ঢাকা ০১:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই চলছে সাদিয়া ক্লিনিক, নার্সদের নেই সনদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৫২:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬ ৪৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নবায়ন করা নেই লাইসেন্স। তবে থেমে নেই অস্ত্রোপচার, চিকিৎসাসেবা ও পরীক্ষানিরীক্ষার কার্যক্রম। অভিযোগ উঠেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সাদিয়া ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের মধ্যেই চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ক্লিনিকটিতে রোগীদের জীবন নিয়ে ‘ছেলে-খেলা’ করা হচ্ছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটিতে নতুন করে নার্স নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্লিনিকের রিসিপশনে দিনের বেলায় এক নারীকে ঘুমন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে জাগানো হলে তিনি একজন নারীকে নার্স হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। ওই নার্স নিজের পরিচয় দিলেও সরকারি নিবন্ধন বা নার্সিং সনদ রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি ইসলামের ইতিহাস বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে এখানে নার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি আরও জানান, ক্লিনিকে বর্তমানে চারজন নার্স কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে একজন নার্সিং শিক্ষার্থী হলেও বাকি তিনজন সাধারণ শিক্ষাগত ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসে নার্স হিসেবে কাজ করছেন।

স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও ক্লিনিকটির বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা ও রোগী মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল। তবে যথাযথ তদন্ত ও ব্যবস্থা না নেওয়ায় অনিয়ম চলতেই আছে।

দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের নিবন্ধন ছাড়া নার্স হিসেবে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অনুমতি নেই। ফলে ক্লিনিকটির সেবার মান ও রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে ক্লিনিকের মালিক ডা. মোহা. শফিউল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, “বর্তমানে ক্লিনিকটি পুরোপুরি চালুও না, আবার বন্ধও নয়। আর্থিক সমস্যার কারণে কার্যক্রমে ধীরগতি রয়েছে।” লাইসেন্স নবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “লাইসেন্স নবায়নের আবেদন করা হয়েছে, বিষয়টি এখন পেন্ডিং রয়েছে।”

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দিন বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, জেলার অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই চলছে সাদিয়া ক্লিনিক, নার্সদের নেই সনদ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৫২:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

নবায়ন করা নেই লাইসেন্স। তবে থেমে নেই অস্ত্রোপচার, চিকিৎসাসেবা ও পরীক্ষানিরীক্ষার কার্যক্রম। অভিযোগ উঠেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সাদিয়া ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের মধ্যেই চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ক্লিনিকটিতে রোগীদের জীবন নিয়ে ‘ছেলে-খেলা’ করা হচ্ছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটিতে নতুন করে নার্স নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্লিনিকের রিসিপশনে দিনের বেলায় এক নারীকে ঘুমন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে জাগানো হলে তিনি একজন নারীকে নার্স হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। ওই নার্স নিজের পরিচয় দিলেও সরকারি নিবন্ধন বা নার্সিং সনদ রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি ইসলামের ইতিহাস বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে এখানে নার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি আরও জানান, ক্লিনিকে বর্তমানে চারজন নার্স কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে একজন নার্সিং শিক্ষার্থী হলেও বাকি তিনজন সাধারণ শিক্ষাগত ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসে নার্স হিসেবে কাজ করছেন।

স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও ক্লিনিকটির বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা ও রোগী মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল। তবে যথাযথ তদন্ত ও ব্যবস্থা না নেওয়ায় অনিয়ম চলতেই আছে।

দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের নিবন্ধন ছাড়া নার্স হিসেবে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অনুমতি নেই। ফলে ক্লিনিকটির সেবার মান ও রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে ক্লিনিকের মালিক ডা. মোহা. শফিউল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, “বর্তমানে ক্লিনিকটি পুরোপুরি চালুও না, আবার বন্ধও নয়। আর্থিক সমস্যার কারণে কার্যক্রমে ধীরগতি রয়েছে।” লাইসেন্স নবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “লাইসেন্স নবায়নের আবেদন করা হয়েছে, বিষয়টি এখন পেন্ডিং রয়েছে।”

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দিন বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, জেলার অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হবে।