা নেব। বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের কথা বলার কোনো দল না থাকায় একটি নতুন রাজনৈতিক দল দরকার। বাংলাদেশ রাষ্ট্র তার নায্য হিস্যা আদায় করতে এবং জনগণ দুর্নীতিবিরোধী, চাঁদাবাজবিরোধী, খেটে-খাওয়া মানুষের কথা বলার জন্য একটি নতুন দল দরকার। আজকের এই দলটি হবে সেই অধিকার আদায়ের দল।’

এর আগে স্লোগানে স্লোগানে মিছিল নিয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জড়ো হন বিপুলসংখ্যক ছাত্র-জনতা। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছেন তারা। কেউ এসেছেন রংপুর থেকে, কেউ এসেছেন খুলনা থেকে।

নতুন এ রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ইতোমধ্যে উপস্থিত হয়েছেন ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ জাবির ইব্রাহিমের (৬) বাবা।

অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ও লেবার পার্টির সেক্রেটারি মিরাজুল ইসলাম।

পাকিস্তান হাইকমিশনের পলিটিক্যাল কাউন্সেলর কামরান দাঙ্গাল, ভ্যাটিকান সিটির রাষ্ট্রদূতও উপস্থিত হয়েছেন।

এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির নেতারা, হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর আহমদ আলী কাসেমী, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন রাজী, সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন এবং জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুলও মঞ্চে যোগ দিয়েছেন।

নতুন দলটির আহ্বায়ক হিসেবে থাকছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। সদস্যসচিব হচ্ছেন আরেক সমন্বয়ক আখতার হোসেন।

এছাড়া, নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীকে প্রধান সমন্বয়কারী, হাসনাত আবদুল্লাহকে দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সারজিস আলমকে উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক পদে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এছাড়াও উপ-সমন্বয়ক হিসেবে আব্দুল হান্নান মাসুদ, দপ্তর সম্পাদক হিসেবে সালেহ উদ্দীন সিফাত ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন সামান্তা শারমীন। সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে আলোচনায় আছেন তাসনিম জারা, মনিরা শারমিন ও নাহিদা সারোয়ার।