মমতা ইস্তফা না দিলে সংবিধান মেনে বরখাস্ত
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৩৮:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলায় নির্বাচনী ফলাফল ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে। ভোটে পরাজয়ের পরও পদত্যাগে অনীহা জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এতে প্রশ্ন উঠেছে—মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা না দিলে পরবর্তী সাংবিধানিক পদক্ষেপ কী হতে পারে?
ভারতের সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না; তিনি নির্বাচিত হন বিধানসভার সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে। অর্থাৎ, যে দল বা জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, তাদের নেতা মুখ্যমন্ত্রী হন। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে সরকারের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন দেখা দেয়।
সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই পদত্যাগ করেন। তবে তা না হলে রাজ্যপালের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। রাজ্যপাল সংবিধানের রক্ষক হিসেবে নিশ্চিত করেন যে রাজ্যে একটি বৈধ ও সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার কার্যকর রয়েছে।
প্রথম ধাপে রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রীকে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের নির্দেশ দিতে পারেন, যা “ফ্লোর টেস্ট” নামে পরিচিত। এতে মুখ্যমন্ত্রীকে দেখাতে হয়, তার পক্ষে পর্যাপ্ত সংখ্যক বিধায়ক রয়েছেন কি না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হয়।
যদি মুখ্যমন্ত্রী এই পরীক্ষায় ব্যর্থ হন বা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তখন রাজ্যপাল তাকে পদ থেকে অপসারণ করতে পারেন এবং বিকল্প সরকার গঠনের উদ্যোগ নেন। এ ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা জোটের নেতাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো হয়।
আর যদি কোনো দলই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারে, তাহলে রাজ্যপাল নিজের বিবেচনায় বৃহত্তম দল বা সম্ভাব্য জোটকে সরকার গঠনের সুযোগ দেন—তবে সেক্ষেত্রেও ফ্লোর টেস্ট বাধ্যতামূলক।
সংবিধানের ১৬৪(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের আস্থার ভিত্তিতে দায়িত্বে থাকেন। ফলে বিধানসভার আস্থা হারালে তার পদে থাকার সাংবিধানিক ভিত্তি আর থাকে না।
সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল হলেও শেষ পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতার পরীক্ষাই নির্ধারণ করে কে রাজ্য শাসন করবে।


























