ঢাকা ১০:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অভিনেত্রীর সঙ্গে ‘প্রেমালাপ’ ম্যাক্রোঁর, দেখেই ঠাটিয়ে ‘চড়’! ১৫ বছরেই ভারত ‘এ’ দলে বৈভব সূর্যবংশী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বেরোবির নতুন ভিসির নিয়োগ বাতিল হামের বদলে জলাতঙ্কের টিকা প্রয়োগ, ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ মোংলায় নদীতে পড়ে ট্রলার চালক নিখোঁজ, ১৩ ঘণ্টায়ও মেলেনি সন্ধান হামে শিশুমৃত্যুর দায়ীদের শাস্তির দাবি ও মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে ছাত্র ফ্রন্টের বিক্ষোভ অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভর্তি সহায়তা দেবে সরকার, আবেদন শুরু বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি অধ্যাপক মামুন অর রশিদ চুরি যাওয়া ১০ লাখ টাকা ও ফোনসহ ফেনী থেকে গ্রেফতার ২ আদমদীঘিতে বসনবুড়ি খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন

মৎস্য রপ্তানিতে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি: আয় ছাড়ালো ৫ হাজার কোটি টাকা

শহিদুল ইসলাম দইচ ,যশোর
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৩৬:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬ ৯১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের মৎস্য খাতে গত কয়েক বছরে অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে দেশ প্রায় ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা আয় করেছে। বিশেষ করে হিমায়িত মাছ ও চিংড়ি রপ্তানিতে গত বছরের তুলনায় ১৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। যা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

যশোরে অনুষ্ঠিত ‘রপ্তানি বৃদ্ধিতে মাছের পোনা উৎপাদনে বৈচিত্র্যকরণ ও চাষ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় এই তথ্যসমূহ তুলে ধরা হয়। রোববার (৩ মে) যশোর জেলা মৎস্য অফিসের সভাকক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (বিপিসি) ও বাংলাদেশ নন-প্যাকার ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএনপিএফইএ) যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে।

কর্মশালায় জানানো হয়, বর্তমানে মাছ রপ্তানির একটি বিশাল অংশ দখল করে আছে পাবদা মাছ। মোট রপ্তানি হওয়া মাছের ৮৮ দশমিক ৫৫ শতাংশই পাবদা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ১ কোটি ২১ লক্ষ ৬৯ হাজার ৫২০ কেজি পাবদা মাছ বিদেশে রপ্তানি হয়েছে। পাবদা ছাড়াও ইলিশ (৩.৮৭%), টেংরা (২.৭৭%) এবং পারশে, ভেটকি ও কার্প জাতীয় মাছ রপ্তানি আয়ে বড় অবদান রাখছে।

কর্মশালায় আরো জানানো হয়, রপ্তানি আয়ের একটি বড় অংশ আসছে যশোরের বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়ে। গত অর্থবছর এই বন্দর দিয়ে ১৩ হাজার ৭৪২ মেট্রিক টন মাছ রপ্তানি হয়েছে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৪৭০ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এই বন্দর দিয়ে মূলত পাবদা, পাঙ্গাস, টেংরা ও তেলাপিয়া মাছ ভারতে রপ্তানি হচ্ছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আমদানিকৃত মাছের মূল্যের তুলনায় রপ্তানি আয়ের পরিমাণ প্রায় ৫ গুণ বেশি। ২০২২-২৩ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মৎস্য রপ্তানি প্রায় ৯৭ শত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে সহায়ক হচ্ছে।

এজন্য রপ্তানি আয় আরও বাড়াতে আধুনিক হিমাগার ও লজিস্টিক সুবিধা বৃদ্ধি করা, স্থানীয় হ্যাচারিগুলোতে বিশেষ করে পাবদা ও উন্নত জাতের পাঙ্গাসের পোনা উৎপাদন নিশ্চিত করা, একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির ওপর নির্ভর না করে অন্যান্য মাছের রপ্তানি বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক নতুন বাজার অনুসন্ধান করার উপর জোর দেয়া হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল মামুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিলের সহকারী পরিচালক পলাশ ঘোষ। প্রশিক্ষক ছিলেন যশোর সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কুমার দাস।

