মনিপুরী ‘মহারাসলীলা’ শুক্রবার, চলছে প্রস্তুতি
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৫১:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০২৪ ১৫২ বার পড়া হয়েছে
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জেমৃদঙ্গের তালে গানে গানে মুখরিত হয়ে উঠেছে মনিপুরী পাড়াগুলো ।মনিপুরী সম্প্রদায়ে সবচেয়ে বড় উৎসব ‘মহারাসলীলা’ জন্যে চলছে গান আর মৃদঙ্গের তাল নাচের প্রস্তুতি। মণিপুরী পাড়াগুলোতে বইছে উৎসবের আনন্দের বন্যা । চলছে গোষ্ঠলীলা বা রাখাল নৃত্য এবং রাসনৃত্যের মহড়া। অন্যান্য বছরের মতো এবারও মণিপুরীদের পৃথক দুটি গ্রামে আয়োজন করা হয়েছে রাস উৎসবের।
আরও পড়ুন : স্কুলে ভর্তির আবেদন শুরু আজ, জেনে নিন ফি
কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের জোড়া মণ্ডপে বিষ্ণুপ্রিয়া (মণিপুরী) সম্প্রদায়ের ১৮২তম এবং আদমপুর ইউনিয়নে মণিপুরী কালচারাল কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে মীতৈ (মণিপুরী) সম্প্রদায়ের ৩৯তম মহারাস উৎসব হবে।
জানা যায়, মণিপুরের রাজা ভাগ্যচন্দ্র মণিপুরে প্রথম এই রাসমেলা প্রবর্তন করেছিলেন। মণিপুরের বাইরে ১৮৪২ সালে কমলগঞ্জের মাধবপুরে প্রথম মহারাস উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। রাস উৎসবে সকালবেলা ‘গোষ্ঠলীলা’ বা ‘রাখাল নৃত্য’ হয়। গোধূলি পর্যন্ত চলে এই রাখাল নৃত্য। এরপর সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা শেষে রাত সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হয় রাস উৎসবের মূল পর্ব শ্রী শ্রী কৃষ্ণের মহারাসলীলা অনুসরণ। মণিপুরীদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্যের পোশাকে নেচে গেয়ে কৃষ্ণবন্দনা ভোর পর্যন্ত চলে রাসলীলা। রাসনৃত্যে শ্রীকৃষ্ণ,রাধা ও প্রায় ৪০-৪৫ জনের মতো গোপী থাকেন।
আরও পড়ুন : সাবেক এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু গ্রেপ্তার
সোমবার ( ১১ নভেম্বর)পরিদর্শনকালে দেখা যায়, উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের মাঝেরগাঁও, শিমুলতলা ও বাঘবাড়ি মনিপুরী পাড়াগুলোতে চলছে রাস উৎসবের মহড়া। প্রায় ১ মাস ধরে এখানে রাস উৎসবের মহড়া চলছে। মহড়ায় আসা মণিপুরী ছেলেমেয়েদের রাসনৃত্যের বিভিন্ন কৌশল ও নিয়মকানুন শিখিয়ে দিচ্ছিলেন রাসনৃত্যের শিক্ষক অজিত কুমার সিংহ। সঙ্গে রনি সিংহ মৃদঙ্গ বাজিয়ে ও রীনা সিংহা গান গেয়ে সেই মহড়ার তাল দিচ্ছিলেন।রাস উৎসবে এই গান ও তালের সঙ্গেই সারারাত ধরে নাচতে হবে শিল্পীদের। প্রায় ২৫ জন ছেলেমেয়ে শিক্ষকদের কথা অনুযায়ী মহড়া দিচ্ছিলেন।
মহড়ায় অংশ নেওয়া মনিকা সিনহা বলেন, ছোটবেলা থেকেই নাচ শিখি। কিন্তু সবাই রাস উৎসবে অংশ নিতে পারে না।এ জন্য আমাদের অনেক প্রশিক্ষণ নিতে হয়।এখানে প্রায় ২০ দিন ধরে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত প্রতিদিন মহরায় অংশ নিচ্ছি। রাস উৎসব নিয়ে আমাদের ভালো প্রস্তুতি আছে।
আরও পড়ুন : শিশু মুনতাহাকে হত্যা করে গৃহশিক্ষক শামীমা!
শিক্ষক অজিত কুমার সিংহ বলেন, আমরা একমাস প্রস্তুতি নিয়ে তাদের প্রস্তুত করি। প্রতিদিন নিয়ম মেনে সবাই আসেন। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ মহড়া চলছে।
রাসনৃত্যের আরেক শিক্ষক বিধান কুমার সিংহ বলেন, ১৫ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে রাখাল নৃত্য শুরু হবে। সন্ধ্যায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রাত সাড়ে ১১টার দিকে শুরু হবে রাস নৃত্য।এই রাসনৃত্যের জন্যই মহড়া হচ্ছে।দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীরা এই রাস উৎসব দেখতে এখানে ভিড় করেন।
আরও পড়ুন : পতনের আগে রাষ্ট্রপতির সাথে সম্পর্কে হয় হাসিনার!
মহারাসলীলা উদযাপন কমিটির সাধারন সম্পাদক শ্যাম সিংহ জানান, রাস উপলক্ষে আমাদের পাড়ায় পাড়ায় প্রস্তুতি চলছে।প্রতি বছরের মতো ঐতিহ্য ও ধর্মীয় ভাবধারায় ১৮২তম শ্রীকৃষ্ণের মহারাসলীলা ১৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।এই মহোৎসব উপলক্ষ্যে সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি।

























