ঢাকা ১০:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বেসরকারি জ্বালানি তেল আমদানিতে বিশেষ সুবিধার অভিযোগ ভিত্তিহীন: জ্বালানি বিভাগ শেখ হাসিনা চাইলেই কি দেশে ফিরতে পারবেন? বসুন্ধরায় অ্যামেচার মার্শাল আর্টের জমজমাট আসর ‘হাসিনা কার্ড’ ব্যবহার করে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সব বাধা পেরিয়ে বাস্তবতার নিরিখে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী নীরবে এতিম শিশুদের পাশে সায়েম সোবহান আনভীর সেবার মানসিকতা ছাড়া চিকিৎসাব্যবস্থার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়: প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে সক্রিয় চক্র: প্রধানমন্ত্রী তনু হত্যা মামলায় সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে পুনরায় গ্রেপ্তার হাসিনাকে ঘিরে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন

বায়ুদূষণে বাংলাদেশে বছরে মারা যায় লাখের বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৪৪:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৫ ১২৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বায়ুদূষনের প্রভাবে বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার ৪৫৬ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার (সিআরইএ)-এর এই গবেষণা প্রতিবেদন শনিবার (১৮ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রকাশ করা হয়।

‘বাংলাদেশে সূক্ষ্মকণা বায়ু দূষণে জনস্বাস্থ্য প্রভাব’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, বায়ুদূষণ জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্টজনিত রোগ, হৃদরোগ এবং অন্যান্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

পিএম ২.৫ ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ, স্ট্রোক, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, লোয়ার রেসপিরেটরি ইনফেকশন এবং লাং ক্যানসারের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশেষত, ছোট শিশুরা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতি বছর পিএম ২.৫ সংশ্লিষ্ট লোয়ার রেসপিরেটরি ইনফেকশনে পাঁচ হাজার ২৫৮ শিশুর মৃত্যু হয়।

২০২৩ সালে বিশ্বের দূষিত দেশের তালিকায় শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ। প্রতি ঘনমিটার বাতাসে অতি ক্ষুদ্র বালু কণার বার্ষিক গড় মান ছিল ৭৯ দশমিক নয় মাইক্রোগ্রাম; যা বার্ষিক জাতীয় মানদণ্ড ৩৫ মাইক্রোগ্রামের দ্বিগুণের বেশি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানের চেয়ে ১৫ গুণ বেশি।

সিআরইএর মতে, বাংলাদেশের জাতীয় বায়ুমানের মানদণ্ড (৩৫ মাইক্রোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার) পূরণ করা সম্ভব হলেও মৃত্যুহার ১৯ শতাংশ, আয়ুষ্কালজনিত সমস্যা ২১ শতাংশ এবং অক্ষমতা নিয়ে বসবাসের বছর ১২ শতাংশ কমতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন কঠোরভাবে মেনে চলা সম্ভব হলে প্রতি বছর ৮১ হাজার ২৮২ মানুষের জীবন রক্ষা করা যাবে।

সিআরইএর বায়ুমান বিশ্লেষক ড. জেমি কেলি বলেন, বাংলাদেশে বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অপরিণত শিশু, কম ওজনের শিশুর জন্ম এবং শিশু মৃত্যু ঘটছে। তিনি আরো বলেন, ‘বায়ুদূষণ অর্থনীতিকেও দুর্বল করে, প্রতি বছর প্রায় ২৬৬ মিলিয়ন কর্মদিবসের ক্ষতি হয়।

বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ঢাকার ক্রমবর্ধমান দূষণ কেবল শারীরিক স্বাস্থ্যই নয়, মানসিক স্বাস্থ্যকেও প্রভাবিত করছে।’ এয়ার কোয়ালিটি লাইফ ইনডেক্স (একিউএলআই) ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে যে, বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বব্যাপী গড় আয়ু দুই বছর সাত মাস হ্রাস পেয়েছে। তবে, বাংলাদেশে কমেছে আরও বেশি, চার বছর আট মাস।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বায়ুদূষণে বাংলাদেশে বছরে মারা যায় লাখের বেশি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৪৪:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৫

বায়ুদূষনের প্রভাবে বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার ৪৫৬ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার (সিআরইএ)-এর এই গবেষণা প্রতিবেদন শনিবার (১৮ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রকাশ করা হয়।

‘বাংলাদেশে সূক্ষ্মকণা বায়ু দূষণে জনস্বাস্থ্য প্রভাব’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, বায়ুদূষণ জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্টজনিত রোগ, হৃদরোগ এবং অন্যান্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

পিএম ২.৫ ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ, স্ট্রোক, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, লোয়ার রেসপিরেটরি ইনফেকশন এবং লাং ক্যানসারের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশেষত, ছোট শিশুরা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতি বছর পিএম ২.৫ সংশ্লিষ্ট লোয়ার রেসপিরেটরি ইনফেকশনে পাঁচ হাজার ২৫৮ শিশুর মৃত্যু হয়।

২০২৩ সালে বিশ্বের দূষিত দেশের তালিকায় শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ। প্রতি ঘনমিটার বাতাসে অতি ক্ষুদ্র বালু কণার বার্ষিক গড় মান ছিল ৭৯ দশমিক নয় মাইক্রোগ্রাম; যা বার্ষিক জাতীয় মানদণ্ড ৩৫ মাইক্রোগ্রামের দ্বিগুণের বেশি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানের চেয়ে ১৫ গুণ বেশি।

সিআরইএর মতে, বাংলাদেশের জাতীয় বায়ুমানের মানদণ্ড (৩৫ মাইক্রোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার) পূরণ করা সম্ভব হলেও মৃত্যুহার ১৯ শতাংশ, আয়ুষ্কালজনিত সমস্যা ২১ শতাংশ এবং অক্ষমতা নিয়ে বসবাসের বছর ১২ শতাংশ কমতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন কঠোরভাবে মেনে চলা সম্ভব হলে প্রতি বছর ৮১ হাজার ২৮২ মানুষের জীবন রক্ষা করা যাবে।

সিআরইএর বায়ুমান বিশ্লেষক ড. জেমি কেলি বলেন, বাংলাদেশে বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অপরিণত শিশু, কম ওজনের শিশুর জন্ম এবং শিশু মৃত্যু ঘটছে। তিনি আরো বলেন, ‘বায়ুদূষণ অর্থনীতিকেও দুর্বল করে, প্রতি বছর প্রায় ২৬৬ মিলিয়ন কর্মদিবসের ক্ষতি হয়।

বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ঢাকার ক্রমবর্ধমান দূষণ কেবল শারীরিক স্বাস্থ্যই নয়, মানসিক স্বাস্থ্যকেও প্রভাবিত করছে।’ এয়ার কোয়ালিটি লাইফ ইনডেক্স (একিউএলআই) ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে যে, বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বব্যাপী গড় আয়ু দুই বছর সাত মাস হ্রাস পেয়েছে। তবে, বাংলাদেশে কমেছে আরও বেশি, চার বছর আট মাস।