ঢাকা ১২:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য নয়, সবার অধিকার সমান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মৃত্যুদণ্ডের আগে ঢাকাকে জানায়নি সৌদি আরব, জবাব চেয়ে চিঠি সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার সব ধর্মের মূল শিক্ষা: প্রধানমন্ত্রী সীমান্তের ১৩ পূজামণ্ডপে বিজিবির কড়া নিরাপত্তা, প্রস্তুত আরও দুই প্লাটুন রাস্তায় মাদকাসক্ত অবস্থায় ‘রাজকুমারী’, ৩ মাসের রিহ্যাব ও জরিমানা শিক্ষাকে বাণিজ্যে পরিণত করেছিল ফ্যাসিস্ট সরকার’: প্রতিমন্ত্রী টুকু টাঙ্গাইলে ২ হাজার ৮০০ হিন্দুধর্মাবলম্বীকে প্রতিমন্ত্রীর উপহার ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১১৮১ যুব উন্নয়নে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, সরকারি কর্মকর্তাসহ গ্রেপ্তার ৭ হাসিনার সরকারের দেখানো পথেই হাঁটছে বর্তমান সরকার

পাবনায় জামায়াতের অফিসে হামলা, মোটরসাইকেল অগ্নিসংযোগ

পাবনা প্রতিনিধি 
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৪৫:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ১০২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পাবনা সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারের জেরে জামায়াতের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ সময় একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়া হয়।

এছাড়াও জামায়াত সমর্থক কয়েকজনের বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে ছাত্র আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদ ও জাহিদুলের ইসলামের ফেস্টুন।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের কুমারগাড়ী এলাকার তিন নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের কার্যালয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। 

এসব ঘটনায় রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সাতজনকে অভিযুক্ত করে পাবনা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। 

অভিযুক্তরা হলেন, মালিগাছা ইউনিয়ন বিএনপি সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী, পাবনা সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, 

পাবনা জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবির হোসেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যা মামলার আসামি উজ্জ্বল হোসেনসহ সাতজন। এছাড়া অজ্ঞাতনামা অসংখ্য অভিযুক্ত রয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ১০টার দিকে মালিগাছা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলীর নেতৃত্বে আনুমানিক ২৫-৩০ জন অস্ত্রধারী ক্যাডার বাহিনী পিস্তল, বন্দুক, রামদা, চাইনিজ কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হেমায়েতপুর ইউনিয়নের কুমারগাড়ি এলাকায় স্থানীয় জামায়াতের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করে।

এ সময় হামলাকারীরা একটি মুদিখানা দোকান ভাঙচুর ও একটি অটোরিকশার গ্যারেজ ভাঙচুর লুটপাট করে। পাশে থাকা একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয়। ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

এরপর তারা স্থানীয় বাসিন্দা পাবনা পৌর জামায়াতের ইঞ্জিনিয়ার ফোরামের সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ করিমসহ বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নিহত শহীদ আবু সাঈদ ও জাহিদুল ইসলামের ফেস্টুন পুড়িয়ে দেয় হামলাকারীরা।

ভুক্তভোগী জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ করিমের অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর থেকে বিএনপি নেতা ইয়াকুব আলী, মাহমুদুল হাসান, আবির হোসেনসহ বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতারা দখলদারিত্ব, আধিপত্য বিস্তার, সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ত্রাস সৃষ্টি করে আসছে। 

তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের অফিসে হামলা-ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও গুলিবর্ষণ করেছে। সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মালিগাছা ইউনিয়ন বিএনপি সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী বলেন, ‘এ ঘটনায় আমি মোটেও জড়িত নই। 

যখন এ ঘটনা ঘটে তখন থানার ওসি সাহেবের ফোন পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে সবাইকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছি। এর বেশি কিছু নয়।’

পাবনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সাহা বলেন, ‘জমিজমা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে কয়েকদিন ধরে একটি ঝামেলা চলে আসছিল। 

শনিবার রাতে দোকান ও অফিস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পাবনায় জামায়াতের অফিসে হামলা, মোটরসাইকেল অগ্নিসংযোগ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৪৫:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

পাবনা সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারের জেরে জামায়াতের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ সময় একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়া হয়।

এছাড়াও জামায়াত সমর্থক কয়েকজনের বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে ছাত্র আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদ ও জাহিদুলের ইসলামের ফেস্টুন।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের কুমারগাড়ী এলাকার তিন নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের কার্যালয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। 

এসব ঘটনায় রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সাতজনকে অভিযুক্ত করে পাবনা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। 

অভিযুক্তরা হলেন, মালিগাছা ইউনিয়ন বিএনপি সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী, পাবনা সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, 

পাবনা জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবির হোসেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র হত্যা মামলার আসামি উজ্জ্বল হোসেনসহ সাতজন। এছাড়া অজ্ঞাতনামা অসংখ্য অভিযুক্ত রয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ১০টার দিকে মালিগাছা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলীর নেতৃত্বে আনুমানিক ২৫-৩০ জন অস্ত্রধারী ক্যাডার বাহিনী পিস্তল, বন্দুক, রামদা, চাইনিজ কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হেমায়েতপুর ইউনিয়নের কুমারগাড়ি এলাকায় স্থানীয় জামায়াতের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করে।

এ সময় হামলাকারীরা একটি মুদিখানা দোকান ভাঙচুর ও একটি অটোরিকশার গ্যারেজ ভাঙচুর লুটপাট করে। পাশে থাকা একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয়। ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

এরপর তারা স্থানীয় বাসিন্দা পাবনা পৌর জামায়াতের ইঞ্জিনিয়ার ফোরামের সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ করিমসহ বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নিহত শহীদ আবু সাঈদ ও জাহিদুল ইসলামের ফেস্টুন পুড়িয়ে দেয় হামলাকারীরা।

ভুক্তভোগী জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ করিমের অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর থেকে বিএনপি নেতা ইয়াকুব আলী, মাহমুদুল হাসান, আবির হোসেনসহ বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতারা দখলদারিত্ব, আধিপত্য বিস্তার, সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ত্রাস সৃষ্টি করে আসছে। 

তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের অফিসে হামলা-ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও গুলিবর্ষণ করেছে। সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মালিগাছা ইউনিয়ন বিএনপি সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী বলেন, ‘এ ঘটনায় আমি মোটেও জড়িত নই। 

যখন এ ঘটনা ঘটে তখন থানার ওসি সাহেবের ফোন পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে সবাইকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছি। এর বেশি কিছু নয়।’

পাবনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সাহা বলেন, ‘জমিজমা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে কয়েকদিন ধরে একটি ঝামেলা চলে আসছিল। 

শনিবার রাতে দোকান ও অফিস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।