ঢাকা ১০:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অভিনেত্রীর সঙ্গে ‘প্রেমালাপ’ ম্যাক্রোঁর, দেখেই ঠাটিয়ে ‘চড়’! ১৫ বছরেই ভারত ‘এ’ দলে বৈভব সূর্যবংশী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বেরোবির নতুন ভিসির নিয়োগ বাতিল হামের বদলে জলাতঙ্কের টিকা প্রয়োগ, ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ মোংলায় নদীতে পড়ে ট্রলার চালক নিখোঁজ, ১৩ ঘণ্টায়ও মেলেনি সন্ধান হামে শিশুমৃত্যুর দায়ীদের শাস্তির দাবি ও মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে ছাত্র ফ্রন্টের বিক্ষোভ অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভর্তি সহায়তা দেবে সরকার, আবেদন শুরু বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি অধ্যাপক মামুন অর রশিদ চুরি যাওয়া ১০ লাখ টাকা ও ফোনসহ ফেনী থেকে গ্রেফতার ২ আদমদীঘিতে বসনবুড়ি খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে তোড়জোড়

জয়নাল আবেদিন
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬ ১৪৩ বার পড়া হয়েছে

ছবি প্রতিকী

বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক তোড়জোড়। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা—সব পর্যায়েই সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন দৌড়ঝাঁপে ব্যস্ত। মনোনয়ন নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ—সব দিকেই বাড়ছে রাজনৈতিক তৎপরতা।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া জোরদার করেছে। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে চলছে লবিং–তদবিরও। বিশেষ করে যারা মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয়, তারা নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুধু প্রশাসনিক কাঠামোর ভোট নয়—এটি তৃণমূল রাজনীতির শক্তি যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। তাই বড় দলগুলো এই নির্বাচনকে ঘিরে সাংগঠনিক শক্তি প্রমাণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

এদিকে নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন ধাপের নির্বাচন শুরু হতে পারে। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ১০ মাস থেকে এক বছর সময় লাগতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় নির্বাচন ধাপে ধাপে আয়োজন করা হবে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকারের সব পর্যায়ের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে গত ১৬ বছরে স্থানীয় সরকার খাতে সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়েও তদন্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে স্থানীয় সরকার কাঠামো নিয়েও চলছে বিতর্ক ও বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্য। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা বলছেন, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা না গেলে রাষ্ট্রীয় কাঠামোও দুর্বল থেকে যাবে। তাই এই নির্বাচনকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন।

এদিকে নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম জানিয়েছে, তারা আগামী ১০ মে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করবে। দলটির নেতারা বলছেন, ইতোমধ্যে ১০০টির বেশি উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।

দলটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, চলতি মাসেই সাতটি সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে সমর্থিত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তারা বিরোধী দল হিসেবে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কথাও জানায়।

সব মিলিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক মাঠ এখন বেশ সরগরম। দলীয় কৌশল, প্রার্থী বাছাই এবং মাঠ দখলের প্রতিযোগিতা—সব মিলিয়ে সামনে আসছে এক ব্যস্ত রাজনৈতিক মৌসুম।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে তোড়জোড়

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক তোড়জোড়। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা—সব পর্যায়েই সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন দৌড়ঝাঁপে ব্যস্ত। মনোনয়ন নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ—সব দিকেই বাড়ছে রাজনৈতিক তৎপরতা।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া জোরদার করেছে। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে চলছে লবিং–তদবিরও। বিশেষ করে যারা মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয়, তারা নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুধু প্রশাসনিক কাঠামোর ভোট নয়—এটি তৃণমূল রাজনীতির শক্তি যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। তাই বড় দলগুলো এই নির্বাচনকে ঘিরে সাংগঠনিক শক্তি প্রমাণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

এদিকে নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন ধাপের নির্বাচন শুরু হতে পারে। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ১০ মাস থেকে এক বছর সময় লাগতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় নির্বাচন ধাপে ধাপে আয়োজন করা হবে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকারের সব পর্যায়ের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে গত ১৬ বছরে স্থানীয় সরকার খাতে সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়েও তদন্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে স্থানীয় সরকার কাঠামো নিয়েও চলছে বিতর্ক ও বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্য। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা বলছেন, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা না গেলে রাষ্ট্রীয় কাঠামোও দুর্বল থেকে যাবে। তাই এই নির্বাচনকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন।

এদিকে নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম জানিয়েছে, তারা আগামী ১০ মে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করবে। দলটির নেতারা বলছেন, ইতোমধ্যে ১০০টির বেশি উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।

দলটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, চলতি মাসেই সাতটি সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে সমর্থিত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তারা বিরোধী দল হিসেবে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কথাও জানায়।

সব মিলিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক মাঠ এখন বেশ সরগরম। দলীয় কৌশল, প্রার্থী বাছাই এবং মাঠ দখলের প্রতিযোগিতা—সব মিলিয়ে সামনে আসছে এক ব্যস্ত রাজনৈতিক মৌসুম।