ঢাকা ০৯:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঋণখেলাপিদের তথ্য চেয়ে ইসির চিঠি এসএসসিতে দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের ১৫ দিনের মধ্যে পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী ঝালকাঠিতে ১৬০ মণ্ডপে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি, নিরাপত্তায় সিসিটিভি শেষ তুলির আঁচড়ে দুর্গাপ্রতিমায় প্রাণ, উৎসবের অপেক্ষায় ইসলামপুর নোয়াখালীতে হাসপাতালের জানালার গ্রিল কেটে ৯ লাখ টাকা চুরি চাহিদা মিটিয়ে ডিম রপ্তানির সক্ষমতা অর্জন করতে হবে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বিশ্বব্যাংক থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ চায় বাংলাদেশ: অর্থমন্ত্রী প্রবাসীদের হয়রানি নিরসনে বিশেষ আদালত গঠনের পরিকল্পনা, শিগগিরই চালু যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-দখলের অভিযোগ, বিচার দাবিতে মানববন্ধন সিলেটে হামের চাপ, শয্যা সংকটে এক বিছানায় একাধিক শিশু

নতুন রাজনৈতিক দলে থাকছেন না শিবিরের দুই শীর্ষ নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৩০:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ১১৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দলে থাকছেন না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক দুই সভাপতি আলী আহসান জুনায়েদ ও রাফে সালমান রিফাত। আলাদা ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য তারা নিজেরাই নিশ্চিত করেন।

৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর গঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয় জোনায়েদকে। রাফে আছেন যুগ্ম সদস্যসচিব পদে। নতুন রাজনৈতিক দলেও তারা বড় পদ পাচ্ছেন বলেই এতদিন কানাঘুষো চলছিল। তবে চীন সফরে থাকাকালীনই শিবিরের সাবেক এ দুই শীর্ষ নেতা জানিয়ে দিয়েছেন, নতুন রাজনৈতিক দলে তাদের না থাকার কথা।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা ২৯ মিনিটে নিজের ব্যক্তিগত আইডিতে প্রথমে ঘোষণাটি দেন আলী আহসান জুনায়েদ। পরে ওই পোস্ট শেয়ার করে রাফে সালমান রিফাত একই ঘোষণা দেন।

আলী আহসান জুনায়েদ তার পোস্টে লেখেন, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি তরুণদের নেতৃত্বে যেই নতুন রাজনৈতিক দলটি আসছে, সেখানে আমি থাকছি না৷ সে কথা আমি আরও সপ্তাহখানেক আগেই জানিয়েছি দলের নেতাদেরকে। বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে ও জাতির নজর নতুন দলের উপর নিবদ্ধ রাখতে নীরবতা বেছে নিয়েছিলাম। কিন্তু, চারপাশের গুঞ্জন থামছে না। তাই, স্পষ্ট করে রাখছি।

তিনি আরও লেখেন, দেখুন, আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মানের জন্য অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারীদের নেতৃত্বে রাজনৈতিক দল দেশের স্বার্থেই প্রয়োজন। নতুন এই রাজনৈতিক দলের প্রতি আমার দোয়া ও শুভকামনা রইলো। জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সততা ও ন্যায়ের পথ থেকে বিচ্যুত না হোক এই দল। দুর্নীতির সকল সুযোগ বন্ধ করে নতুন ধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতি চালু হোক এই দলে।

বারবার বলার পরও যদিও হয়নি, তবুও চাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার যথাযথ অনুসরণ ও ইনক্লুসিভনেস এই দলের বৈশিষ্ট্য হোক। দু:খজনক বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার পরও ট্যাগিং ও ট্যাবুর রাজনীতি থেকে মুক্ত হয়ে নতুন ধারার রাজনীতি এই দলের মাধ্যমে শুরু হোক এই প্রত্যাশাই করি। আশা করি, অভ্যুত্থানের সময়ে আমাদের মধ্যে যেই ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও সহযোগিতার সম্পর্ক ছিলো, নতুন রাজনৈতিক পথচলায়ও আমাদের পারস্পরিক এই সম্পর্ক ও শ্রদ্ধাবোধ অপরিবর্তিত থাকবে, যোগ করেন তিনি।

শেষে নতুন দল, নাহিদ ইসলাম এবং নব নেতৃত্বের জন্য শুভকামনা জানান তিনি।

পরে বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটে জুনায়েদের পোস্ট শেয়ার করে রাফে সালমান লেখেন, ২৮ তারিখে ঘোষিত হতে যাওয়া নতুন রাজনৈতিক দলে আমিও থাকছি না।

তিনি আরও লেখেন, আমার রাজনৈতিক পথচলা থেমে থাকবে না। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনার যে জোয়ার তৈরি হয়েছিল, তাতে শর্ট টার্মে খুব ভালো কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা রাখি না আপাতত। কিন্তু, একই সাথে এটাও মনে রাখি যে, রাজনীতি একটা লম্বা রেইস। ধৈর্য নিয়ে লম্বা সময়ের জন্যই আমাদেরকে এই রেইসে টিকে থাকতে হবে। আমরা নতুন সেই বাংলাদেশের প্রত্যাশি যেটা হবে সত্যিকার অর্থেই ডেমোক্রেটিক, ইনক্লুসিভ, বৈষম্যহীন এবং আধিপত্য মুক্ত। ঐক্যবদ্ধতা ও মধ্যমপন্থাই হবে আমাদের শক্তি। দূর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের জিহাদ চলবে। আঞ্চলিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধেও আমাদের লড়াই চলবে। বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য আমরা জান দিয়ে লড়বো।

