ঢাকা ০২:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘নারীর উন্নয়ন পুরুষদের সার্বিক সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়’

সোহরাব হোসেন সৌরভ. রাজশাহী
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:১৪:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ১৪৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কেয়া খান বলেন, অদম্যদের কেউ দমিয়ে রাখতে পারে না। পুরস্কারে ভ‚ষিত হন বা না হন নারীরা সবাই অদম্য। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর আয়োজিত ‘অদম্য নারী পুরস্কার ২০২৪’ শীর্ষক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। মহাপরিচালক বলেন, ২০১৩ সাল থেকে অদম্য নারী পুরস্কার ধারাবাহিকভাবে দেয়া হচ্ছে। পুরস্কারটি মূলত নারীদের পাশাপাশি পুরুষদেরকেও অনুপ্রাণিত করতে প্রদান করা হচ্ছে। নারীরা পুরুষদেরই অংশ। নারীর উন্নয়ন পুরুষদের সার্বিক সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়।

প্রধান অতিথি বলেন, তাঁরা সেই সমতার সমাজ প্রতিষ্ঠিত করতে চান, যেখানে নারীদের সুবিধা বঞ্চিত অবস্থান থেকে উঠে আসার গল্প শোনাতে হবে না। কোনো নারীর জীবনে নির্যাতন যেন আর না হয়। া সবাই যেন সমভাবে এগিয়ে যেতে পারেন। সে উদ্দেশ্যে সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চান তিনি।

নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করা নারী শাবানা বানুর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ করে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। তাছাড়া তিনি বিসিক থেকেও প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং তিনি প্রশিক্ষণলব্ধ ভাতা থেকে যেভাবে উপকৃত হয়েছেন তা শুনে তিনি তৃপ্তি পেয়েছেন। এটা ভেবে যে তমহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কিছু করতে পারছেন বলে।

বাল্যবিয়ের রোধ করতে হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাল্য বিয়ে দেশে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। গড় বাল্যবিয়ের হার বাংলাদেশে দেশে ৫০ ভাগেরও বেশি। বাল্যবিয়ে কমানোর ক্ষেত্রে সামাজিক কাঠামো, মানসিকতা ও বিদ্যমান রীতিনীতি বদলাতে হবে। সেখানে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন দরকার, সেই সাথে মানসিকতা পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন পুরুষের সহযোগিতা।

অনুষ্ঠানে বিভাগের পাঁচজনকে পাঁচ ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী নির্বাচিত করা হয়। এ বছর অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী ক্যাটাগরিতে নওগাঁ সাপাহারের সেফালী খাতুন, শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী ক্যাটাগরিতে সিরাজগঞ্জ চৌহালীর আয়শা সিদ্দিকা, সফল জননী নারী ক্যাটাগরিতে সিরাজগঞ্জ কামারখন্দের লাইলী বেগম, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করেছেন যে নারী ক্যাটাগরিতে নওগাঁ সদরের শাবানা বানু এবং সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী ক্যাটাগরিতে রাজশাহী পবার বিলকিস বেগম শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী নির্বাচিত হয়েছে।

বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ এর সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি দ্বীন মোহাম্মদ, জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মনির হোসেন এবং অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম। এছাড়াও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাজশাহী অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার তরফদার আক্তার জামীল,মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক শবনম শিরিন, পুরস্কারপ্রাপ্ত অন্যান্য অদম্য নারীগণ, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গণমাধ্যমকমীরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

‘নারীর উন্নয়ন পুরুষদের সার্বিক সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়’

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:১৪:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কেয়া খান বলেন, অদম্যদের কেউ দমিয়ে রাখতে পারে না। পুরস্কারে ভ‚ষিত হন বা না হন নারীরা সবাই অদম্য। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর আয়োজিত ‘অদম্য নারী পুরস্কার ২০২৪’ শীর্ষক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। মহাপরিচালক বলেন, ২০১৩ সাল থেকে অদম্য নারী পুরস্কার ধারাবাহিকভাবে দেয়া হচ্ছে। পুরস্কারটি মূলত নারীদের পাশাপাশি পুরুষদেরকেও অনুপ্রাণিত করতে প্রদান করা হচ্ছে। নারীরা পুরুষদেরই অংশ। নারীর উন্নয়ন পুরুষদের সার্বিক সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়।

প্রধান অতিথি বলেন, তাঁরা সেই সমতার সমাজ প্রতিষ্ঠিত করতে চান, যেখানে নারীদের সুবিধা বঞ্চিত অবস্থান থেকে উঠে আসার গল্প শোনাতে হবে না। কোনো নারীর জীবনে নির্যাতন যেন আর না হয়। া সবাই যেন সমভাবে এগিয়ে যেতে পারেন। সে উদ্দেশ্যে সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চান তিনি।

নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করা নারী শাবানা বানুর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ করে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। তাছাড়া তিনি বিসিক থেকেও প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং তিনি প্রশিক্ষণলব্ধ ভাতা থেকে যেভাবে উপকৃত হয়েছেন তা শুনে তিনি তৃপ্তি পেয়েছেন। এটা ভেবে যে তমহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কিছু করতে পারছেন বলে।

বাল্যবিয়ের রোধ করতে হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাল্য বিয়ে দেশে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। গড় বাল্যবিয়ের হার বাংলাদেশে দেশে ৫০ ভাগেরও বেশি। বাল্যবিয়ে কমানোর ক্ষেত্রে সামাজিক কাঠামো, মানসিকতা ও বিদ্যমান রীতিনীতি বদলাতে হবে। সেখানে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন দরকার, সেই সাথে মানসিকতা পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন পুরুষের সহযোগিতা।

অনুষ্ঠানে বিভাগের পাঁচজনকে পাঁচ ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী নির্বাচিত করা হয়। এ বছর অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী ক্যাটাগরিতে নওগাঁ সাপাহারের সেফালী খাতুন, শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী ক্যাটাগরিতে সিরাজগঞ্জ চৌহালীর আয়শা সিদ্দিকা, সফল জননী নারী ক্যাটাগরিতে সিরাজগঞ্জ কামারখন্দের লাইলী বেগম, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করেছেন যে নারী ক্যাটাগরিতে নওগাঁ সদরের শাবানা বানু এবং সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী ক্যাটাগরিতে রাজশাহী পবার বিলকিস বেগম শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী নির্বাচিত হয়েছে।

বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ এর সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি দ্বীন মোহাম্মদ, জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মনির হোসেন এবং অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম। এছাড়াও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাজশাহী অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার তরফদার আক্তার জামীল,মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক শবনম শিরিন, পুরস্কারপ্রাপ্ত অন্যান্য অদম্য নারীগণ, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গণমাধ্যমকমীরা উপস্থিত ছিলেন।