পানগুছি নদীর ট্রলার ডুবি
৯ বছরেও শেষ হয়নি অপেক্ষা, ব্রিজ না হওয়ায় দুর্ভোগ
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৫৬:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পানগুছি নদীতে ভয়াবহ ট্রলার ডুবির ঘটনার নয় বছর পেরিয়ে গেলেও সেই দুঃসহ স্মৃতি আজও তাড়া করে ফেরে স্বজনহারাদের। ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ সকালে ঘটে যাওয়া ওই দুর্ঘটনায় তিন উপজেলার ১৯ জন প্রাণ হারান।
সেদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মোরেলগঞ্জের ছোলমবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড খেয়াঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী ট্রলারটি নদীর অপর পাড়ে পৌঁছানোর আগমুহূর্তে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। জানা যায়, নৌবাহিনীর একটি জাহাজ দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় সৃষ্ট প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি উল্টে যায়। এতে ৫ শিশু, ৯ নারী ও ৫ জন পুরুষসহ মোট ১৯ জনের সলিল সমাধি ঘটে।
ট্রলারটিতে প্রায় ৮০ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে ৫১ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালায়। চার দিন পর অধিকাংশ মরদেহ উদ্ধার করা হলেও এখনও নিখোঁজ রয়েছে কাঁচিকাটা গ্রামের নাছির শেখের ছেলে নাজমুল হাসান (৬)।
ঘটনার সময় নদীর দুই পাড়জুড়ে স্বজনহারাদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছিল পরিবেশ। অনেকেই প্রিয়জনের মরদেহের খোঁজে দিন-রাত অপেক্ষা করেছেন নদীর তীরে।
এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে পানগুছি নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি থাকলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিকবার প্রকল্প অনুমোদনের কথা শোনা গেলেও অদৃশ্য কারণে তা আলোর মুখ দেখেনি।
বর্তমানে এই নদীতে ট্রলার ও ফেরির মাধ্যমে পারাপারের সময় প্রায়ই নানা সমস্যা দেখা দেয়, যা স্থানীয় জনজীবনে দুর্ভোগ ও হতাশা বাড়িয়ে তুলছে। এলাকাবাসীর দাবি, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি।





















