ঢাকা ০২:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাসে তিনবারের বেশি টাকা তুললে দিতে হবে অতিরিক্ত ফি শিগগিরই ১০ হাজার পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ, জানালেন প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে কেন বাড়ছে পাহাড় ধস? গবেষণায় উঠে এলো ভয়াবহ চিত্র হত্যার পর ড্রেনে স্কুলছাত্রীর লাশ, যুবককে ফাঁসির দণ্ড আইসিসির ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগস কমিটির চেয়ারম্যান হলেন তামিম ইকবাল বিশ্বকাপ ফাইনালে হাফটাইম শো, দীর্ঘ বিরতিতে প্রশ্ন ফুটবলারদের প্রস্তুতি নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রেও আকাশছোঁয়া আয়, ফিফা সভাপতির বেতন কত? শাহবাগের অবরোধ প্রত্যাহার, শিক্ষার্থীদের আলটিমেটাম বাজেট অধিবেশনের সমাপ্তি, পাস হয়েছে ১০টি সরকারি বিল মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নে কাজ চলছে: প্রধানমন্ত্রী

ইউরোপে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন অভিবাসন প্রত্যাশীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৩১:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৪ ১৫০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জার্মানি পাড়ি দিতে চেষ্টার কমতি থাকে নেই তৃতীয় বিশ্বের মানুষদের। বিশ্বজুড়ে অভিবাসন প্রত্যাশিরা মনে করেন, সুখ-স্বাচ্ছন্দের দেশ জার্মানিতে পা রাখলেই মিলবে অর্থনৈতিক মুক্তি। তওব এ ধারণাটা মিথ্যে নয়, ইউরোপের অন্যতম অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী দেশ জার্মানির ক্ষেত্রে।

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের লাখ লাখ মানুষ প্রতি বছর কাজের সন্ধানে জার্মানিতে যাওয়ার আবেদন করেন। অবৈধ উপায়েও দেশটিতে ঢোকার চেষ্টা করেন অনেকে। এক্ষেত্রে কাজ পেতে অনেক ভোগান্তির শিকার হতে হয়। তবে এবার অভিবাসন প্রত্যাশীদের জন্য বিরাট সুখবর দিয়েছে জার্মানি।

দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জনবল সংকট কাটাতে বিপুল সংখ্যক বিদেশী কর্মী নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বার্লিন। এ লক্ষ্যে কর্মসংস্থান আইনও সংস্কার করেছে দেশটি। এর ফলে ইউরোপের দুয়ারে প্রবেশের সুযোগ পাবেন লাখ লাখ অভিবাসনপ্রত্যাশী। যেখানে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ইউরোপের অন্যান্য দেশে কঠোর সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, ঠিক তখনই এসব সুযোগ দিল জার্মানি।

ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মী সংকট কাটাতে চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই অতিরিক্ত দুই লাখ ৮৮ হাজার দক্ষ কর্মী ভিসা প্রদান করবে দেশটি।

জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ন্যান্সি ফেজার জানান, দক্ষ তরুণরা জার্মানিতে আরও সহজে তাদের প্রশিক্ষণ ও পড়াশোনা শেষ করত পারবে। দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা খুব দ্রুত এবং সহজেই জার্মানিতে তাদের কাজ খুঁজে নিতে পারবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অভিবাসন নিশ্চিত করা না গেলে ২০৪০ সালের মধ্যে জার্মানিতে কর্মক্ষম জনসংখ্যা প্রায় ১০ শতাংশ হ্রাস পাবে। তাই ২০২৩ সালে কর্মসংস্থান আইন সংস্কার করে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য নিয়ম শিথিল করেছে জার্মানি। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ন্যান্সি ফ্যাজার ২০২৩ সালে এই আইন সংস্কারের সময় একে বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক অভিবাসন আইন বলে অভিহিত করেছিলেন।

বার্টেলসম্যান ফাউন্ডেশনের গবেষণায় বলা হয়, ২০৪০ সাল নাগাদ জার্মানির কর্মক্ষম জনসংখ্যা ৪৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন থেকে ৪১ দশমিক ৯ মিলিয়নে নেমে যাবে। ২০৬০ সালে এই সংখ্যা আরও কমে ৩৫ দশমিক ১ মিলিয়নে দাঁড়াতে পারে। এ অবস্থায় বছরে প্রায় ২ লাখ ৮৮ হাজার দক্ষ বিদেশি কর্মী নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে জার্মানি।

