তৃণমূলের পতনের নেপথ্যে পাঁচ বড় কারণ
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:২৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬ ৪৬ বার পড়া হয়েছে
দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস। ২০১১ সালে পরিবর্তনের হাওয়ায় ক্ষমতায় আসা দলটিই ২০২৬ সালে এসে উল্টো স্রোতে ভেসে গেল। প্রশ্ন উঠছে—কেন এই ভরাডুবি? কী কারণে হারতে হল শাসকদলকে? বিশ্লেষণে উঠে এসেছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
১. প্রতিষ্ঠানবিরোধী জনমত
দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে স্বাভাবিকভাবেই শাসকবিরোধী মনোভাব তৈরি হয়। তৃণমূলের ক্ষেত্রেও সেটি প্রবলভাবে দেখা গেছে। নিচুতলার কর্মীদের বিরুদ্ধে দাদাগিরি, সিন্ডিকেট, কাটমানি ও তোলাবাজির অভিযোগ জনমনে ক্ষোভ বাড়িয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতির নানা অভিযোগ শাসকদলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। ফলে পরিবর্তনের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে।
২. ধর্মীয় মেরুকরণ ও ভোট বিভাজন
রাজ্যে ধর্মীয় মেরুকরণ বড় ভূমিকা রেখেছে এবারের নির্বাচনে। হিন্দুত্বের ইস্যুকে সামনে রেখে বিজেপি নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। একই সঙ্গে তৃণমূলকে ‘হিন্দুবিরোধী’ ও ‘মুসলিম তোষণকারী’ হিসেবে তুলে ধরার কৌশলও কাজে লেগেছে। অন্যদিকে সংখ্যালঘু ভোট এককভাবে তৃণমূলের ঘরে না গিয়ে বিভিন্ন দলের মধ্যে ভাগ হয়ে যাওয়ায় বহু আসনে ফলাফল পাল্টে গেছে।
৩. নির্বাচনী কৌশল ও ইস্যুর সীমাবদ্ধতা
নির্বাচনে উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার চেয়ে বিরোধী শক্তিকে আক্রমণেই বেশি জোর দেয় তৃণমূল—এমন অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশন ও বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে সরব থাকলেও তা ভোটারদের একাংশকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। বরং বাস্তব সমস্যা ও উন্নয়নচিত্র তুলে ধরার ঘাটতি চোখে পড়েছে।
৪. দুর্নীতি, কর্মসংস্থান সংকট ও জনঅসন্তোষ
নিয়োগ দুর্নীতি, সরকারি পদে অনিয়ম, শিল্পায়নে স্থবিরতা এবং কর্মসংস্থানের অভাব—এসব ইস্যু ভোটে বড় প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি ডিএ, পে কমিশনসহ বিভিন্ন আর্থিক দাবিদাওয়া পূরণ না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যেও অসন্তোষ ছিল। নারী ভোটব্যাঙ্কেও ভাঙন দেখা গেছে, যা আগে তৃণমূলের বড় শক্তি ছিল।
৫. ‘বাঙালি অস্মিতা’ ইস্যুর প্রভাব কমে যাওয়া
আগের নির্বাচনে কার্যকর হলেও এবারে ‘বাঙালি অস্মিতা’ ইস্যু তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। বিজেপি নিজেদের কৌশল বদলে স্থানীয় সংস্কৃতি ও আবেগের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করে। ফলে ‘বহিরাগত’ তকমা অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয় তারা। এর ফলে মধ্যবিত্ত ও শহুরে ভোটারদের একটি অংশের সমর্থন পায় বিজেপি।
সব মিলিয়ে সংগঠনের দুর্বলতা, তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ব্যর্থতা এবং শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মোকাবিলায় সীমাবদ্ধতা—এসব কারণ একত্রে তৃণমূলের পরাজয়ে ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের প্রত্যাশাও ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।























