ঢাকা ০৬:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অনিয়মের ভিডিও করায় সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নিলেন পাসপোর্ট অফিসের কর্মচারী নাসিরনগরে সার ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, কাঠগড়ায় এমপি হান্নান ২৯ অক্টোবর এইচএসসি-সমমানের ফল, মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব মোংলা বন্দর আধুনিকায়নে চীনের ৩৩৬ মিলিয়ন ডলারের ঋণ ৬ দিন বন্ধ ঢাকা-রিয়াদ ফ্লাইট, ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত সব যাত্রা মা ইলিশ রক্ষায় জেলেদের প্রতি আহ্বান, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে ব্যবস্থা চা উৎপাদনে উত্তরের প্রবৃদ্ধি ৪০ শতাংশ, মান রক্ষায় কীটনাশক ব্যবহারে সতর্কবার্তা গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়া থেকে সরছে দক্ষিণবঙ্গের বাস, নতুন ঠিকানা ঝিলমিল সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা ৪ দিনের রিমাণ্ডে পাগলা মসজিদের দানবাক্সে ১০৪৪ ভরি সোনা

শাখারিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাতৃভাষা দিবস পালন না হওয়ায় ক্ষোভ

মাহবুব বিশ্বাস, বরগুনা
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:২৮:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ১৪৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সরকারী নির্দেশনা উপেক্ষা করে আমতলী উপজেলার শাখারিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়নি। ওই দিন প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহজাহান বিদ্যালয় ছুটি ঘোষনা করেছেন। উপজেলা সকল বিদ্যালয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করলেও ব্যতিক্রম শুধু ওই বিদ্যালয়। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত টানানোর কথা থাকলেও পুর্ণভাবে টানানো হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, আমতলী উপজেলায় ২২৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ১৫৩ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৩ টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২৭ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ২৯ টি ও ৭টি কলেজ রয়েছে। সরকারীভাবে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাতৃভাষা দিবস পালন করলেও ব্যতিক্রম শুধুই শাখারিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম শাহ আলম গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় ছুটি ঘোষনা করেছেন। ফলে শুক্রবার কোন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসেনি এবং মাতৃভাষা দিবস পালন করেনি। শুধুমাত্র সকালে বিদ্যালয় চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী আব্দুল কুদ্দুস জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন। এ ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে প্রধান শিক্ষক একেএম শাহ আলম আওয়ামীলীগ দোসর। তিনি তার বিদ্যালয়ে বসে আওয়ামীলীগ কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন।

গত ৩ ফেব্রুয়ারী প্রধান শিক্ষক ওই বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। ওই অনুষ্ঠানে আওয়ামীলীগ নেতাকমীর্দের অতিথি করা হয়। কিন্তু বিএনপি ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকমীর্দের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। পরে উপজেলা প্রশাসন ওই অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষসহ সকল শ্রেনী কক্ষ তালাবদ্ধ। কোন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী নেই। জাতীয় পতাকা টানানো কিন্তু তাও অর্ধনমিত নয়, পুর্ণভাবে।

বিদ্যালয় অভিভাবক গুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ে মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়নি। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, প্রধান শিক্ষক স্যারে বৃহস্পতিবার আমাদের ২১ ফেব্রুয়ারী স্কুলে যেতে বারণ করেছে। তাই আমরা স্কুলে যাইনি। তারা আরো বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারী শহীদ দিবস পালন করা হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন না করলে আমাদের কি করার আছে? প্রধান শিক্ষকের খামখেয়ালীর কারনে মাতৃভাষা দিবস পালন হয়নি।

বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক একেএম শাহ আলম বলেন, আমার ভুল হয়েছে। আমি ক্ষমা চাই। তবে তাকে বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানে আওয়ামীলীগ নেতাদের আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন।

আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার অলি আহাদ বলেন, সরকারী নির্দেশনা অমান্য করে থাকলে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোঃ তারেক হাসান বলেন, উপজেলা নিবার্হী অফিসার স্যারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমতলী উপজেলা নিবার্হী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বাংলা টাইমসকে বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারী পালন না করা অন্যায়। বিদ্যালয় মাতৃভাষা দিবস পালন না করলে ওই বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

শাখারিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাতৃভাষা দিবস পালন না হওয়ায় ক্ষোভ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:২৮:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

সরকারী নির্দেশনা উপেক্ষা করে আমতলী উপজেলার শাখারিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়নি। ওই দিন প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহজাহান বিদ্যালয় ছুটি ঘোষনা করেছেন। উপজেলা সকল বিদ্যালয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করলেও ব্যতিক্রম শুধু ওই বিদ্যালয়। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত টানানোর কথা থাকলেও পুর্ণভাবে টানানো হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, আমতলী উপজেলায় ২২৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ১৫৩ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৩ টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২৭ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ২৯ টি ও ৭টি কলেজ রয়েছে। সরকারীভাবে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাতৃভাষা দিবস পালন করলেও ব্যতিক্রম শুধুই শাখারিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম শাহ আলম গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় ছুটি ঘোষনা করেছেন। ফলে শুক্রবার কোন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসেনি এবং মাতৃভাষা দিবস পালন করেনি। শুধুমাত্র সকালে বিদ্যালয় চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী আব্দুল কুদ্দুস জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন। এ ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে প্রধান শিক্ষক একেএম শাহ আলম আওয়ামীলীগ দোসর। তিনি তার বিদ্যালয়ে বসে আওয়ামীলীগ কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন।

গত ৩ ফেব্রুয়ারী প্রধান শিক্ষক ওই বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। ওই অনুষ্ঠানে আওয়ামীলীগ নেতাকমীর্দের অতিথি করা হয়। কিন্তু বিএনপি ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকমীর্দের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। পরে উপজেলা প্রশাসন ওই অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষসহ সকল শ্রেনী কক্ষ তালাবদ্ধ। কোন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী নেই। জাতীয় পতাকা টানানো কিন্তু তাও অর্ধনমিত নয়, পুর্ণভাবে।

বিদ্যালয় অভিভাবক গুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ে মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়নি। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, প্রধান শিক্ষক স্যারে বৃহস্পতিবার আমাদের ২১ ফেব্রুয়ারী স্কুলে যেতে বারণ করেছে। তাই আমরা স্কুলে যাইনি। তারা আরো বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারী শহীদ দিবস পালন করা হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন না করলে আমাদের কি করার আছে? প্রধান শিক্ষকের খামখেয়ালীর কারনে মাতৃভাষা দিবস পালন হয়নি।

বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক একেএম শাহ আলম বলেন, আমার ভুল হয়েছে। আমি ক্ষমা চাই। তবে তাকে বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানে আওয়ামীলীগ নেতাদের আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন।

আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার অলি আহাদ বলেন, সরকারী নির্দেশনা অমান্য করে থাকলে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোঃ তারেক হাসান বলেন, উপজেলা নিবার্হী অফিসার স্যারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমতলী উপজেলা নিবার্হী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বাংলা টাইমসকে বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারী পালন না করা অন্যায়। বিদ্যালয় মাতৃভাষা দিবস পালন না করলে ওই বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।