ঢাকা ০৫:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শহীদদের তালিকা নয়, জাতির স্মৃতি সংরক্ষণের লড়াই ভৈরব নদে গোসলে নেমে গৃহবধূ নিখোঁজ ডিম্বাশয়ের বার্ধক্যে লাগাম! আরও বেশি বয়স পর্যন্ত মা হতে পারবেন নারীরা সোনার মূর্তি আর পুরোনো কয়েনের ফাঁদ, ভাই-বোন গ্রেপ্তার ক্যান্টনমেন্টের ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পর নাহিদ এক দফার ঘোষণা দেন চার ক্যাটাগরির যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বৃদ্ধি, কার্যকর ১ জুলাই এবার উত্তরাঞ্চলে নতুন শঙ্কা, সতর্কবার্তা ৭ জেলার জন্য ডিজিটাল রূপান্তরে গণমাধ্যমের নতুন চ্যালেঞ্জ, সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ সিলেট-ঢাকা রুটে চালু হচ্ছে ‘টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস’ জিয়া হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত মোজাফফর গ্রেপ্তার, ৪৫ বছর পর সামনে পুরোনো প্রশ্ন

নবান্ন উৎসব ঘিরে জয়পুরহাটে মাছের মেলা

সুজন কুমার মন্ডল, জয়পুরহাট
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৫৭:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৪ ১১৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এখনো বহু গ্রামে টিকে রয়েছে নবান্নের রীতি। জয়পুরহাটের কালাইয়ের পাঁচশিরা বাজারে নবান্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে বসেছে মাছের মেলা। সেখানে সুন্দর করে সাজানো কাতলা, রুই, মৃগেল, চিতল, ব্ল‍্যাককার্প, গ্রাসকার্প, কার্ফু, কালবাউশ, ব্রিগেড, সিলভার কার্পসহ হরেক রকমের মাছ। সেখানে ভোর থেকে বসেছে সারি সারি মাছের দোকান। চলছে হাঁকডাক ও দরদাম। ৫ কেজি থেকে শুরু করে ১৮ কেজি ওজনের বড় মাছ। মাছের আকার অনুযায়ী প্রতি কেজি মাছ ৩শ থেকে ১২শ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও রবিবার কালাই পৌরসভার পাঁচশিরা বাজারে নবান্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে বসেছে মাছের মেলা। নবান্ন উৎসবে প্রতি বছর এখানে মাছের মেলা বসে। উপজেলার একটি পৌরসভা ও পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় ৯০-১০০টি গ্রামের মানুষ মেলায় অংশ নেন।

উৎসবে প্রতি বাড়িতে মেয়ে জামাইসহ স্বজনদের আগে থেকে নিমন্ত্রণ করা হয়। দূর-দূরান্ত থেকেও লোকজন আসেন মেলায় মাছ কিনতে। এই মাছের মেলায় ক্রেতারা ব্যাপক উৎসাহের সঙ্গে কিনছেন কাতলা, রুই, মৃগেল, চিতল, ব্ল‍্যাককার্প , গ্রাসকার্প, কার্ফু, কালবাউশ, ব্রিগেড, সিলভার কার্পসহ হরেক রকমের মাছ। আবার এইসব মাছ দেখতে এসেছেন অনেকেই। তবে এই মাছের মেলায় শুধুই মাছ কেনার বিষয় নয়, আছে একধরনের জামাই-মেয়েদের কেনার প্রতিযোগিতা। কোন জামাই কত বড় মাছ কিনলেন, সেটাই আসল বিষয়। প্রতিযোগিতায় নীরব অংশগ্রহণ করে শ্বশুরেরা।

IMG 20241117 WA0008

অগ্রহায়ণ মাসে নবান্ন উৎসব উপলক্ষে বসেছে উপজেলার পাঁচশিরা বাজারে প্রায় অর্ধবর্ষের এই মাছের মেলা। এ দিনটিকে ঘিরে এখানে দিনব্যাপী চলে মাছ কেনা ও বিক্রি করার উৎসব। অর্ধশতাধিক দোকানে এসব মাছের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। ক্রেতারা মাছের দাম হাকাচ্ছেন, কিনছেন, আবার কেউ কেউ সেলফি তুলতেও ব্যস্ত। শুধু সেলফি তুলেই শেষ নয়। মাছ মেলার ছবি দিয়ে কেউ কেউ আবার ঝড় তুলছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও। এই মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন পণ্যের পসরা বসেছিল এই মেলায়।

