ঢাকা ১২:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রবাসীদের হয়রানি নিরসনে বিশেষ আদালত গঠনের পরিকল্পনা, শিগগিরই চালু যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-দখলের অভিযোগ, বিচার দাবিতে মানববন্ধন সিলেটে হামের চাপ, শয্যা সংকটে এক বিছানায় একাধিক শিশু শিশুর ডিএনএ পরীক্ষা কি চাইলেই করা যায়? রয়েছে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া স্বর্ণের দামে বড় পতন, ভরিতে কমল ৩,২৬৬ টাকা রাতে মহাসড়কে সিএনজি চালায় কারা? পরিচয়হীন চালক, ঝুঁকিতে যাত্রী জেএফকে বিমানবন্দরে তোপের মুখে ড. ইউনূস অনিয়মের ভিডিও করায় সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নিলেন পাসপোর্ট অফিসের কর্মচারী নাসিরনগরে সার ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, কাঠগড়ায় এমপি হান্নান ২৯ অক্টোবর এইচএসসি-সমমানের ফল, মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব

আবহাওয়া অনুকূলে, সরিষার বাম্পার ফলন

আবু বকর সিদ্দিক বক্কর, আদমদীঘি (বগুড়া)
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:১৬:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ১৬৪ বার পড়া হয়েছে

Oplus_131072

বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজলার সর্বস্তরে শুরু হয়েছে আগাম জাতের সরিষা পাকা। এই এলাকার কৃষাণ-কৃষাণীরা চরম ব্যস্ত হয়ে পরেছে জমি থেকে সরিয়া তোলার কাজে। এর পর শুরু হবে নাবী জাতের সরিষা পাকার পালা।

উপজেলার আদমদীঘি সদর, ছাতিয়ান গ্রাম, নশরৎপুর, কুন্দগ্রাম, সান্তাহার ও চাঁপাপুর ইউনিয়নে সরজমিনে মাঠ ঘুড়ে দেখা গেছে, ইতোমধ্যে নাবী জাতের সরিষা শীষের দানা পুষ্ট হওয়া শুরু করেছে। শীত ও কুয়াশা নির্ভর ফসল সরিষা। যতো দীর্ঘ সময় ধরে শীত আর কুয়াশা পড়বে ততো বেশি ভালো হবে সরিষা আবাদ সেই সাথে বাড়বে ফলনও।

এমনটাই দাবী করেছেন উপজেলার সদর ইউনিয়নের কোমারপুর গ্রামর আদর্শ কৃষক আজম আলী, রহিদুল ইসলাম, কাঞ্চনপুর গ্রামের কৃষক আশরাফ আলী, বশীকোড়া গ্রামের বেলাল হোসনসহ সরিষা চাষি বহু প্রান্তিক কৃষক। পুরোদমে সরিষা তোলা ও মাড়াই শুরু হলে সরিষা থেকে প্রাপ্ত তেলের প্রভাব পড়বে ভোজ্য তেলের বাজারে। কমতে শুরু করবে দাম।

উপজলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার সরিষা চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো সাড়ে ৩৮ হাজার বিঘা। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় সাত হাজার বিঘা কম জমিতে সরিষার চাষ করা হয়েছে।

কারণ হিসাবে জানা গেছে, এবার আলু চাষাবাদ বদ্ধি এবং মাটিতে সময় মতো জো (বাত) না আসায় কমেছে ওই পরিমান জমিতে সরিষা চাষ। তবে সাড়ে ৩১ হাজার বিঘা জমিতে দেশীয় কালাজাত সরিষা ছাড়াও বারী ১৪, ১৫ ও ১৭ জাতের সরিষা চাষাবাদ করা হয়েছে।

এবার আবহাওয়া জনিত কারণে ফলন কম হলেও প্রতি বিঘায় গড়ে সাড়ে পাঁচ মন ফলন অনুযায়ী মিলবে প্রায় পৌনে দুই লাখ মন সরিষা। প্রতি মন সরিষায় গড়ে ১৪ কজি হারে মিলবে প্রায় সাড়ে ২৪ লাখ কেজি ভোজ্য তেল। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানী করা সয়াবিন ও পামওয়েল তেলের বাজারে ভোজ্য তেলের দাম কমতে শুরু করবে। ভোজ্য তেলের পাশাপাশি কমবে পশু খাদ্য ও মাছ চাষে ব্যবহার করা খইলের দামও। এমনটাই দাবী করেছেন এই খাতের ব্যবসায়ীরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কষিবিদ মিঠু চন্দ্র অধিকারী বলেন, বিগত মহামারী কোভিড-১৯ ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে ডলার সংকট দফায়-দফায় বাড়তে থাকে আমদানী নির্ভর সয়াবিন ও পামওয়েল তেলের দাম। সে কারণে সরকার ভোজ্য তেলের আমদানী নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসার উদ্যোগ গ্রহণ করে। ভোজ্য তেল জাতীয় ফসল সরিষা চাষে দেশের কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়। দেওয়া হয় প্রণোদনা প্রকল্পের অধিনে উফসি জাতের সরিষা বীজ ও প্রয়োজনীয় সার। এতে করে প্রতি বছর বাড়তে থাকে সরিষার চাষাবাদ, এবছর ও সেই ধারা অব্যাহত আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আবহাওয়া অনুকূলে, সরিষার বাম্পার ফলন

