ঢাকা ১০:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অভিনেত্রীর সঙ্গে ‘প্রেমালাপ’ ম্যাক্রোঁর, দেখেই ঠাটিয়ে ‘চড়’! ১৫ বছরেই ভারত ‘এ’ দলে বৈভব সূর্যবংশী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বেরোবির নতুন ভিসির নিয়োগ বাতিল হামের বদলে জলাতঙ্কের টিকা প্রয়োগ, ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ মোংলায় নদীতে পড়ে ট্রলার চালক নিখোঁজ, ১৩ ঘণ্টায়ও মেলেনি সন্ধান হামে শিশুমৃত্যুর দায়ীদের শাস্তির দাবি ও মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে ছাত্র ফ্রন্টের বিক্ষোভ অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভর্তি সহায়তা দেবে সরকার, আবেদন শুরু বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি অধ্যাপক মামুন অর রশিদ চুরি যাওয়া ১০ লাখ টাকা ও ফোনসহ ফেনী থেকে গ্রেফতার ২ আদমদীঘিতে বসনবুড়ি খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন

ডিপো থেকে ‘ভূতুড়ে’ প্রতিষ্ঠানের নামে তেল উত্তোলন, কালোবাজারে বিক্রি

মোঃ বিপ্লব, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও)
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৫১:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬ ১৩৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সারাদেশে যখন জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক সেই সময় উত্তরাঞ্চলের পার্বতীপুর ডিপো থেকে ‘অস্তিত্বহীন’ একটি প্রতিষ্ঠানের নামে হাজার হাজার লিটার তেল উত্তোলন করে তা কালোবাজারে বিক্রির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।

গত ২৭ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপো থেকে মেঘনা পেট্রোলিয়াম অয়েল লিমিটেডের একটি তেলবাহী গাড়ি ৯ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উত্তোলন করে। চালান অনুযায়ী তেলের গন্তব্য ছিল ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ বাজারে অবস্থিত ‘মেসার্স কাদের এন্টারপ্রাইজ’।

তবে সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, তেলবাহী গাড়িটি নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা শহরের থানা গেট সংলগ্ন এক ব্যবসায়ী আশরাফের দোকানে পৌঁছে যায় এবং সেখানেই পুরো তেল খালাস করা হয়।

এ বিষয়ে গাড়িচালক নাসিরুল ইসলাম জানান, চালানে যেসব গন্তব্য উল্লেখ থাকে, বাস্তবে অনেক সময় সেই অনুযায়ী সরবরাহ করা হয় না। বিভিন্ন কারণে তেল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী আশরাফের ছেলে মোহাম্মদ সুমন দাবি করেন, ‘মেসার্স কাদের এন্টারপ্রাইজ’-এর নামে উত্তোলিত তেল তারা গ্রহণ করে বিক্রি করে থাকেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মালিকানা এভিডেভিডের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তারা নিয়মিতভাবেই এভাবে তেল সংগ্রহ করছেন।

তবে অনুসন্ধানে আরও বিস্ময়কর তথ্য উঠে এসেছে। ‘মেসার্স কাদের এন্টারপ্রাইজ’ নামে যে প্রতিষ্ঠানের জন্য তেল উত্তোলন দেখানো হচ্ছে, সেটি প্রায় ৮ বছর আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে ওই স্থানে কোনো কার্যক্রম নেই, এমনকি প্রতিষ্ঠানটির কোনো অস্তিত্বও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারাও জানান, বহু বছর ধরে ওই নামে কোনো ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে না। হায়দার বলেন এরা সবাই আমেরিকার চলে গেছে বহু বছর আগে , তদন্তে আরও জানা গেছে, শুধু চলতি মাসেই এই ‘ভূতুড়ে’ প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উত্তোলন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব তেল নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে খোলা বাজারে কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে এই তেল পাচারের প্রবণতা বেশি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম ফেরদৌস বলেন, বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (বিক্রয়) আহসানুল আমিন বলেন, নির্ধারিত স্থানের বাইরে তেল সরবরাহ বা বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। মালিকানা এভিডেভিড করে হস্তান্তরের বিষয়টিও নিয়মবহির্ভূত। তবে জনবল সংকটের কারণে তদারকিতে কিছু ঘাটতি থাকতে পারে।