মেলায় ঘুরতে আসা মোছা. পারভিন আক্তার বলেন, আমার বিয়ের পর থেকেই আমি প্রতিবছর এই মেলা দেখতে আসি। এ মেলার জন্য আমরা আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াত করি। আমাদের বাড়ির জন্য এবার ১২ কেজি ওজনের কাতলা মাছ কিনেছি।

কালাই উপজেলার মাত্রাই গ্রামের বাসিন্দা মো. আতিকুর রহমান জানান, এই নবান্নের মেলা আমাদের কাছে ঈদের চেয়েও বেশি আনন্দের। বাড়িতে মেয়ে জামাই, ভাগ্নি জামাইকে দাওয়াত করা হয়েছে। এই মাছের মেলা কেন্দ্র করে তারা বাড়িতে এসেছে।

মেলায় মাছ কিনতে আসা চঞ্চল বাবু নামে এক জামাই বলেন, অন্য বছরের চাইতে এবার মাছের দাম একটু বেশী। তবে যাই হউক না কেন এই মেলা থেকে ১৮ কেজি ওজনের একটি বø্যাককার্প মাছ কিনে নিয়ে শশুর বাড়ি যাচ্ছি।

কালাই উপজেলার আকন্দপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো.এনামুল আকন্দ বলেন, প্রায় অর্ধবর্ষের ঐতিহ্যবাহী মেলাটি যেমন মাছের জন্য বিখ্যাত, তেমনি এই এলাকায় ধান-আলুতেও ভরপুর থাকে। এ কারণে আশপাশের লোকজন মেলায় ছুটে আসে।

মাছ বিক্রেতা আব্দুল লতিফ বলেন, মাছের মেলাতে বড় পুকুর, দিঘি ও নদী থেকে নানান জাতের বড় বড় মাছ সংগ্রহ করা হয়েছে। কাতলা, রুই, বø্যাককার্প, মৃগেল ব্রিগেড, সিলভার ৫শ’ থেকে ১২শ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

কালাই উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তৌহিদা মোহতামিম বাংলা টাইমসকে বলেন, প্রতি বছর এই মেলাকে ঘিরে এলাকায় উৎসব বিরাজ করে। আজও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। এ মেলায় এবার ৪০-৫০টি স্টলের মাধ্যমে দিন শেষে এখানকার ব্যবসায়ীরা অন্তত কোটি টাকার মাছ কেনাবেচা করবেন। মেলায় কেউ যেনো বিষাযুক্ত মাছ বিক্রি করতে না পারে সেদিকে আমাদের কঠোর নজরদারি রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নবান্ন উৎসব ঘিরে জয়পুরহাটে মাছের মেলা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৫৭:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৪

এখনো বহু গ্রামে টিকে রয়েছে নবান্নের রীতি। জয়পুরহাটের কালাইয়ের পাঁচশিরা বাজারে নবান্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে বসেছে মাছের মেলা। সেখানে সুন্দর করে সাজানো কাতলা, রুই, মৃগেল, চিতল, ব্ল‍্যাককার্প, গ্রাসকার্প, কার্ফু, কালবাউশ, ব্রিগেড, সিলভার কার্পসহ হরেক রকমের মাছ। সেখানে ভোর থেকে বসেছে সারি সারি মাছের দোকান। চলছে হাঁকডাক ও দরদাম। ৫ কেজি থেকে শুরু করে ১৮ কেজি ওজনের বড় মাছ। মাছের আকার অনুযায়ী প্রতি কেজি মাছ ৩শ থেকে ১২শ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও রবিবার কালাই পৌরসভার পাঁচশিরা বাজারে নবান্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে বসেছে মাছের মেলা। নবান্ন উৎসবে প্রতি বছর এখানে মাছের মেলা বসে। উপজেলার একটি পৌরসভা ও পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় ৯০-১০০টি গ্রামের মানুষ মেলায় অংশ নেন।

