ঢাকা ০২:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভুয়া সনদে শিক্ষকতা, প্রথম ধাপে নোটিশ পেলেন ৬৩ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:০৬:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ ৪৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে দেশের ৪৭১ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। এর অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে ৬৩ জন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিভিন্ন সময় শিক্ষক নিয়োগে জমা দেওয়া সনদ যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে এসব অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। তদন্তে কয়েকজন শিক্ষকের সনদ জাল, ভুয়া বা তথ্য গোপনের মাধ্যমে অর্জিত বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এর ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর পৃথকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে।

জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) এসব শিক্ষকের সনদ জাল বা ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত করে। পরে বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে মাউশিকে নির্দেশ দেয়।

প্রথম ধাপে নোটিশ পাওয়া শিক্ষকদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে চাকরি স্থগিত, সাময়িক বরখাস্ত কিংবা চাকরিচ্যুতিসহ কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষকতা একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশা এবং জাল সনদ ব্যবহার করে এ পেশায় প্রবেশ করা শুধু আইনগত অপরাধ নয়, শিক্ষাব্যবস্থার জন্যও বড় হুমকি। তাই অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে, অভিযুক্তদের মধ্যে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক রয়েছেন। বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড, জেলা শিক্ষা অফিস ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

তবে কয়েকটি শিক্ষক সংগঠন বলেছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত হলেও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অবশ্যই স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ভুয়া সনদে শিক্ষকতা, প্রথম ধাপে নোটিশ পেলেন ৬৩ জন

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:০৬:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে দেশের ৪৭১ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। এর অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে ৬৩ জন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিভিন্ন সময় শিক্ষক নিয়োগে জমা দেওয়া সনদ যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে এসব অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। তদন্তে কয়েকজন শিক্ষকের সনদ জাল, ভুয়া বা তথ্য গোপনের মাধ্যমে অর্জিত বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এর ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর পৃথকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে।

জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) এসব শিক্ষকের সনদ জাল বা ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত করে। পরে বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে মাউশিকে নির্দেশ দেয়।

প্রথম ধাপে নোটিশ পাওয়া শিক্ষকদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে চাকরি স্থগিত, সাময়িক বরখাস্ত কিংবা চাকরিচ্যুতিসহ কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষকতা একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশা এবং জাল সনদ ব্যবহার করে এ পেশায় প্রবেশ করা শুধু আইনগত অপরাধ নয়, শিক্ষাব্যবস্থার জন্যও বড় হুমকি। তাই অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে, অভিযুক্তদের মধ্যে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক রয়েছেন। বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড, জেলা শিক্ষা অফিস ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

তবে কয়েকটি শিক্ষক সংগঠন বলেছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত হলেও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অবশ্যই স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হতে হবে।