এ ধরনের অনিয়মের কারণে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে সাধারণ মানুষ পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে, আর লাভবান হচ্ছে একটি অসাধু চক্র।

এখন প্রশ্ন উঠছে—তদারকির দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর নজর এড়িয়ে কীভাবে এতো বড় অনিয়ম চলছে? আর কবে থামবে এই জ্বালানি তেল বাণিজ্যের অস্বচ্ছতা

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ডিপো থেকে ‘ভূতুড়ে’ প্রতিষ্ঠানের নামে তেল উত্তোলন, কালোবাজারে বিক্রি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৫১:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

সারাদেশে যখন জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক সেই সময় উত্তরাঞ্চলের পার্বতীপুর ডিপো থেকে ‘অস্তিত্বহীন’ একটি প্রতিষ্ঠানের নামে হাজার হাজার লিটার তেল উত্তোলন করে তা কালোবাজারে বিক্রির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।

গত ২৭ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপো থেকে মেঘনা পেট্রোলিয়াম অয়েল লিমিটেডের একটি তেলবাহী গাড়ি ৯ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উত্তোলন করে। চালান অনুযায়ী তেলের গন্তব্য ছিল ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ বাজারে অবস্থিত ‘মেসার্স কাদের এন্টারপ্রাইজ’।

তবে সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, তেলবাহী গাড়িটি নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা শহরের থানা গেট সংলগ্ন এক ব্যবসায়ী আশরাফের দোকানে পৌঁছে যায় এবং সেখানেই পুরো তেল খালাস করা হয়।

এ বিষয়ে গাড়িচালক নাসিরুল ইসলাম জানান, চালানে যেসব গন্তব্য উল্লেখ থাকে, বাস্তবে অনেক সময় সেই অনুযায়ী সরবরাহ করা হয় না। বিভিন্ন কারণে তেল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী আশরাফের ছেলে মোহাম্মদ সুমন দাবি করেন, ‘মেসার্স কাদের এন্টারপ্রাইজ’-এর নামে উত্তোলিত তেল তারা গ্রহণ করে বিক্রি করে থাকেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মালিকানা এভিডেভিডের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তারা নিয়মিতভাবেই এভাবে তেল সংগ্রহ করছেন।

তবে অনুসন্ধানে আরও বিস্ময়কর তথ্য উঠে এসেছে। ‘মেসার্স কাদের এন্টারপ্রাইজ’ নামে যে প্রতিষ্ঠানের জন্য তেল উত্তোলন দেখানো হচ্ছে, সেটি প্রায় ৮ বছর আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে ওই স্থানে কোনো কার্যক্রম নেই, এমনকি প্রতিষ্ঠানটির কোনো অস্তিত্বও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারাও জানান, বহু বছর ধরে ওই নামে কোনো ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে না। হায়দার বলেন এরা সবাই আমেরিকার চলে গেছে বহু বছর আগে , তদন্তে আরও জানা গেছে, শুধু চলতি মাসেই এই ‘ভূতুড়ে’ প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উত্তোলন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব তেল নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে খোলা বাজারে কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে এই তেল পাচারের প্রবণতা বেশি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম ফেরদৌস বলেন, বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (বিক্রয়) আহসানুল আমিন বলেন, নির্ধারিত স্থানের বাইরে তেল সরবরাহ বা বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। মালিকানা এভিডেভিড করে হস্তান্তরের বিষয়টিও নিয়মবহির্ভূত। তবে জনবল সংকটের কারণে তদারকিতে কিছু ঘাটতি থাকতে পারে।

এ ধরনের অনিয়মের কারণে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে সাধারণ মানুষ পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে, আর লাভবান হচ্ছে একটি অসাধু চক্র।

এখন প্রশ্ন উঠছে—তদারকির দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর নজর এড়িয়ে কীভাবে এতো বড় অনিয়ম চলছে? আর কবে থামবে এই জ্বালানি তেল বাণিজ্যের অস্বচ্ছতা