‘আমরা হারিনি, ভোট লুট হয়েছে’—পদত্যাগে ‘না’ মমতার
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৫১:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬ ৫৭ বার পড়া হয়েছে
নির্বাচনে ভরাডুবির পরও পদত্যাগের প্রশ্নই ওঠে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে কালীঘাটের বাসভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে।”
নির্বাচনের ফল নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় শতাধিক আসনে কারচুপি করা হয়েছে। তার ভাষায়, “এমনি জিতলে আমার কোনো আপত্তি থাকত না। কিন্তু এখানে ভোট লুট হয়েছে।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতিত্ব করেছে। তিনি দাবি করেন, ভোটের আগে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি, প্রশাসনিক বদলি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে।
ভোট-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ তুলে তিনি জানান, গণনা শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন স্থানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি গণনাকেন্দ্রে তাঁর এজেন্টদের প্রবেশে বাধা দেওয়া এবং হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পদত্যাগ না করে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে তৃণমূল নেত্রী বলেন, তিনি আবারও রাস্তায় নামবেন এবং সাধারণ মানুষের পাশে থেকে আন্দোলন গড়ে তুলবেন। “আমি এখন মুক্ত। রাস্তায় ছিলাম, রাস্তাতেই থাকব,”—বলেন তিনি।
এদিকে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতাদের সমর্থন পাওয়ার কথাও জানান মমতা। সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরীবাল, উদ্ধব ঠাকরে, অখিলেশ যাদব ও হেমন্ত সোরেনসহ বিভিন্ন নেতা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে সমর্থন জানিয়েছেন বলে জানান তিনি।
মমতা বলেন, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তারা এখনই কৌশল প্রকাশ করবেন না। তবে ভোট-পরবর্তী সহিংসতা তদন্তে একটি তথ্য-অনুসন্ধানী কমিটি গঠনের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
সবশেষে তিনি আবারও দাবি করেন, “আমরা হারিনি। ১০০টির বেশি আসন লুট করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনই এই ঘটনার মূল ভিলেন।”






















