ঢাকায় হকার ব্যবস্থাপনায় নতুন নীতিমালা
নির্ধারিত জোন ও নাইট মার্কেটের পরিকল্পনা
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০১:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
রাজধানী ঢাকার ফুটপাত দখল, যানজট ও পথচারীদের চলাচলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে সরকার নতুন “ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬” প্রণয়ন করেছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি করা এই নীতিমালায় প্রথমবারের মতো হকারদের জন্য নিবন্ধন, নির্ধারিত ব্যবসাস্থল, হলিডে ও নাইট মার্কেট এবং লাইসেন্স ব্যবস্থাপনার বিস্তারিত কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।
নীতিমালার মূল লক্ষ্য হিসেবে বলা হয়েছে—শহরের ফুটপাতকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা, পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে হকারদের জীবনমান উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকার ব্যস্ত এলাকায় দিনের বেলায় ফুটপাতে হকার বসতে পারবেন না। তবে সন্ধ্যার পর যেসব এলাকায় জনচাপ কম থাকে, সেখানে রাত ১০টা পর্যন্ত নির্ধারিত “নাইট মার্কেট” চালুর সুযোগ রাখা হয়েছে। মিরপুর, গুলিস্তান, নিউমার্কেট, সদরঘাট ও বাইতুল মোকাররম এলাকার মতো জনবহুল স্থানকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া মেট্রোস্টেশন, বাসস্টপেজ ও গুরুত্বপূর্ণ মোড় থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে হকার জোন নির্ধারণ করা হবে। এসব স্থানে পথচারীদের চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা খালি রাখতে বাধ্যতামূলক নির্দেশনা রাখা হয়েছে। নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা সংরক্ষিত স্থান রাখার কথাও উল্লেখ আছে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, সিটি করপোরেশনের অধীনে বিশেষ কমিটির মাধ্যমে হকারদের ডিজিটাল নিবন্ধন করা হবে। নিবন্ধন ছাড়া কোনো হকার ব্যবসা করতে পারবেন না। আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে এবং তাকে বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে। নির্দিষ্ট সময় পর ফি দিয়ে লাইসেন্স নবায়ন করতে হবে।
সপ্তাহান্তে “হলিডে মার্কেট” চালুর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যেখানে পরিবার নিয়ে কেনাকাটা ও বিনোদনের সুযোগ থাকবে। তবে স্কুল, পার্ক, ধর্মীয় স্থান ও কবরস্থানে কোনো ধরনের বাজার বসানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নীতিমালায় কঠোর শর্তও যুক্ত করা হয়েছে। একজন হকারের লাইসেন্স অন্যকে হস্তান্তর বা ভাড়া দেওয়া যাবে না। নির্ধারিত সময়ের বাইরে ব্যবসা করলে বা রাস্তা দখল করলে লাইসেন্স বাতিল, জরিমানা কিংবা সংশ্লিষ্ট এলাকা হকারমুক্ত ঘোষণা করার ক্ষমতা থাকবে কর্তৃপক্ষের হাতে।
তবে এই নীতিমালা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নগর পরিকল্পনাবিদদের একাংশ বলছেন, পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হলে এটি উল্টো জনদুর্ভোগ বাড়াতে পারে। তাদের মতে, হকার সমস্যাকে শুধু ব্যবস্থাপনার দৃষ্টিতে নয়, বরং দারিদ্র্য ও কর্মসংস্থানের বাস্তবতা বিবেচনায় সমাধান করতে হবে।
সব মিলিয়ে ঢাকার দীর্ঘদিনের এক জটিল নগর সমস্যাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার চেষ্টা হিসেবে এই নীতিমালা সামনে এলেও এর সফল বাস্তবায়ন এখন সময়ের হাতে।






