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:১৬:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজলার সর্বস্তরে শুরু হয়েছে আগাম জাতের সরিষা পাকা। এই এলাকার কৃষাণ-কৃষাণীরা চরম ব্যস্ত হয়ে পরেছে জমি থেকে সরিয়া তোলার কাজে। এর পর শুরু হবে নাবী জাতের সরিষা পাকার পালা।

উপজেলার আদমদীঘি সদর, ছাতিয়ান গ্রাম, নশরৎপুর, কুন্দগ্রাম, সান্তাহার ও চাঁপাপুর ইউনিয়নে সরজমিনে মাঠ ঘুড়ে দেখা গেছে, ইতোমধ্যে নাবী জাতের সরিষা শীষের দানা পুষ্ট হওয়া শুরু করেছে। শীত ও কুয়াশা নির্ভর ফসল সরিষা। যতো দীর্ঘ সময় ধরে শীত আর কুয়াশা পড়বে ততো বেশি ভালো হবে সরিষা আবাদ সেই সাথে বাড়বে ফলনও।

এমনটাই দাবী করেছেন উপজেলার সদর ইউনিয়নের কোমারপুর গ্রামর আদর্শ কৃষক আজম আলী, রহিদুল ইসলাম, কাঞ্চনপুর গ্রামের কৃষক আশরাফ আলী, বশীকোড়া গ্রামের বেলাল হোসনসহ সরিষা চাষি বহু প্রান্তিক কৃষক। পুরোদমে সরিষা তোলা ও মাড়াই শুরু হলে সরিষা থেকে প্রাপ্ত তেলের প্রভাব পড়বে ভোজ্য তেলের বাজারে। কমতে শুরু করবে দাম।

উপজলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার সরিষা চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো সাড়ে ৩৮ হাজার বিঘা। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় সাত হাজার বিঘা কম জমিতে সরিষার চাষ করা হয়েছে।

কারণ হিসাবে জানা গেছে, এবার আলু চাষাবাদ বদ্ধি এবং মাটিতে সময় মতো জো (বাত) না আসায় কমেছে ওই পরিমান জমিতে সরিষা চাষ। তবে সাড়ে ৩১ হাজার বিঘা জমিতে দেশীয় কালাজাত সরিষা ছাড়াও বারী ১৪, ১৫ ও ১৭ জাতের সরিষা চাষাবাদ করা হয়েছে।

এবার আবহাওয়া জনিত কারণে ফলন কম হলেও প্রতি বিঘায় গড়ে সাড়ে পাঁচ মন ফলন অনুযায়ী মিলবে প্রায় পৌনে দুই লাখ মন সরিষা। প্রতি মন সরিষায় গড়ে ১৪ কজি হারে মিলবে প্রায় সাড়ে ২৪ লাখ কেজি ভোজ্য তেল। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানী করা সয়াবিন ও পামওয়েল তেলের বাজারে ভোজ্য তেলের দাম কমতে শুরু করবে। ভোজ্য তেলের পাশাপাশি কমবে পশু খাদ্য ও মাছ চাষে ব্যবহার করা খইলের দামও। এমনটাই দাবী করেছেন এই খাতের ব্যবসায়ীরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কষিবিদ মিঠু চন্দ্র অধিকারী বলেন, বিগত মহামারী কোভিড-১৯ ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে ডলার সংকট দফায়-দফায় বাড়তে থাকে আমদানী নির্ভর সয়াবিন ও পামওয়েল তেলের দাম। সে কারণে সরকার ভোজ্য তেলের আমদানী নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসার উদ্যোগ গ্রহণ করে। ভোজ্য তেল জাতীয় ফসল সরিষা চাষে দেশের কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়। দেওয়া হয় প্রণোদনা প্রকল্পের অধিনে উফসি জাতের সরিষা বীজ ও প্রয়োজনীয় সার। এতে করে প্রতি বছর বাড়তে থাকে সরিষার চাষাবাদ, এবছর ও সেই ধারা অব্যাহত আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।