বার্টেলসম্যানের অভিবাসন বিশেষজ্ঞ সুজানে শুলজ বলেন, শ্রমবাজার থেকে বেবি বুমার্স প্রজন্ম বিদায় নেয়ায় বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। জার্মানির অভ্যন্তরীণ দক্ষতার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রয়োজন। পাশাপাশি অভিবাসনও অপরিহার্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান অভিবাসনের গতি বাড়াতে এই প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে হবে। চাকরির বাজারে বিদেশিদের সহজ প্রবেশাধিকার এবং তাদের যোগ্যতা সঠিকভাবে মূল্যায়নের পদক্ষেপ নিতে হবে। বাড়াতে হবে অভিবাসীদের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাও।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ইউরোপে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন অভিবাসন প্রত্যাশীরা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৩১:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৪

জার্মানি পাড়ি দিতে চেষ্টার কমতি থাকে নেই তৃতীয় বিশ্বের মানুষদের। বিশ্বজুড়ে অভিবাসন প্রত্যাশিরা মনে করেন, সুখ-স্বাচ্ছন্দের দেশ জার্মানিতে পা রাখলেই মিলবে অর্থনৈতিক মুক্তি। তওব এ ধারণাটা মিথ্যে নয়, ইউরোপের অন্যতম অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী দেশ জার্মানির ক্ষেত্রে।

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের লাখ লাখ মানুষ প্রতি বছর কাজের সন্ধানে জার্মানিতে যাওয়ার আবেদন করেন। অবৈধ উপায়েও দেশটিতে ঢোকার চেষ্টা করেন অনেকে। এক্ষেত্রে কাজ পেতে অনেক ভোগান্তির শিকার হতে হয়। তবে এবার অভিবাসন প্রত্যাশীদের জন্য বিরাট সুখবর দিয়েছে জার্মানি।

দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জনবল সংকট কাটাতে বিপুল সংখ্যক বিদেশী কর্মী নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বার্লিন। এ লক্ষ্যে কর্মসংস্থান আইনও সংস্কার করেছে দেশটি। এর ফলে ইউরোপের দুয়ারে প্রবেশের সুযোগ পাবেন লাখ লাখ অভিবাসনপ্রত্যাশী। যেখানে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ইউরোপের অন্যান্য দেশে কঠোর সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, ঠিক তখনই এসব সুযোগ দিল জার্মানি।

ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মী সংকট কাটাতে চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই অতিরিক্ত দুই লাখ ৮৮ হাজার দক্ষ কর্মী ভিসা প্রদান করবে দেশটি।

জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ন্যান্সি ফেজার জানান, দক্ষ তরুণরা জার্মানিতে আরও সহজে তাদের প্রশিক্ষণ ও পড়াশোনা শেষ করত পারবে। দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা খুব দ্রুত এবং সহজেই জার্মানিতে তাদের কাজ খুঁজে নিতে পারবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অভিবাসন নিশ্চিত করা না গেলে ২০৪০ সালের মধ্যে জার্মানিতে কর্মক্ষম জনসংখ্যা প্রায় ১০ শতাংশ হ্রাস পাবে। তাই ২০২৩ সালে কর্মসংস্থান আইন সংস্কার করে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য নিয়ম শিথিল করেছে জার্মানি। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ন্যান্সি ফ্যাজার ২০২৩ সালে এই আইন সংস্কারের সময় একে বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক অভিবাসন আইন বলে অভিহিত করেছিলেন।

বার্টেলসম্যান ফাউন্ডেশনের গবেষণায় বলা হয়, ২০৪০ সাল নাগাদ জার্মানির কর্মক্ষম জনসংখ্যা ৪৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন থেকে ৪১ দশমিক ৯ মিলিয়নে নেমে যাবে। ২০৬০ সালে এই সংখ্যা আরও কমে ৩৫ দশমিক ১ মিলিয়নে দাঁড়াতে পারে। এ অবস্থায় বছরে প্রায় ২ লাখ ৮৮ হাজার দক্ষ বিদেশি কর্মী নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে জার্মানি।

বার্টেলসম্যানের অভিবাসন বিশেষজ্ঞ সুজানে শুলজ বলেন, শ্রমবাজার থেকে বেবি বুমার্স প্রজন্ম বিদায় নেয়ায় বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। জার্মানির অভ্যন্তরীণ দক্ষতার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রয়োজন। পাশাপাশি অভিবাসনও অপরিহার্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান অভিবাসনের গতি বাড়াতে এই প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে হবে। চাকরির বাজারে বিদেশিদের সহজ প্রবেশাধিকার এবং তাদের যোগ্যতা সঠিকভাবে মূল্যায়নের পদক্ষেপ নিতে হবে। বাড়াতে হবে অভিবাসীদের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাও।