ঢাকা ০৬:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই উৎপাদন, কারখানাকে লাখ টাকা জরিমানা

রুবেল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৩৫:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঈদকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ে সেমাই কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যস্ততা বেড়েছে। তবে এই সুযোগে কিছু অসাধু মালিক স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে সেমাই তৈরি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। প্রশাসন জানিয়েছে, অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনকি কারখানা সিলগালাও করা হতে পারে।

সরেজমিনে দেখা যায়, লাচ্ছা ও সাদা সেমাই তৈরি হচ্ছে নোংরা পরিবেশে। উৎপাদনের পর দ্রুত প্যাকেটজাত করা হচ্ছে লাচ্ছা সেমাই। অন্যদিকে সাদা সেমাই খোলা আকাশের নিচে শুকাতে রাখা হয়েছে। সেখানে ধুলাবালির পাশাপাশি পোকামাকড়ের বিচরণ লক্ষ্য করা গেছে।

এমন চিত্র মিলেছে জেলা সদরের রহিমানপুর ইউনিয়নে অবস্থিত ‘আদুরী গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ’ কারখানায়। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি অভিযান চালিয়ে প্রশাসন প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করে। কিন্তু স্থানীয়দের দাবি, জরিমানার পরও আগের মতোই অনিয়ম চলছে। এতে বাজারে যাওয়া প্যাকেটজাত সেমাই খেয়ে ভোক্তারা ক্ষতির শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা বলেন, শুধু জরিমানা করলেই হবে না, প্রয়োজনে কারখানা সিলগালা করতে হবে। জেলার সব সেমাই কারখানায় নিয়মিত তদারকি ও অভিযান পরিচালনার দাবি জানান তারা। অভিযোগ রয়েছে, কারখানার শ্রমিকদেরও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী নেই। পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবেই এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

এ বিষয়ে আদুরী গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ম্যানেজার ওসমান আলী পলাশ বলেন, “সামান্য ত্রুটি থাকতে পারে। আমরা ভালো পরিবেশে উৎপাদনের চেষ্টা করছি।”

জেলা নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মাহমুদুল কবির জানান, ২৫ ফেব্রুয়ারি আদুরী ফুডকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও অনিয়ম চললে কারখানা সিলগালার সুপারিশ করা হবে এবং বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম বলেন, “জেলার প্রতিটি কারখানায় অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভোক্তারা যাতে নিরাপদ খাদ্য পান, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।”

জেলা ব্যবসায়ী সমিতির তথ্যমতে, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় অন্তত ২০টির বেশি সেমাই কারখানা রয়েছে। প্রতিটি কারখানায় গড়ে দৈনিক ১০ মণের বেশি বিভিন্ন ধরনের সেমাই উৎপাদন হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই উৎপাদন, কারখানাকে লাখ টাকা জরিমানা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৩৫:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

ঈদকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ে সেমাই কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যস্ততা বেড়েছে। তবে এই সুযোগে কিছু অসাধু মালিক স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে সেমাই তৈরি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। প্রশাসন জানিয়েছে, অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনকি কারখানা সিলগালাও করা হতে পারে।

সরেজমিনে দেখা যায়, লাচ্ছা ও সাদা সেমাই তৈরি হচ্ছে নোংরা পরিবেশে। উৎপাদনের পর দ্রুত প্যাকেটজাত করা হচ্ছে লাচ্ছা সেমাই। অন্যদিকে সাদা সেমাই খোলা আকাশের নিচে শুকাতে রাখা হয়েছে। সেখানে ধুলাবালির পাশাপাশি পোকামাকড়ের বিচরণ লক্ষ্য করা গেছে।

এমন চিত্র মিলেছে জেলা সদরের রহিমানপুর ইউনিয়নে অবস্থিত ‘আদুরী গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ’ কারখানায়। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি অভিযান চালিয়ে প্রশাসন প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করে। কিন্তু স্থানীয়দের দাবি, জরিমানার পরও আগের মতোই অনিয়ম চলছে। এতে বাজারে যাওয়া প্যাকেটজাত সেমাই খেয়ে ভোক্তারা ক্ষতির শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা বলেন, শুধু জরিমানা করলেই হবে না, প্রয়োজনে কারখানা সিলগালা করতে হবে। জেলার সব সেমাই কারখানায় নিয়মিত তদারকি ও অভিযান পরিচালনার দাবি জানান তারা। অভিযোগ রয়েছে, কারখানার শ্রমিকদেরও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী নেই। পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবেই এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

এ বিষয়ে আদুরী গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ম্যানেজার ওসমান আলী পলাশ বলেন, “সামান্য ত্রুটি থাকতে পারে। আমরা ভালো পরিবেশে উৎপাদনের চেষ্টা করছি।”

জেলা নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মাহমুদুল কবির জানান, ২৫ ফেব্রুয়ারি আদুরী ফুডকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও অনিয়ম চললে কারখানা সিলগালার সুপারিশ করা হবে এবং বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম বলেন, “জেলার প্রতিটি কারখানায় অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভোক্তারা যাতে নিরাপদ খাদ্য পান, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।”

জেলা ব্যবসায়ী সমিতির তথ্যমতে, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় অন্তত ২০টির বেশি সেমাই কারখানা রয়েছে। প্রতিটি কারখানায় গড়ে দৈনিক ১০ মণের বেশি বিভিন্ন ধরনের সেমাই উৎপাদন হয়।