https://bangla-times.com/
ঢাকাবুধবার , ৬ ডিসেম্বর ২০২৩

সার্বজনীন পেনশনে আগ্রহ নেই মানুষের

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডিসেম্বর ৬, ২০২৩ ১:০৩ অপরাহ্ণ । ১৫২ জন
Link Copied!

সার্বজনীন পেনশনে সাধারণ মানুষের আগ্রহে ভাটা পড়েছে। ফলে এই সেবার পরিসর বাড়াতে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে উৎসাহিত করা হবে।

চলতি বছরের ১৭ আগস্ট সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু হয়। গত ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৬ হাজার ৪৬৬ জন নিবন্ধন করেছেন। ১৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকার বেশি সাবসক্রিপশন জমা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রগতিতে, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সুরক্ষা স্কিমে।

জাতীয় পেনশন কর্র্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কবিরুল ইজদানী খান বলেছেন, ‘নতুন কোনো জিনিস যখন আসে, মানুষের স্বতঃস্ফূর্ততা থাকে অনেক বেশি। প্রত্যেক জিনিসের শুরুটা যখন হয়, তখন খুব আড়ম্বরভাবে হয়। তারপর মানুষ ধীরে ধীরে চিন্তা করে, এনরোলমেন্ট করে। আমাদের পেনশন হলো ঐচ্ছিক বা অপশনাল। কিন্তু অন্য যেসব দেশে এ ধরনের স্কিম চালু আছে, যেমন সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, জাপানসহ এশিয়ার প্রত্যেকটি দেশে বেসরকারি খাতের পেনশন স্কিমটা বাধ্যতামূলক। কিন্তু আমাদের এখানে ব্যক্তির পাশাপাশি বেসরকারি খাতের জন্যও স্কিমটি অপশনাল।

জাতীয় পেনশন কর্র্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বলেন, নিবন্ধনের সময় সবার নিজস্ব একটি আইডি হয়ে যায়। পুরো সিস্টেম আইটি প্ল্যাটফর্মে, তারা কোনো সমস্যায় পড়লে আমাদের যে টেলিফোন নম্বর আছে সেখানে ফোন করলেই সমাধান পাবেন। বেসরকারি খাতের জন্য যে প্রগতি স্কিম করা হয়েছে সেটিও সম্পূর্ণ আইটি বেইজড। আমরা ইতিমধ্যে আরজেএসসির সঙ্গে চুক্তি করেছি। আপনার কোম্পানির নাম যদি দিই আর যদি তারা আরজেএসসির নিবন্ধনভুক্ত হয়, তাহলে পুরো তথ্যই চলে আসবে।

কেউ যদি হঠাৎ চাঁদা দিতে অক্ষম হয়ে পড়েন, তার সুরক্ষায়ও ব্যবস্থা রয়েছে স্কিমটিতে। কবিরুল ইজদানী জানান, তার আলাদা অ্যাকাউন্ট আছে, তার আইডির ব্যালান্সের ওপরই মুনাফার হিসাব করা হবে। টাকার হার বাড়লে বা কমলেও কোনো সমস্যা নেই। ব্যালান্সের ওপরই মুনাফা দেওয়া হচ্ছে।

অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মীদের স্কিমে যুক্ত করার উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মীদের অংশগ্রহণ কম থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সারা দেশের ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের (ইউডিসি) মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছাচ্ছি। সব ইউডিসিতে পোস্টার পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের ওয়েবসাইটে ঢুকলেই তারা ৬৮টি প্রশ্নের উত্তর পাবেন। তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ যাতে এগুলোর উত্তর সহজে পান, এজন্য ইউডিসির কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করব, যাতে তারা প্রশ্নগুলোর উত্তর গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে সহজেই দিতে পারেন এবং ন্যূনতম একটি চার্জ নিয়ে যাতে তারা মানুষদের নিবন্ধন করিয়ে দেন। ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলায় আমরা জনপ্রতিনিধিদেরও বুঝিয়েছি, তারা যাতে তাদের জনগণের কাছে তা নিয়ে যান। ইউএনওদেরও বলেছি তারা যেন তাদের চেয়ারম্যান, মেম্বারদের বোঝান।

তিনি বলেন, বিদেশ থেকে যারা প্রবাসী আয় পাঠান তারা একেক দেশে একেকভাবে পাঠান। কেউ কেউ এজেন্ট, কিংবা এক্সচেঞ্জ হাউজের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠান। এখন বিকাশ, নগদেও পাঠানো যাচ্ছে। দেশে পেনশনে অনেক অপশনের মধ্যে একটি ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড। কিন্তু বিদেশে একটিই অপশন শুধু ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড। বিদেশে থাকা আমাদের অধিকাংশ কর্মীর ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড নেই। কিন্তু পেনশনে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা রাখা হয়েছে আরেকটি কারণ বিবেচনা করে বিদেশে অনেক বাংলাদেশি আছেন যারা স্থায়ীভাবে থাকেন। তাদের আবার এসব কার্ড আছে। সুরক্ষা স্কিমে তারা তাদের মা-বাবা, ভাইবোন বা আত্মীয়স্বজনের নামের অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন।

প্রবাসীদের কাছে পেনশন স্কিমের প্রচারের বিষয়ে কবিরুল ইজদানী বলেন, ইতিমধ্যে আমরা তিনবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পররাষ্ট্র সচিব, গভর্নর, অর্থ সচিব ও প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রদূতদের অবহিতকরণ সভা করেছি। এটাকে কীভাবে আরও বেশি এক্সপ্লোর করা যায়, প্রত্যেকটি জায়গায় কর্মকর্তারা যেন তাদের বক্তব্যে এটি বলেন।