https://bangla-times.com/
ঢাকাবুধবার , ২৯ নভেম্বর ২০২৩

রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকের বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নভেম্বর ২৯, ২০২৩ ৮:২৮ পূর্বাহ্ণ । ১২১ জন
Link Copied!

সামান্য ডিম বিক্রেতা থেকে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করা রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশন।

বুধবার (২৯ নভেম্বর) ঢাকার সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই কথা জানান আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা ড. সুফি সাগর সামস্।

বিক্রি করা জমির দলিল বন্ধক রেখে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে ঋণের নামে রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জনগণের ২৭০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগও দিয়েছে সংস্থাটি।

সংবাদ সম্মেলনে ড. সুফি সাগর সামস্ বলেন, কতিপয় অসৎ ব্যবসায়ী নামের প্রতারক চক্রটি বিগত ১৬ বছরে ১১ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। এ কারণে বাংলাদেশ ডলার সংকটে পতিত হয়েছে। এই প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে ব্যাংকিং খাত মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। এই প্রতারক চক্র ব্যাংকের টাকা আত্মসাতের জন্য মারাত্মক জাল-জালিয়াতি করছে।

প্রতারক ও রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম গত জুন মাসে জালিয়াতির মাধ্যমে বিক্রীত জমির দলিল বন্ধক রেখে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, বসুন্ধরা শাখা থেকে ঋণ গ্রহণের নামে রফিকুল ইসলাম জনগণের ২৭০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।বিগত দিনের হলমার্ক কেলেঙ্কারি, পিকে হালদার কেলেঙ্কারি, বিসমিল্লাহ গ্রুপের কেলেঙ্কারিসহ ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনাগুলোর অবিকল রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের ঋণের নামে ব্যাংকের টাকা লুটের ঘটনা।

আরও পড়ুন :ভয়াবহ ব্যাংক জালিয়াতি, বিক্রীত জমি বন্ধক রেখে ২৭০ কোটি টাকা ঋণ

এ সময় তিনি বলেন, রংধনু গ্রুপের কর্ণধার রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ থাকলেও তার অবৈধভাবে ঋণগ্রহণের বিষয়টি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রফিক ২০২২ সালের শেষ দিকে এসব জমি বিক্রি করে দিলেও ঋণ নেন চলতি বছরের জুন মাসে। ঋণের টাকা কোথায় বিনিয়োগ করা হয়েছে, তা কিছুই জানে না ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। একটি সংঘবদ্ধ চক্র অব্যাহতভাবে জনগণের রক্ষিত ব্যাংকের টাকা লুণ্ঠন করে যাচ্ছে। দেশবিরোধী এই অপকর্ম অনতিবিলম্বে বন্ধ হওয়া জরুরি। অন্যথায় ১৮ কোটি মানুষের সম্ভাবনার বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, চলতি বছরের ২২ জুন রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, তার ছেলে মেহেদী হাসান দীপু, কাউসার আহমেদ অপু ও দীপুর স্ত্রী মালিহা হোসেন জোয়ার সাহারা, ভাটারা ও গুলশান মৌজার ৩৩৭ দশমিক ৫৯ ডেসিমেল জমি বন্ধক রেখে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের বসুন্ধরা শাখা থেকে ২৭০ কোটি ঋণ নিয়েছেন। এর মধ্যে ভাটারা মৌজার চারটি প্লটে রফিকুল ইসলামের বিক্রি করে দেওয়া ৯৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ জমিও রয়েছে।

জানা গেছে, রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ২০১৭ সালেরর ২০ ফেব্রুয়ারি ইস্টওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্টের কাছ থেকে এওয়াজবদল দলিল মূলে মালিক হয়েছিলেন। এর মধ্যে ভাটারা মৌজার ই ব্লকের ৪৮২, ৪৮৩, ৪৮৪, ৪৮৭, ৪৮৮ ও ৪৮৯ প্লটের ২৮ দশমিক ১৩ শতাংশ, ৫০৭, ৫০৮, ৫১১ ও ৫১২ প্লটের ১৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ, ৫৩০, ৫৩১, ৫৩২, ৫৩৩, ৫৩৪ ও ৫৩৫ প্লটের ২২ দশমিক ৭০ শতাংশ, ৫৫১, ৫৫২, ৫৫৬, ৫৫৭ ও ৫৫৮ প্লটের ২৭ দশমিক ৫১ শতাংশ জমি রয়েছে।

উল্লেখিত জমি ওই বছরের ১৮ এপ্রিল স্যোশাল ইসলামী ব্যাংক বন্ধক রেখে ঋণ নিলেও রফিকুল ইসলাম তা পরিশোধ করে দেয় ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর। একই দিন এসব জমির মধ্যে ৪৮২, ৪৮৩, ৪৮৪, ৪৮৭, ৪৮৮ ও ৪৮৯ প্লটের ২৮ দশমিক ১৩ শতাংশ ও ৫৩০, ৫৩১, ৫৩২, ৫৩৩, ৫৩৪ ও ৫৩৫ প্লটের ২২ দশমিক ৭০ শতাংশ আবুল কাশেম গংদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন রফিকুল ইসলাম। ২০২২ সালের ২১ নভেম্বর ৫৫১, ৫৫২, ৫৫৬, ৫৫৭ ও ৫৫৮ প্লটের ২৭ দশমিক ৫১ শতাংশ জমি বিক্রি করেন ইমরান করিমের কাছে। এছাড়াও গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি তামান্না সুলতানার কাছে ৫০৭, ৫০৮, ৫১১ ও ৫১২ প্লটের ১৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ জমি বিক্রি করে দিয়েছেন রফিক।

