ডিসেম্বরে গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ, এরপর কী?
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:২৫:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৩০ বছরের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি-এর মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। চুক্তি নবায়ন ও অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ-এর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন এ ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদী-এর পানি বণ্টন চুক্তির বিরোধিতা করে আসছিলেন। ফলে তার রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন বা ক্ষমতা হারানোয় কূটনৈতিক অগ্রগতির সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে যে সরকারই থাকুক না কেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব পড়বে না। তবে বিভিন্ন অমীমাংসিত ইস্যুতে সমাধান চায় ঢাকা।
পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন, গঙ্গা চুক্তি নবায়নের পাশাপাশি ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান বলেন, তিস্তা চুক্তি দীর্ঘদিন আটকে থাকার অন্যতম কারণ ছিল পশ্চিমবঙ্গের আপত্তি। নতুন পরিস্থিতিতে এ বাধা কিছুটা কমতে পারে, তবে নতুন চুক্তির জন্য বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখা জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু পানির পরিমাণ নয়, পানির গুণগত মানও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট-এর অধ্যাপক এ কে এম সাইফুল ইসলাম মনে করেন, অভিন্ন নদীগুলো থেকে দূষিত পানি প্রবাহ বন্ধে কার্যকর চুক্তি থাকা দরকার।
বিশ্লেষকদের মতে, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন শুধু ঢাকা-দিল্লির বিষয় নয়; এতে পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ভবিষ্যৎ আলোচনায় আঞ্চলিক স্বার্থের ভারসাম্য বজায় রাখাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।






















