৩২ নম্বরের বাড়িটি এখন ধ্বংসস্তূপ
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:০০:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ২৮২ বার পড়া হয়েছে
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটির অর্ধেকের বেশি অংশ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সেখানে উৎসুক মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এদের অনেকে ভাঙা বাড়িটি ঘুরে ঘুরে দেখছেন। আবার কেউ সেলফি তুলছেন।

বাড়িটির কিছু অংশে কয়েকজনকে হাতুড়ি দিয়ে ভাঙচুর করতে দেখা যায়। একদল মানুষ রড কাটছে। আরেক দল সেই রড নিয়ে যাচ্ছে। কাউকে বাড়ির ইট নিয়ে যেতে দেখা যায়। তবে কোনো ভারী যন্ত্র দিয়ে বাড়ি ভাঙতে দেখা যায়নি।

বাড়ির আশপাশে সংবাদকর্মীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ৩২ নম্বর সড়ক দিয়ে যারা যাচ্ছেন, তাদের অনেকেই গাড়ির গতি কমিয়ে জানালা দিয়ে বাড়িটি দেখছেন। ছবি তুলছেন। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) যেখানে গরু জবাই করে রান্না করা হয়েছে, সেখানেও অনেকের ভিড় দেখা গেছে।

এর আগে বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা পর্যন্ত এক্সকাভেটর (খননযন্ত্র), ক্রেন ও বুলডোজার দিয়ে বাড়িটির অর্ধেকের বেশি অংশ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। এরপর ভাঙার কাজ বন্ধ থাকলেও দিনভর ওই বাড়ি ঘিরে ছিল বিক্ষুব্ধ ও উৎসুক জনতার ভিড়।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ভারতে পালিয়ে যাওয়া ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তৃতা প্রচারের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বুধবার রাতে ধানমন্ডির ওই বাড়ি ঘিরে ব্যাপক বিক্ষোভ করে।

একপর্যায়ে বাড়িটিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। বুধবার রাতেই ক্রেন, এক্সকাভেটর এনে বাড়ি ভাঙার কাজ শুরু হয়। রাতে যুক্ত হয় একটি বুলডোজার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ফজরের পর থেকে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। ভাঙা দুই ভবন এবং পেছনের বর্ধিত জাদুঘর ভবনে ঢুকে পড়ে উত্সুক জনতা। এই তিন ভবনের বিভিন্ন কাঠামো ভেঙে আসবাব, লোহা, ভাঙা গ্রিল, কাঠ যে যার মতো যা পারে নিয়ে যায়।

এদের মধ্যে কেউ কেউ বলে, হাসিনা যে অন্যায় করেছেন এবং সাধারণ মানুষের অধিকার হরণ করেছেন, তার প্রতিবাদে তারা ভবনের এসব অংশ খুলে নিচ্ছে।

শেখ মুজিবুর রহমানকে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ির যে সিঁড়িতে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল সে অংশটি এখনো ভাঙা হয়নি। সকাল থেকেই উত্সুক জনতাকে সিঁড়িটিতে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে দেখা গেছে।

সিঁড়ির পাশের দেয়ালজুড়ে থাকা গুলির চিহ্নগুলোর পাশে কালো কালিতে লেখা হয় ‘ফেরাউনের মৃত্যুস্থান’। এর কিছুটা দূরে লেখা হয় ‘একেকটা ধ্বংসস্তূপ আমাদের বিজয়ের আগাম নিশান’।

পেছনের ছয়তলা বর্ধিত জাদুঘরের ভবনটিতে শত শত মানুষ ঢুকছে আর বের হচ্ছে-এই চিত্র দেখা গেছে সকাল থেকে। ভবনটিতে থাকা বঙ্গবন্ধু সম্পর্কিত বিভিন্ন বইও হাতে হাতে নিয়ে যেতে দেখা গেছে অনেককে।























