গদখালীতে বেড়েছে ফুলের চাহিদা, বেড়েছে দামও
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৪৭:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ২৮৩ বার পড়া হয়েছে
তিন দিবসকে সামনে রেখে ঝিকরগাছার গদখালী ফুল চাষিরা ১০০কোটি টাকার ফুল বিক্রির আশা করছেন। ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে ফুলের দাম ও চাহিদা বাড়ায় ফুল চাষিদের মাঝে উৎফুল্ল দেখা দিয়েছে। গোলাপের মত ফুটে উঠেছে চাষিদের মুখে হাসি।
ফেব্রুয়ারিতে পহেলা ফাগুন ভালোবাসা দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আর স্বাধীনতা দিবস। এই তিন দিবসকে সামনে রেখে, এবারের মৌসুমে চাষিরা ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে একশ’ কোটি টাকা। সেটি পূরণ হবে বলে আশা করছে।
সরেজমিন মঙ্গলবার গদখালী ফুল বাজার ঘুরে দেখাগেছে। প্রতিদিনের মতো সকালে চাষিরা তাদের উৎপাদিত গোলাপ, রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাস, জারবেরা, চন্দ্রমল্লিকা, গাঁদা ফুল নিয়ে আসেন যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের গদখালী ফুল মার্কেটে।
মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) অন্যান্য ফুলের চেয়ে গোলাপ বেশি দামে বিক্রি করছেন চাষিরা। দু’দিন আগেও তারা গোলাপ বিক্রি করেন ৬ থেকে ৭ টাকা দরে। কিন্তু আজ ১০ টাকা থেকে ১২টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর রজনীগন্ধা স্টিক বিক্রি হচ্ছে ৫-৬ টাকা। গ্লাডিওলাস ৮-১০ টাকা, জারবেরা বিক্রি করছেন ১৪-১৬ টাকা।

গদখালী পটুয়াপাড়ার মো. ইনতাজ আলী হলুদ ও সাদা চন্দ্রমল্লিকা এনেছেন ১০০০ পিস। বিক্রি করেছেন ৪ টাকা দরে, জারবেরা রঙ ভেদে ১২-১৪ টাকা আর জিপসি প্রতি আঁটি ১৫ টাকা দরে।
গদখালীর মো. জসিম উদ্দিন নিয়ে এসেছিলেন গ্লাডিওলাস, প্রতি পিস গ্লাডিওলাস ৭-৯ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। তিনি আশা করছেন, ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে ১০-১২ টাকা দাম পাওয়া যাবে।
সৈয়দপাড়া এলাকার মো. আতি গাজী এবছর ৭বিঘা জমিতে সবরকম ফুলের চাষ করেছেন, গোলাপ বিক্রি করেছেন একশ’ ১০০০ টাকা দরে। রজনীগন্ধা বিক্রি করছেন একশ’ ৬০০ টাকা ও জারবেরা প্রতি পিচ ১৪ টাকায় বিক্রি করছেন। গাঁদা বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা হাজার। গ্লাডিওলাস একশ’ ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পটুয়াপাড়া এলাকার ফুল চাষি মো. মনজুর আলম ১০বিঘা জমিতে ফুলচাষ করেছেন, তার মধ্যে শুধু গোলাপেরচাষ করেছেন সাড়ে পাঁচ বিঘা জমিতে। তার দাবি, ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে আগামীকাল ১২ও ১৩ ফেব্রুয়ারি গোলাপের দাম ২০-২২টাকা দাম পেতে পারেন। অবশ্য, তিনি গতবছর ২৫-২৭ টাকা পিস গোলাপ বিক্রি করেছেন। শীত কম হওয়ায় গোলাপের আমদানি বাজারে প্রচুর, যার কারণে, দাম একটু কম।
গদখালী পানিসারা গ্রামের মো. ইসমাইল হোসেন ১০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন রকম ফুলের চাষ করেছেন। আজ রজনীগন্ধা ৯০০ পিস এনেছেন, বিক্রি করেছেন ৫ টাকা দরে। তিনি বলেন, প্রথমদিকে রজনীগন্ধা দাম বেশ কম পাচ্ছিলাম। সোমবার থেকে দাম বাড়ছে। ক্ষেতে যে ফুল রয়েছে, তা আগামী দু’দিনে ১০-১২ টাকা দরে বিক্রি হবে বলে আশা করছি।
বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ শে মার্চ পর্যন্ত, পহেলা ফাগুন ভালোবাসা দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আর স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে আমাদের যে একশ’ কোটি টাকা ফুল বিক্রির লক্ষ্য, তা পূরণ হবে বলে আশা করছি। ভালোবাসা দিবসে মূলত গোলাপের চাহিদা থাকে বেশি।
গদখালী ফুল চাষি ও ফুল ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. আবুল খায়ের ও সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর বলেন, আগামী তিন দিবসকে সামনে রেখে চাষিদের প্রস্তুতি বেশ ভালো রয়েছে। মাঝে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় গোলাপের দাম একটু কম থাকলেও দিন যতো যাচ্ছে দাম ততো বাড়ছে। প্রতিটি ক্ষেতে পর্যাপ্ত ফুল রয়েছে। আশা করছি, ফুল বিক্রির যে শত কোটি টাকার টার্গেট তা পূরণ হবে।
ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গদখালী ও পানিসারা এলাকার প্রায় ৬৩০হেক্টর জমিতে ফুলের চাষ করেন প্রায় চার হাজার চাষি। তাদের নিরাপদ জৈব বালাইনাশক ব্যবহার, শেড তৈরিসহ বিভিন্ন রকমের সাপোর্ট আমরা দিয়ে আসছি। পাশাপাশি ঝিকরগাছা ষ্টেশন থেকে রেলযোগে যাতে দ্রুত সময়ে গদখালীর ফুল রাজধানী শহর ঢাকাতে পৌঁছাতে পারে তার জন্য বেনাপোল-ঢাকা রুপসী এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঝিকরগাছায় স্টপেজ জরুরী দরকার হয়ে পড়েছে।






















