আলু নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে, চার হিমাগার সীলগালা
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২৩:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ৯৯ বার পড়া হয়েছে
হিমাগারে আলু সংরক্ষণে অতিরিক্ত ভাড়ার প্রতিবাদ ও ন্যায্য ভাড়া নির্ধারণের দাবিতে দ্বিতীয় দফায় প্রতিবাদ সমাবেশ ও মহাসড়কে আলু ঢেলে অবরোধ কর্মসুচি পালন করে দিনাজপুরের আলু চাষীরা। চাষী ও ব্যবসায়ী সমিতির দুর্বার আন্দোলনে মহাসড়ক প্রায় ২ ঘন্টা অবরোধ করে রাখা হয়। অবরোধের ফলে রাস্তার দুপাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। পরে উপজেলা প্রশাসন ৪টি হিমাগার সিলগালা করলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) সকাল ১০টায় দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা পৌর শহরের বিজয় চত্বর মোড়ে আলু চাষী ও আলু ব্যবসায়ী সমিতির পূর্ব ঘোষিত ৭ দিনের আল্টিমেটামের অংশ হিসাবে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কৃষকেরা সড়কে আলু ফেলে দিয়ে ঢাকা-পঞ্চগড় মহাসড়ক অবরোধ করে।

উপজেলা আলু ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল মালেকর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আদর্শ কৃষক এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. জাকির হোসেন ধলু, আলু ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক হর সুন্দর বর্মন, সহ-সভাপতি ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম, সুজালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন, সুজালপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আলহাজ জসিম উদ্দিন প্রমুখ।
তারা অভিযোগ করে বলেন, চলতি বছর জেলার হিমাগার মালিকরা আলু সংরক্ষণের জন্য অস্বাভাবিক ভাড়া নির্ধারণ করেছেন। যা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের হিমাগারের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অনেক বেশি। আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা ভাড়া পুনঃনির্ধারণের ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বার বার দাবি জানালেও কোনো অগ্রগতি হয়নি।
আলু চাষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল মালেক বলেন, গত বছর হিমাগারে প্রতিটি ৬০ কেজি বস্তায় আলু সংরক্ষণের জন্য ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ৩২০ টাকা। কিন্তু এ বছর প্রতিকেজি আলু ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ টাকা। তাই এ বছর আমাদের প্রতি কেজিতে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে। যা গতবারের প্রায় দ্বিগুন।
জানা গেছে, সম্প্রতি বগুড়ার এক উপজেলায় প্রতি বস্তায় মাত্র ৫০ টাকা ভাড়া বৃদ্ধি করায় সেখানে এ ধরনের আন্দোলন হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মধ্যস্থতায় কোন ভাড়া বৃদ্ধি না করেই গতবারের ভাড়া বহাল রাখা হয় কিন্তু বীরগঞ্জের হিমাগার মালিকরা প্রশাসনকে গুরুত্ব না দেয়ায় দীর্ঘদিনেও সুরাহা হয়নি।
সংবাদ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফজলে এলাহী ঘটনাস্থলে গিয়ে আশ্বস্ত করতে ব্যর্থ হন এবং এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীদের প্রবল চাপে হিমাদ্রি লিমিটেড, শাহী হিমাগার (২টি) ও রাহবার ক্লোন্ডষ্টোর সিলগালা করার পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ বিষয়ে যতদিন সুরাহা না হয় ততদিন হিমাগার বন্ধ থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ ব্যপারে মালিক পক্ষ হিমাদ্রির প্রতিনিধি নুরন্নবী, রাহবার প্রতিনিধি রুবেল এবং শাহী হিমাগারের হিরুর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তারা সীলগালা করার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, স্ব স্ব কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে অবগত হয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে এলাহী বলেন, হিমাগার মালিক পক্ষ ও ব্যবসায়ী কৃষক প্রতিনিধিদের সাথে বসে খুব তারাতাড়ি সকল সমস্যার সমাধান করা হবে।






















