ঢাকা ১০:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঋণখেলাপিদের তথ্য চেয়ে ইসির চিঠি এসএসসিতে দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের ১৫ দিনের মধ্যে পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী ঝালকাঠিতে ১৬০ মণ্ডপে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি, নিরাপত্তায় সিসিটিভি শেষ তুলির আঁচড়ে দুর্গাপ্রতিমায় প্রাণ, উৎসবের অপেক্ষায় ইসলামপুর নোয়াখালীতে হাসপাতালের জানালার গ্রিল কেটে ৯ লাখ টাকা চুরি চাহিদা মিটিয়ে ডিম রপ্তানির সক্ষমতা অর্জন করতে হবে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বিশ্বব্যাংক থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ চায় বাংলাদেশ: অর্থমন্ত্রী প্রবাসীদের হয়রানি নিরসনে বিশেষ আদালত গঠনের পরিকল্পনা, শিগগিরই চালু যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-দখলের অভিযোগ, বিচার দাবিতে মানববন্ধন সিলেটে হামের চাপ, শয্যা সংকটে এক বিছানায় একাধিক শিশু

জনগণের ঘাড়ে ২০ লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণ

বিশেষ প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ১৩৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশে জনগণের ঘাড়ে এখন ২০ লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণ। যার ১৮ লাখ কোটিই রেখে গেছে পতিত শেখ হাসিনার সরকার। ১৫ বছরে ঋণ বেড়েছে সাড়ে ৬ গুণ। এ ঋণে ডুবিয়ে উন্নয়নের গল্প বানাতেন শেখ হাসিনা, যা পরিশোধে চাপ বাড়ছে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পতিত সরকারের যথাযথ ঋণ ব্যবস্থাপনা না থাকায় দেশি উৎস থেকে বেশি ঋণ নেয়া হয়েছে। আবার বিদেশি ঋণ নেওয়া হয়েছে বাছবিচারহীনভাবে।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর শেষে সরকারের ঋণের পরিমাণ ২০ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে বিদেশি ঋণ ছিল ১০ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। বাকিটা অভ্যন্তরীণ ঋণ।

ব্যয় মেটাতে অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি উৎস থেকে ক্রমাগত ঋণ করেছে পতিত শেখ হাসিনা সরকার। আবার এ ঋণের অর্থ থেকে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারও হয়েছে।

তথ্যমতে, ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ যখন সরকারের দায়িত্ব নেয়, তখন দেশি-বিদেশি ঋণের স্থিতি ছিল ২ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে শেখ হাসিনা জাতির কাঁধে রেখে যায় ১৮ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকার ঋণের বোঝা। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণ ছিল ১০ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদ ড. মইনুল ইসলাম বলেন, ১৫ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা এই কয়েক বছরে তিনি ঋণ করেছেন। এবং শেষের তিন বছরে এই বড় বড় প্রকল্পের নামে প্রচণ্ডভাবে ঋণ নিয়ে ঋণকে ১০০ বিলিয়ন ডলার পার করে দিয়েছেন। এভাবে খামখেয়ালি উন্নয়নের গল্প রচনা করে তিনি ঋণের সাগরে ফেলে গেছেন।

তিনি বলেন, অর্থগুলো আত্মসাৎ করে বিদেশে নেওয়া হয়েছে। এ কারণে ব্যাংকিং সেক্টর যাতে কলাপস না করে, সে জন্য বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নর মোটামুটি একটা স্বস্তির অবস্থায় নিয়ে এসেছেন। কিন্তু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাবে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গত ৫ আগস্ট পালিয়ে যাওয়ার আগে হাসিনা প্রতিবছর মাথাপিছু জিডিপির উচ্চ প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছেন। যাকে জনগণের সঙ্গে বড় ধরনের প্রতারণা বলে মনে করেন তারা। হাসিনার শাসনামলে নেওয়া হয় একের পর এক মেগা প্রকল্প। প্রতিটি মেগা প্রকল্পে প্রকৃত ব্যয়ের তিন-চার গুণ বেশি ব্যয় দেখানোর মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয় লাখ লাখ কোটি টাকা।

বিশাল অঙ্কের ঋণের কিস্তি পরিশোধের দায় মেটাতে, কমপক্ষে আগামী এক দশক দেশের অর্থনীতি বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে ডুবে থাকবে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

জনগণের ঘাড়ে ২০ লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

দেশে জনগণের ঘাড়ে এখন ২০ লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণ। যার ১৮ লাখ কোটিই রেখে গেছে পতিত শেখ হাসিনার সরকার। ১৫ বছরে ঋণ বেড়েছে সাড়ে ৬ গুণ। এ ঋণে ডুবিয়ে উন্নয়নের গল্প বানাতেন শেখ হাসিনা, যা পরিশোধে চাপ বাড়ছে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পতিত সরকারের যথাযথ ঋণ ব্যবস্থাপনা না থাকায় দেশি উৎস থেকে বেশি ঋণ নেয়া হয়েছে। আবার বিদেশি ঋণ নেওয়া হয়েছে বাছবিচারহীনভাবে।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর শেষে সরকারের ঋণের পরিমাণ ২০ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে বিদেশি ঋণ ছিল ১০ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। বাকিটা অভ্যন্তরীণ ঋণ।

ব্যয় মেটাতে অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি উৎস থেকে ক্রমাগত ঋণ করেছে পতিত শেখ হাসিনা সরকার। আবার এ ঋণের অর্থ থেকে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারও হয়েছে।

তথ্যমতে, ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ যখন সরকারের দায়িত্ব নেয়, তখন দেশি-বিদেশি ঋণের স্থিতি ছিল ২ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে শেখ হাসিনা জাতির কাঁধে রেখে যায় ১৮ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকার ঋণের বোঝা। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণ ছিল ১০ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদ ড. মইনুল ইসলাম বলেন, ১৫ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা এই কয়েক বছরে তিনি ঋণ করেছেন। এবং শেষের তিন বছরে এই বড় বড় প্রকল্পের নামে প্রচণ্ডভাবে ঋণ নিয়ে ঋণকে ১০০ বিলিয়ন ডলার পার করে দিয়েছেন। এভাবে খামখেয়ালি উন্নয়নের গল্প রচনা করে তিনি ঋণের সাগরে ফেলে গেছেন।

তিনি বলেন, অর্থগুলো আত্মসাৎ করে বিদেশে নেওয়া হয়েছে। এ কারণে ব্যাংকিং সেক্টর যাতে কলাপস না করে, সে জন্য বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নর মোটামুটি একটা স্বস্তির অবস্থায় নিয়ে এসেছেন। কিন্তু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাবে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গত ৫ আগস্ট পালিয়ে যাওয়ার আগে হাসিনা প্রতিবছর মাথাপিছু জিডিপির উচ্চ প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছেন। যাকে জনগণের সঙ্গে বড় ধরনের প্রতারণা বলে মনে করেন তারা। হাসিনার শাসনামলে নেওয়া হয় একের পর এক মেগা প্রকল্প। প্রতিটি মেগা প্রকল্পে প্রকৃত ব্যয়ের তিন-চার গুণ বেশি ব্যয় দেখানোর মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয় লাখ লাখ কোটি টাকা।

বিশাল অঙ্কের ঋণের কিস্তি পরিশোধের দায় মেটাতে, কমপক্ষে আগামী এক দশক দেশের অর্থনীতি বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে ডুবে থাকবে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।