রফিক বিক্রি করে দেওয়ার পর ইস্টওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভলপমেন্ট কর্তৃপক্ষ ইমরান করিমের জমির মালিকানা পরিবর্তনের অনুমোদন দিয়েছে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর। আবুল কাশেম গংদের মালিকানাধীন ২৮ দশমিক ১৩ শতাংশ ও তামান্না ইসলামের ১৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ জমির মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি। এছাড়া আবুল কাশেম গংদের মালিকানাধীন ২২ দশমিক ৭০ শতাংশের আরেকটি প্লটের মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে এ বছরের ১৯ মার্চ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চলতি বছরের ২২ জুন রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, তার ছেলে মেহেদী হাসান দীপু, কাউসার আহমেদ অপু ও দীপুর স্ত্রী মালিহা হোসেন জোয়ার সাহারা, ভাটারা ও গুলশান মৌজার ৩৩৭ দশমিক ৫৯ ডেসিমাইল জমি বন্ধক রেখে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের বসুন্ধরা শাখা থেকে ২৭০ কোটি ঋণ নিয়েছেন। এর মধ্যে ভাটারা মৌজার চারটি প্লটে রফিকুল ইসলামের বিক্রি করা ৯৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ জমিও রয়েছে।

এসব জমি তিনি এর আগে স্যোশাল ইসলামি ব্যাংকে বন্ধক রেখে ঋণ নিয়েছিলেন। ঋণ পরিশোধের পরপরই জমিগুলো অন্যত্র বিক্রি করে দেন। কিন্তু বিক্রির তথ্য গোপন রেখেই ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে আবারও ২৭০ কোটি টাকা ঋণ নেন। ঋণের বিপুল পরিমান অর্থ কোথায়, কোনখাতে বিনিয়োগ করেছেন, সে বিষয়ে ব্যাংকের কাছে কোনো তথ্য নেই। তিন দফায় এসব অর্থ ছাড় করা হলেও প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির টাকা কোথায় বিনিয়োগ হয়েছে সেটা নিশ্চিত না হয়েই তৃতীয় কিস্তির অর্থছাড় করেছে ব্যাংক।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক অবৈধভাবে ঋণ দেওয়া জমিতে বর্তমানে অন্য কোম্পানির মালিকের সাইনবোর্ড ঝুলছে। ব্যাংকে রফিকুল ইসলামের বন্ধক দেওয়া চারটি প্লটের মালিকানার বিষয়ে গুলশান রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশ্চিত করেছেন, বর্তমানে এসব জমি রফিকুল ইসলামের মালিকানায় নেই।

এরমধ্যে তামান্না ইসলামের জমিতে ১৪তলা আবাসিক ভবন নির্মাণ শুরু করেছে সুবাস্ত প্রপার্টিজ। ৪৮২, ৪৮৩, ৪৮৪, ৪৮৭, ৪৮৮ ও ৪৮৯ প্লটের ২৮ দশমিক ১৩ শতাংশ ও ৫৩০, ৫৩১, ৫৩২, ৫৩৩, ৫৩৪ ও ৫৩৫ প্লটের ২২ দশমিক ৭০ শতাংশ আবুল কাশেমের মালিকানাধীন ড্রিমওয়ে হোল্ডিংস লিমিটেডও বহুতল ভবন নির্মাণের সাইনবোর্ড টানিয়ে রেখেছে। ৫৫১, ৫৫২, ৫৫৬, ৫৫৭ ও ৫৫৮ প্লটের ২৭ দশমিক ৫১ শতাংশ জমি ইমরান করিম সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘিরে রেখেছেন।

প্রতারণা ঠেকাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার জমি বন্ধক রেখে ঋণ দেওয়া অথবা তৃতীয় পক্ষের কাছে বেচাকেনার আগে ইস্টওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভলপমেন্ট লিমিটেডের কাছ থেকে অনাপত্তি পত্র নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। এ বিষয়ে তফসিলি ব্যাংকগুলোতে চিঠিও পাঠিয়েছে ইস্টওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভলপমেন্ট লিমিটেড।

২০১৮ সালে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত মিস আয়ারল্যান্ডখ্যাত মডেল ও অভিনেত্রী প্রিয়তিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন রফিকুল ইসলাম রফিক। নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাস ও ভিডিও বার্তায় সেই দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন প্রিয়তি। ভিডিও বার্তায় প্রিয়তি জানান, রংধনু চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম তাকে সেক্সচ্যুয়ালি হ্যারেজ করেছিলেন। রফিকের প্রভাব প্রতিপত্তির কারণে প্রিয়তির হয়রানির বিষয়ে রফিকের বিরুদ্ধে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের সদস্য আমির সোহেল মল্লিক ও মতিউর রহমান তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।