উৎসবে প্রতি বাড়িতে মেয়ে জামাইসহ স্বজনদের আগে থেকে নিমন্ত্রণ করা হয়। দূর-দূরান্ত থেকেও লোকজন আসেন মেলায় মাছ কিনতে। এই মাছের মেলায় ক্রেতারা ব্যাপক উৎসাহের সঙ্গে কিনছেন কাতলা, রুই, মৃগেল, চিতল, ব্ল‍্যাককার্প , গ্রাসকার্প, কার্ফু, কালবাউশ, ব্রিগেড, সিলভার কার্পসহ হরেক রকমের মাছ। আবার এইসব মাছ দেখতে এসেছেন অনেকেই। তবে এই মাছের মেলায় শুধুই মাছ কেনার বিষয় নয়, আছে একধরনের জামাই-মেয়েদের কেনার প্রতিযোগিতা। কোন জামাই কত বড় মাছ কিনলেন, সেটাই আসল বিষয়। প্রতিযোগিতায় নীরব অংশগ্রহণ করে শ্বশুরেরা।

IMG 20241117 WA0008

অগ্রহায়ণ মাসে নবান্ন উৎসব উপলক্ষে বসেছে উপজেলার পাঁচশিরা বাজারে প্রায় অর্ধবর্ষের এই মাছের মেলা। এ দিনটিকে ঘিরে এখানে দিনব্যাপী চলে মাছ কেনা ও বিক্রি করার উৎসব। অর্ধশতাধিক দোকানে এসব মাছের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। ক্রেতারা মাছের দাম হাকাচ্ছেন, কিনছেন, আবার কেউ কেউ সেলফি তুলতেও ব্যস্ত। শুধু সেলফি তুলেই শেষ নয়। মাছ মেলার ছবি দিয়ে কেউ কেউ আবার ঝড় তুলছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও। এই মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন পণ্যের পসরা বসেছিল এই মেলায়।

মেলায় ঘুরতে আসা মোছা. পারভিন আক্তার বলেন, আমার বিয়ের পর থেকেই আমি প্রতিবছর এই মেলা দেখতে আসি। এ মেলার জন্য আমরা আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াত করি। আমাদের বাড়ির জন্য এবার ১২ কেজি ওজনের কাতলা মাছ কিনেছি।

কালাই উপজেলার মাত্রাই গ্রামের বাসিন্দা মো. আতিকুর রহমান জানান, এই নবান্নের মেলা আমাদের কাছে ঈদের চেয়েও বেশি আনন্দের। বাড়িতে মেয়ে জামাই, ভাগ্নি জামাইকে দাওয়াত করা হয়েছে। এই মাছের মেলা কেন্দ্র করে তারা বাড়িতে এসেছে।

মেলায় মাছ কিনতে আসা চঞ্চল বাবু নামে এক জামাই বলেন, অন্য বছরের চাইতে এবার মাছের দাম একটু বেশী। তবে যাই হউক না কেন এই মেলা থেকে ১৮ কেজি ওজনের একটি বø্যাককার্প মাছ কিনে নিয়ে শশুর বাড়ি যাচ্ছি।

কালাই উপজেলার আকন্দপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো.এনামুল আকন্দ বলেন, প্রায় অর্ধবর্ষের ঐতিহ্যবাহী মেলাটি যেমন মাছের জন্য বিখ্যাত, তেমনি এই এলাকায় ধান-আলুতেও ভরপুর থাকে। এ কারণে আশপাশের লোকজন মেলায় ছুটে আসে।

মাছ বিক্রেতা আব্দুল লতিফ বলেন, মাছের মেলাতে বড় পুকুর, দিঘি ও নদী থেকে নানান জাতের বড় বড় মাছ সংগ্রহ করা হয়েছে। কাতলা, রুই, বø্যাককার্প, মৃগেল ব্রিগেড, সিলভার ৫শ’ থেকে ১২শ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

কালাই উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তৌহিদা মোহতামিম বাংলা টাইমসকে বলেন, প্রতি বছর এই মেলাকে ঘিরে এলাকায় উৎসব বিরাজ করে। আজও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। এ মেলায় এবার ৪০-৫০টি স্টলের মাধ্যমে দিন শেষে এখানকার ব্যবসায়ীরা অন্তত কোটি টাকার মাছ কেনাবেচা করবেন। মেলায় কেউ যেনো বিষাযুক্ত মাছ বিক্রি করতে না পারে সেদিকে আমাদের কঠোর নজরদারি রয়েছে।