কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা
সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৩৭:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬ ৪৯ বার পড়া হয়েছে
দীর্ঘ এক দশক ধরে আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর তনু হত্যা মামলায় নতুন মোড় এসেছে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে দুই সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (১) আদালতের বিচারক মুমিনুল হক এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন সাবেক সেনাসদস্য সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান (জাহিদ) এবং সৈনিক শাহীন আলম। তনু হত্যার সময় তারা কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। জাহিদ ১২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নে এবং শাহীন ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নে দায়িত্ব পালন করতেন। বর্তমানে দুজনই সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন বলে জানা গেছে। শাহীন আলম বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলেও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, পিবিআইয়ের পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম সম্প্রতি আদালতে আবেদন করে এই দুই সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে তনু হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত সেনাবাহিনীর কাছে থাকা সম্ভাব্য তদন্ত তথ্য সংগ্রহের বিষয়েও আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়।
এদিকে মামলার তদন্তে নতুন তথ্যও সামনে এসেছে। তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা আলামতের ডিএনএ পরীক্ষায় নতুন করে আরও একজনের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এর ফলে তনুর পোশাকে মোট চারজনের জৈব নমুনা শনাক্ত হয়েছে। পূর্বে তিনজনের শুক্রাণুর নমুনা পাওয়ার তথ্য থাকলেও সর্বশেষ পরীক্ষায় আরেক ব্যক্তির রক্তের নমুনা শনাক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে সোমবার আদালতে হাজির করা হলে তাঁর পক্ষে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি। পরে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। হাফিজুর রহমানকে গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি শেষে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসের ভেতরে একটি ঝোপ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং বিচার দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন চলে। সর্বশেষ আদালতের এই আদেশ মামলার তদন্তে নতুন গতি আনবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
























