খতম তালিকায় হেজবোল্লা প্রধান, হামলার নির্দেশ নেতানিয়াহুর!
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৫২:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে
খামেনির পর ‘খতম তালিকায় হেজবোল্লা প্রধান নইম কাসেম।’ সোমবার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাতজ।
সূত্রের খবর, সেই মতোই এবার আইডিএফকে লেবাননে ঢুকে অপারেশন চালানোর ছাড়পত্র দিলেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাতজ জানালেন, সেনাবাহিনীকে লেবাননে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইরানের প্ররোচনায় ইসরায়েলের সীমান্ত অঞ্চলে গোলবর্ষণ করছে হেজবোল্লা। এর জন্য চরম শাস্তি পেতে হবে ওদের।
এদিন কাতজ জানান তিনি এবং নেতানিয়াহু “ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর উপর হেজবোল্লার গুলিবর্ষণ রোধ করতে আইডিএফকে লেবাননের অগ্রসর হতে এবং প্রয়োজনে এলাকা দখলের নির্দেশ দিয়েছেন”। যোগ করেন, ইতিমধ্যে হেজবোল্লার ঘাঁটিগুলিতে অভিযান চালাতে শুরু করেছে আইডিএফ। প্ররোচনাহীন ভাবে ইজরায়েলে হামলা চালানোর কারণে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে ওদের।
একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলিতে লেবাননের রাজধানী বেইরুটে ইজরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সংবাদ, ছবি, ভিডিও সামনে এসেছে। হেজবোল্লার আল-মানার টিভি এবং আল-নৌর রেডিও সেন্টারে হামলা হয়েছে বলে খবর। এদিকে ইরানকে প্রায় কাবু করে ফেলার স্থলপথে হামলা চালাবে কি ইজরায়েল? আইডিএফের বক্তব্য, এই ভাবনা অবাস্তব। আপাতত এমন কোনও ভাবনা নেই সেনার।
সোমবার ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাতজে বলেন, “ইসরায়েলে হামলা চালানোর জন্য সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হেজবোল্লাকে চরম মূল্য চোকাতে হবে। ইরানের প্ররোচনায় হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হেজবোল্লা মহাসচিব নইম কাসেম। ও এখন আমাদের খতম তালিকায় রয়েছে। খুব শিগগির ওকে নিকেশ করা হবে।” পাশাপাশি ইরানকে কাতজের হুঁশিয়ারি, “যে বা যারা খামেইনির পথ অনুসরণ করবে, তাদের একই পরিণতি হবে। শীঘ্রই নিজেকে মন্দ অক্ষের অন্য নেতাদের সঙ্গে নরকে দেখতে পাবে। নরকে ঠাঁই হবে।”
ইরানের সরকারি টিভি চ্যানেল হ্যাক! নেতানিয়াহু-ট্রাম্পের ভাষণ সম্প্রচার
ইরানকে নিয়ে কার্যত ছিনিমিনি খেলছে আমেরিকা ও ইসরায়েল। মারণ হামলা চালিয়ে ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা খামেনেইকে হত্যা করা হয়েছে আগেই। এবার দেশটির সরকারি সম্প্রচার সংস্থা IRIB-র সদর দপ্তরে হামলা চালানোর পাশাপাশি টিভি চ্যানেল হ্যাক করে সেখানে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ভাষণ সম্প্রচার করল গুপ্তচর সংস্থা ‘মোসাদ’। ভাষণ শোনা গেল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও।
সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত রবিবার আমেরিকা ও ইসরায়েল শুধু তেহরানের সংবাদমাধ্যমের উপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়নি, সেই সঙ্গে সরকারি টিভি চ্যানেলগুলি হ্যাক করা হয়। এরপর সেখানে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তৃতা প্রচার করা হয়। গোটা ইরানজুড়ে সেই ভাষণ সম্প্রচার হচ্ছিল।
ইসরায়েলের তরফে জানানো হয়েছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস তেহরানে সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম IRIB-কে ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখছিল। হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করা হয়েছে। গত কয়েক বছর এই সংবাদমাধ্যম কর্তৃপক্ষ ইজরায়েলকে ধ্বংস করতে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের উসকানি দিচ্ছিল।
ভূমিকম্পে কাঁপল যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানে সেখানে এবার প্রকৃতিও রুষ্ট! কেঁপে উঠল মাটি। জানা গেছে, ভূমিকম্পের মাত্রা ৪.৩। কোনও ক্ষয়ক্ষতির কথা জানা না গেলেও আচমকাই এমন কম্পনে আরও বাড়ল আতঙ্ক। সেই সঙ্গে গুঞ্জন, সত্যিই প্রকৃতির রোষ… নাকি মার্কিন ‘সিসমিক বম্ব’? পরমাণু কেন্দ্রে হামলার আশঙ্কাও বাদ যাচ্ছে না। যা পরিস্থিতি, তাতে বিরোধীপক্ষের চক্রান্তের দিকটিকে সত্যিই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যেহেতু সবে মাত্র বিস্ফোরণের কথা জানা গিয়েছে, তাই নানা শঙ্কার মেঘ ঘনাচ্ছে প্রাথমিক ভাবে।
জানা গেছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূ-পৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সংস্থা ইউএসজিএসের তরফে এমনটাই জানানো হয়েছে।
যদিও ইরানের ওই অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ, তাই এখানে এমন কম্পন কোনও অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। কিন্তু এখন পরিস্থিতি এতই বিপজ্জনক, নানা গুঞ্জন ভাসছে। ওযাকিবহাল মহলের একাংশের মতে, হতেই পারে মাটির নিচে আঘাত করতে সক্ষম মার্কিন ‘ভূমিকম্প বোমা’ আছড়ে পড়েছে। কারও মতে, ভূগর্ভস্থ সামরিক কাঠামোতে আঘাত হানার আশঙ্কাও রয়েছে। পাশাপাশি পরমাণু কেন্দ্রে হামলার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে কারণ যাই হোক, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এমন প্রাকৃতিক বিপর্যয়েও ইরানের উপর চাপ যে আরও বাড়ল তাতে সন্দেহ নেই। যদিও আপাত ভাবে কম্পনের মাত্রা খুব বেশি না হওয়ায় কোনও বাড়তি ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হয়নি।
উল্লেখ্য, শনিবার ইরানে হামলা চালায় ইসরায়েল ও আমেরিকা। সেই হামলাতেই মৃত্যু হয় ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের। আর এর পরই ইজরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে বেপরোয়া হামলা শুরু করে তেহরান। দুপুরের পর দুবাইয়ের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। পাম জুমেইরাহ এলাকায় বিস্ফোরণের কথা নিশ্চিত করেছে সে দেশের প্রশাসন। শুধু তা-ই নয়, বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ইমারত বুর্জ খলিফার কাছেও একাধিক বিস্ফোরণ হয়েছে বলে জানা যায়। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে শনিবারই খালি করে দেওয়া হয় বুর্জ খলিফা। রবিবারও হামলা থামেনি।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, আবুধাবিতে একটি নৌসেনা ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও, কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এহেন পরিস্থিতির মাঝেই এবার ইরানকে সতর্ক করেছে আমিরশাহী। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, হুঁশে ফিরুন। আপনার যুদ্ধ সম্পূর্ণ আপনার। প্রতিবেশীদের সঙ্গে নয়।























