৯ মাসেই ব্যাংক ঋণ ছাড়ালো লক্ষ্যমাত্রা, বাজেটে চাপ বাড়ছে
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৫৯:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে সরকারকে ক্রমেই বেশি ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। প্রত্যাশিত রাজস্ব আদায় না হওয়ায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসেই ব্যাংকব্যবস্থা থেকে নেওয়া ঋণ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে, ফলে বাজেট ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পুরো অর্থবছরে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও মার্চ শেষে এ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে নেওয়া হয়েছে ৭৮ হাজার ৪৯ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৩০ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা। পরবর্তীতে কিছু ঋণ পরিশোধের পর মোট ঋণ প্রায় ৯৪ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
মার্চ মাসে বাড়তি ব্যয় মেটাতে সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ নেয়, যা নির্ধারিত সীমাও ছাড়িয়ে যায়। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক-কে নতুন করে অর্থ জোগান দিতে হয়। যদিও এই ঋণ দ্রুত পরিশোধ করা হয়েছে, তবুও অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন—এ ধরনের পদক্ষেপ মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
চলতি অর্থবছরে প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট বাস্তবায়ন করছে সরকার, যার বড় অংশ রাজস্ব থেকে আসার কথা। কিন্তু ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দার কারণে রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। প্রথম ৯ মাসেই প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।
সংশোধিত বাজেট অনুযায়ী, বাকি তিন মাসে বিপুল রাজস্ব আদায়ের চাপ রয়েছে। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত প্রতি মাসে গড়ে ৭১ হাজার ৭১২ কোটি টাকা আদায় করতে হবে, যা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে এপ্রিল মাসে কিছু ঋণ পরিশোধের ফলে মোট ঋণের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংক—উভয় উৎস থেকেই ঋণ কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঋণনির্ভরতা কমাতে রাজস্ব আদায় বাড়ানো, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো, বিকল্প অর্থায়নের উৎস খোঁজা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের সংস্কার জরুরি। পাশাপাশি বাজেট ঘাটতি সহনীয় পর্যায়ে রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
























