জেল থেকে বেরিয়েই রক্তাক্ত আন্ডারওয়ার্ল্ড, আতঙ্কে রাজধানী
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৩৮:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬ ৪৯ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে হঠাৎ গুলির শব্দ। মানুষ দৌড়ে আশ্রয় খুঁজছে, দোকানের শাটার নামছে মুহূর্তেই। কিছুক্ষণ পর জানা যায়—খুন হয়েছেন আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী। শহরের মানুষের কাছে এটি যেন নতুন কোনো ঘটনা নয়, বরং পুরনো আতঙ্কের ফিরে আসা।
গত ২১ মাসে রাজধানীতে সংঘটিত একের পর এক হত্যাকাণ্ড ও হামলায় বারবার উঠে এসেছে আন্ডারওয়ার্ল্ডের পরিচিত নামগুলো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন সূত্র বলছে, সরকার পতনের পর জামিনে মুক্ত হওয়া কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। পুরোনো আধিপত্য ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ছে রক্তাক্ত সংঘর্ষে।
গত ২১ মাসে রাজধানীতে সংঘটিত একাধিক হত্যাকাণ্ড ও সহিংস ঘটনায় উঠে এসেছে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম। আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র বলছে, সরকার পরিবর্তনের পর জামিনে মুক্ত হওয়া আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রভাবশালী সন্ত্রাসীদের বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে ঘিরেই এসব ঘটনা ঘটছে।
সবশেষ গত ২৮ এপ্রিল রাজধানীতে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে। প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীদের হামলায় তিনি নিহত হন বলে জানা গেছে।
এর আগে, গত বছরের ১০ নভেম্বর পুরান ঢাকার সূত্রাপুর এলাকায় দিনে-দুপুরে গুলিতে নিহত হন আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুন। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়।
এ ছাড়া গত ১২ এপ্রিল কিশোর অপরাধী চক্র ‘এলেক্স গ্রুপ’-এর প্রধান ইমন হোসেনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা, এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর দ্বন্দ্ব ও প্রভাব বিস্তারের লড়াই কাজ করেছে।
২১ মাসে ২৩টি হামলা-সংঘর্ষ
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ মাসে রাজধানীতে অন্তত ২৩টি হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৭টি হত্যাকাণ্ড এবং বাকি ঘটনাগুলোতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, গুলি, বোমা বিস্ফোরণ ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনা রয়েছে।
জামিনে মুক্তির পর ফের সক্রিয়তা
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আদালতের জামিনে মুক্তি পান পিচ্চি হেলাল, সানজিদুল ইসলাম ইমন, খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন, আব্বাস আলী ও সুইডেন আসলামসহ অন্তত সাত আলোচিত সন্ত্রাসী।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, জেল থেকে বের হওয়ার পর তারা আবারও আন্ডারওয়ার্ল্ডে নিজেদের প্রভাব বিস্তারে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।
যদিও জামিনের শর্ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পরপর আদালতে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল, তবে অভিযোগ রয়েছে—এদের অনেকেই আর আদালতে হাজির হননি। এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও তাদের বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট নয়।
পুলিশের বক্তব্য
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, রাজধানীতে কিছু বিচ্ছিন্ন সহিংস ঘটনা ঘটছে। পলাতক সন্ত্রাসীদের অবস্থান শনাক্তে কাজ চলছে এবং অবস্থান নিশ্চিত হলেই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
নজরদারির ঘাটতির অভিযোগ
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, জামিনে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের চলাফেরা, আদালতে হাজিরা ও পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার বিষয়গুলোতে কার্যকর নজরদারির অভাব রয়েছে। এ কারণেই অনেক অপরাধী সহজে পার পেয়ে যাচ্ছে।
সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, অতীতে যেভাবে সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছিল, এখন কেন তা করা যাচ্ছে না—সেই ঘাটতি বিশ্লেষণ করে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাহলেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, জেল থেকে মুক্ত তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের ওপর নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত না করলে রাজধানীতে সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সহিংসতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
