পোস্টের শেষে তিনিও নতুন দলের জন্য দোয়া এবং শুভকামনা জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নতুন রাজনৈতিক দলে থাকছেন না শিবিরের দুই শীর্ষ নেতা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৩০:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দলে থাকছেন না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক দুই সভাপতি আলী আহসান জুনায়েদ ও রাফে সালমান রিফাত। আলাদা ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য তারা নিজেরাই নিশ্চিত করেন।

৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর গঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয় জোনায়েদকে। রাফে আছেন যুগ্ম সদস্যসচিব পদে। নতুন রাজনৈতিক দলেও তারা বড় পদ পাচ্ছেন বলেই এতদিন কানাঘুষো চলছিল। তবে চীন সফরে থাকাকালীনই শিবিরের সাবেক এ দুই শীর্ষ নেতা জানিয়ে দিয়েছেন, নতুন রাজনৈতিক দলে তাদের না থাকার কথা।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা ২৯ মিনিটে নিজের ব্যক্তিগত আইডিতে প্রথমে ঘোষণাটি দেন আলী আহসান জুনায়েদ। পরে ওই পোস্ট শেয়ার করে রাফে সালমান রিফাত একই ঘোষণা দেন।

আলী আহসান জুনায়েদ তার পোস্টে লেখেন, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি তরুণদের নেতৃত্বে যেই নতুন রাজনৈতিক দলটি আসছে, সেখানে আমি থাকছি না৷ সে কথা আমি আরও সপ্তাহখানেক আগেই জানিয়েছি দলের নেতাদেরকে। বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে ও জাতির নজর নতুন দলের উপর নিবদ্ধ রাখতে নীরবতা বেছে নিয়েছিলাম। কিন্তু, চারপাশের গুঞ্জন থামছে না। তাই, স্পষ্ট করে রাখছি।

তিনি আরও লেখেন, দেখুন, আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মানের জন্য অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারীদের নেতৃত্বে রাজনৈতিক দল দেশের স্বার্থেই প্রয়োজন। নতুন এই রাজনৈতিক দলের প্রতি আমার দোয়া ও শুভকামনা রইলো। জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সততা ও ন্যায়ের পথ থেকে বিচ্যুত না হোক এই দল। দুর্নীতির সকল সুযোগ বন্ধ করে নতুন ধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতি চালু হোক এই দলে।

বারবার বলার পরও যদিও হয়নি, তবুও চাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার যথাযথ অনুসরণ ও ইনক্লুসিভনেস এই দলের বৈশিষ্ট্য হোক। দু:খজনক বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার পরও ট্যাগিং ও ট্যাবুর রাজনীতি থেকে মুক্ত হয়ে নতুন ধারার রাজনীতি এই দলের মাধ্যমে শুরু হোক এই প্রত্যাশাই করি। আশা করি, অভ্যুত্থানের সময়ে আমাদের মধ্যে যেই ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও সহযোগিতার সম্পর্ক ছিলো, নতুন রাজনৈতিক পথচলায়ও আমাদের পারস্পরিক এই সম্পর্ক ও শ্রদ্ধাবোধ অপরিবর্তিত থাকবে, যোগ করেন তিনি।

শেষে নতুন দল, নাহিদ ইসলাম এবং নব নেতৃত্বের জন্য শুভকামনা জানান তিনি।

পরে বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটে জুনায়েদের পোস্ট শেয়ার করে রাফে সালমান লেখেন, ২৮ তারিখে ঘোষিত হতে যাওয়া নতুন রাজনৈতিক দলে আমিও থাকছি না।

তিনি আরও লেখেন, আমার রাজনৈতিক পথচলা থেমে থাকবে না। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনার যে জোয়ার তৈরি হয়েছিল, তাতে শর্ট টার্মে খুব ভালো কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা রাখি না আপাতত। কিন্তু, একই সাথে এটাও মনে রাখি যে, রাজনীতি একটা লম্বা রেইস। ধৈর্য নিয়ে লম্বা সময়ের জন্যই আমাদেরকে এই রেইসে টিকে থাকতে হবে। আমরা নতুন সেই বাংলাদেশের প্রত্যাশি যেটা হবে সত্যিকার অর্থেই ডেমোক্রেটিক, ইনক্লুসিভ, বৈষম্যহীন এবং আধিপত্য মুক্ত। ঐক্যবদ্ধতা ও মধ্যমপন্থাই হবে আমাদের শক্তি। দূর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের জিহাদ চলবে। আঞ্চলিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধেও আমাদের লড়াই চলবে। বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য আমরা জান দিয়ে লড়বো।

পোস্টের শেষে তিনিও নতুন দলের জন্য দোয়া এবং শুভকামনা জানান।