কর্মশালায় জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল মামুন বলেন, যশোরের মণিরামপুর, ঝিকরগাছা ও যশোর সদর উপজেলার লক্ষাধিক চাষী রপ্তানিমুখী মাছ উৎপাদনে জড়িত। তাদের উৎপাদিত মাছই রপ্তানির বড় অংশ পূরণ করছে। যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই রপ্তানি আয় আগামীতে ১০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই মৎস্য অধিদপ্তর কাজ করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মৎস্য রপ্তানিতে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি: আয় ছাড়ালো ৫ হাজার কোটি টাকা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৩৬:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

বাংলাদেশের মৎস্য খাতে গত কয়েক বছরে অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে দেশ প্রায় ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা আয় করেছে। বিশেষ করে হিমায়িত মাছ ও চিংড়ি রপ্তানিতে গত বছরের তুলনায় ১৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। যা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

যশোরে অনুষ্ঠিত ‘রপ্তানি বৃদ্ধিতে মাছের পোনা উৎপাদনে বৈচিত্র্যকরণ ও চাষ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় এই তথ্যসমূহ তুলে ধরা হয়। রোববার (৩ মে) যশোর জেলা মৎস্য অফিসের সভাকক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (বিপিসি) ও বাংলাদেশ নন-প্যাকার ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএনপিএফইএ) যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে।

কর্মশালায় জানানো হয়, বর্তমানে মাছ রপ্তানির একটি বিশাল অংশ দখল করে আছে পাবদা মাছ। মোট রপ্তানি হওয়া মাছের ৮৮ দশমিক ৫৫ শতাংশই পাবদা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ১ কোটি ২১ লক্ষ ৬৯ হাজার ৫২০ কেজি পাবদা মাছ বিদেশে রপ্তানি হয়েছে। পাবদা ছাড়াও ইলিশ (৩.৮৭%), টেংরা (২.৭৭%) এবং পারশে, ভেটকি ও কার্প জাতীয় মাছ রপ্তানি আয়ে বড় অবদান রাখছে।

কর্মশালায় আরো জানানো হয়, রপ্তানি আয়ের একটি বড় অংশ আসছে যশোরের বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়ে। গত অর্থবছর এই বন্দর দিয়ে ১৩ হাজার ৭৪২ মেট্রিক টন মাছ রপ্তানি হয়েছে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৪৭০ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এই বন্দর দিয়ে মূলত পাবদা, পাঙ্গাস, টেংরা ও তেলাপিয়া মাছ ভারতে রপ্তানি হচ্ছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আমদানিকৃত মাছের মূল্যের তুলনায় রপ্তানি আয়ের পরিমাণ প্রায় ৫ গুণ বেশি। ২০২২-২৩ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মৎস্য রপ্তানি প্রায় ৯৭ শত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে সহায়ক হচ্ছে।

এজন্য রপ্তানি আয় আরও বাড়াতে আধুনিক হিমাগার ও লজিস্টিক সুবিধা বৃদ্ধি করা, স্থানীয় হ্যাচারিগুলোতে বিশেষ করে পাবদা ও উন্নত জাতের পাঙ্গাসের পোনা উৎপাদন নিশ্চিত করা, একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির ওপর নির্ভর না করে অন্যান্য মাছের রপ্তানি বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক নতুন বাজার অনুসন্ধান করার উপর জোর দেয়া হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল মামুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিলের সহকারী পরিচালক পলাশ ঘোষ। প্রশিক্ষক ছিলেন যশোর সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কুমার দাস।

কর্মশালায় জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল মামুন বলেন, যশোরের মণিরামপুর, ঝিকরগাছা ও যশোর সদর উপজেলার লক্ষাধিক চাষী রপ্তানিমুখী মাছ উৎপাদনে জড়িত। তাদের উৎপাদিত মাছই রপ্তানির বড় অংশ পূরণ করছে। যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই রপ্তানি আয় আগামীতে ১০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই মৎস্য অধিদপ্তর কাজ করছে।