তৃণমূলের সংস্কারনীতি, ৭৪টি বিধানসভায় প্রার্থী বদলে হার ৫১টিতে
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬ ৪৭ বার পড়া হয়েছে
দলের ভেতরে সংস্কারের উদ্দেশ্যে বড় ধরনের প্রার্থী পরিবর্তন করেও নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল পায়নি তৃণমূল কংগ্রেস। ৭৪টি বিধানসভা আসনে বিদায়ী বিধায়কদের বাদ দিয়ে নতুন প্রার্থী দেওয়া হলেও এর মধ্যে ৫১টি আসনে পরাজিত হয়েছে দলটি।
দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ জন বিধায়কের আসন পরিবর্তন করা হয়েছিল। তবে তাঁদের মধ্যেও মাত্র তিনজন ছাড়া বাকিরা পরাজিত হন। ফলে প্রার্থী পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে নেওয়া “সংস্কারনীতি” কার্যত ব্যর্থ হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
পরিবর্তিত প্রার্থীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখও ছিলেন, যাঁদের এবার টিকিট দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে ১৫ জন বিধায়কের আসন বদল করা হলেও অধিকাংশই নতুন কেন্দ্রে পরাজিত হন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে তৈরি হওয়া অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি, স্থানীয় অসন্তোষ এবং সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এই ফলাফলের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি নতুন প্রার্থী নির্বাচনেও মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা ও সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল বলে মনে করছেন অনেকে।
অন্যদিকে দলীয় কৌশল প্রণয়নে আধুনিক প্রযুক্তি ও পরামর্শদাতা সংস্থার ভূমিকা নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে বাস্তবে ভোটের ফলাফলে তার প্রভাব প্রত্যাশিতভাবে কাজে আসেনি।
২০২১ সালে জেতা বিধায়কদের মধ্যে বাদ পড়া উল্লেখযোগ্য নাম মনোরঞ্জন ব্যাপারী (বলাগড়), সাবিত্রী মিত্র (মানিকচক), সৌমেন মহাপাত্র (তমলুক), কাঞ্চন মল্লিক (উত্তরপাড়া), মঞ্জু বসু (নোয়াপাড়া), সূর্য অট্ট (নারায়ণগড়), অসিত মজুমদার (চুঁচুড়া), সুদীপ্ত রায় (শ্রীরামপুর), রত্না দে নাগ (পান্ডুয়া) চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী (বারাসত), নির্মল ঘোষ (পানিহাটি), বিবেক গুপ্ত (জোড়াসাঁকো), নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার মানিক ভট্টাচার্য (পলাশিপাড়া) এবং নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এখনও জেলবন্দি জীবনকৃষ্ণ সাহা (বড়ঞা)। ফলাফল বলছে, এই সবক’টি আসনেই জিতেছে বিজেপি।
চার মন্ত্রী মনোজ তিওয়ারি (হাওড়ার শিবপুর), বিপ্লব রায়চৌধুরী (পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া-পূর্ব) জোৎস্না মান্ডি (রানিবাঁধ), তাজমুল হোসেনও (হরিশ্চন্দ্রপুর) টিকিট পাননি। একমাত্র হরিশচন্দ্রপুরে তৃণমূল জিতেছে। বাকি সব আসনে পরাজিত হয়েছে জোড়াফুল শিবির।
মোট ১৫ জন বিধায়কের আসন বদলে দেওয়া হয়েছিল। যাঁদের অধিকংশই নতুন পিচে উইকেট দিয়ে এসেছেন। শওকত মোল্লা (ক্যানিং পূর্ব থেকে ভাঙড়), রানা চট্টোপাধ্যায় (বালি থেকে শিবপুর), রত্না চট্টোপাধ্যায় (বেহালা পূর্ব থেকে বেহালা পশ্চিম), প্রাক্তন পুলিশকর্তা হুমায়ুন কবীর (ডেবরা থেকে ডোমকল), বিদেশ বসু (উলুবেড়িয়া পূর্ব থেকে সপ্তগ্রাম), সোহম চক্রবর্তী (চণ্ডীপুর থেকে করিমপুর) সোমবার বিকালের পরে প্রত্যেকের নামের আগে ‘প্রাক্তন বিধায়ক’ জুড়ে গিয়েছে।
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের অব্যবহিত পরে সংগঠনের দায়িত্ব অভিষেকের হাতে যাওয়ার পরে তৃণমূলের দল পরিচালনার ধাঁচে বেশ কিছু বদল এসেছিল। মগরাহাট পশ্চিমে শামিম আহমেদ, ফলতায় জাহাঙ্গির খান, চুঁচুড়ায় দেবাংশু ভট্টাচার্য, পান্ডুয়ায় সমীর চক্রবর্তী, বালিতে কৈলাস মিশ্র, পূর্বস্থলী দক্ষিণে বসুন্ধরা গোস্বামী, মানিকতলায় শ্রেয়া পান্ডেরা লড়েছিলেন ভোটে। ফলতায় ভোট হয়নি। টিম অভিষেকের প্রার্থী হিসাবে মগরাহাট পশ্চিম থেকে জিতেছেন শামিম। বাকি সকলেই হেরেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল তৃণমূলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা—সংগঠন ও স্থানীয় সমর্থনের সঙ্গে প্রার্থী নির্বাচনের ভারসাম্য আরও শক্তভাবে গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।






















