ঢাকা ০৫:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোরে থানা ঘেরাওয়ের পর ভাঙচুর-মামলা, গ্রেফতার ১

শহিদুল ইসলাম দইচ, যশোর
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৫৮:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ১৯৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

‘দাগী অপরাধীদের’ আটকের পর থানা থেকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগে যশোরের মণিরামপুর থানা ঘেরাওয়ের পর সেখানে ত্রাস ও ভাংচুরের অভিযোগে সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ মামলা করেছে।

এ ঘটনায় দু’জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৪-১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে।

রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টুর নেতৃত্বে দলের নেতাকর্মীরা থানা ঘেরাও করেন। বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ থানা ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।

এদিকে, থনায় ঢুকে ত্রাস সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধাদান ও ভাংচুরের অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল শেখর কুমার দত্ত বাদী হয়ে মণিরামপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলা নম্বর ১২/১৭.০২.২০২৫। মামলায় থানায় অনধিকার প্রবেশ, সরকারি কাজে বাধা দান, ত্রাস সৃষ্টি এবং থানার পুলিশ তদারকি পোস্ট(সেন্ট্রি পোস্ট) ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ ঘটনায় পুলিশ মামলার আসামি মাকসিদুল আলম সোহানকে গ্রেফতার করেছে। মাকসিদুল আলম মণিরামপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদ্য বহিস্কৃত আহ্বায়ক।

রোববার বিকেলে থানা ঘেরাওকালে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, মণিরামপুর থানার ওসি নূর মোহাম্মদ গাজী সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিদের ধরে আনছেন ঠিকই। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তিনি তাদের আদালতে সোপর্দ না করে থানা থেকেই ছেড়ে দিচ্ছেন।

তাদের দাবি, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে বিএনপিসহ বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ধরে এনে সাজানো মামলায় হাজতে পাঠানো হতো। চালানো হতো অকথ্য নির্যাতন। সেসময় পুলিশের নির্বিচার চাঁদাবাজির ভয়ে অসংখ্য নেতাকর্মী বাড়ি তো দূরের কথা আশপাশের এলাকায়ও থাকতে পারেননি। এখন দাগী অপরাধী হওয়ার পরও তাঁদেরকে ছেড়ে দেওয়া ফ্যাসিস্টদের সহযোগিতার নামান্তর।

কর্মসূচিতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, আটকের পর দুই দিনে সাতজন চিহ্নিত অপরাধীকে ছেড়ে দিয়েছেন মণিরামপুর থানার ওসি। কেন ওসি এটা করছেন তা বোধগম্য হচ্ছে না। এর মধ্যে নিশ্চয় কিন্তু আছে।

সমাবেশে নেতারা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি থানা থেকে আসামি ছেড়ে দেওয়া বন্ধ না হয় তাহলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

ঘোরও কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দীক, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোতাহরুল ইসলাম রিয়াদ, সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বিল্লাল গাজী, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইউনুস আলী জুয়েল, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান এবং সদস্য সচিব মাসুদ গাজী।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে মণিরামপুর থানার ওসি নূর মোহাম্মদ গাজী বলেন, ত্রাস সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধাদান,সেন্ট্রি পোস্ট ভাংচুরের ঘটনায় একজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, আসামি ধরে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ঠিক নয়। পুলিশ আসমি ধরে আদালতে সোপর্দ করে। জামিন পেয়ে বেরিয়ে এলে পুলিশের করার কিছুই থাকে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

যশোরে থানা ঘেরাওয়ের পর ভাঙচুর-মামলা, গ্রেফতার ১

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৫৮:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

‘দাগী অপরাধীদের’ আটকের পর থানা থেকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগে যশোরের মণিরামপুর থানা ঘেরাওয়ের পর সেখানে ত্রাস ও ভাংচুরের অভিযোগে সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ মামলা করেছে।

এ ঘটনায় দু’জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১৪-১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে।

রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টুর নেতৃত্বে দলের নেতাকর্মীরা থানা ঘেরাও করেন। বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ থানা ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।

এদিকে, থনায় ঢুকে ত্রাস সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধাদান ও ভাংচুরের অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল শেখর কুমার দত্ত বাদী হয়ে মণিরামপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলা নম্বর ১২/১৭.০২.২০২৫। মামলায় থানায় অনধিকার প্রবেশ, সরকারি কাজে বাধা দান, ত্রাস সৃষ্টি এবং থানার পুলিশ তদারকি পোস্ট(সেন্ট্রি পোস্ট) ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ ঘটনায় পুলিশ মামলার আসামি মাকসিদুল আলম সোহানকে গ্রেফতার করেছে। মাকসিদুল আলম মণিরামপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদ্য বহিস্কৃত আহ্বায়ক।

রোববার বিকেলে থানা ঘেরাওকালে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, মণিরামপুর থানার ওসি নূর মোহাম্মদ গাজী সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিদের ধরে আনছেন ঠিকই। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তিনি তাদের আদালতে সোপর্দ না করে থানা থেকেই ছেড়ে দিচ্ছেন।

তাদের দাবি, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে বিএনপিসহ বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ধরে এনে সাজানো মামলায় হাজতে পাঠানো হতো। চালানো হতো অকথ্য নির্যাতন। সেসময় পুলিশের নির্বিচার চাঁদাবাজির ভয়ে অসংখ্য নেতাকর্মী বাড়ি তো দূরের কথা আশপাশের এলাকায়ও থাকতে পারেননি। এখন দাগী অপরাধী হওয়ার পরও তাঁদেরকে ছেড়ে দেওয়া ফ্যাসিস্টদের সহযোগিতার নামান্তর।

কর্মসূচিতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, আটকের পর দুই দিনে সাতজন চিহ্নিত অপরাধীকে ছেড়ে দিয়েছেন মণিরামপুর থানার ওসি। কেন ওসি এটা করছেন তা বোধগম্য হচ্ছে না। এর মধ্যে নিশ্চয় কিন্তু আছে।

সমাবেশে নেতারা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি থানা থেকে আসামি ছেড়ে দেওয়া বন্ধ না হয় তাহলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

ঘোরও কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দীক, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোতাহরুল ইসলাম রিয়াদ, সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বিল্লাল গাজী, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইউনুস আলী জুয়েল, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান এবং সদস্য সচিব মাসুদ গাজী।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে মণিরামপুর থানার ওসি নূর মোহাম্মদ গাজী বলেন, ত্রাস সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধাদান,সেন্ট্রি পোস্ট ভাংচুরের ঘটনায় একজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, আসামি ধরে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ঠিক নয়। পুলিশ আসমি ধরে আদালতে সোপর্দ করে। জামিন পেয়ে বেরিয়ে এলে পুলিশের করার কিছুই থাকে না।